মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভ, জার্মানির গুইডো ভেস্টারভেলে, ফ্রান্সের লঁরা ফ্যাবিয়াস, চীনের ওয়াং য়ি ও ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ বৈঠতে অংশগ্রহণ করেন। ছয় জাতির পক্ষে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাশটন।ইরানের পক্ষে আলোচনায় প্রতিনিধিত্ব করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ।

গত চার দিনেরও বেশি সময় ধরে দফায় দফায় আলোচনা ইরানের সাথে আলোচনা করে বিশ্বের ছয় শক্তিধর দেশ। শেষদিনে টানা ১৭ ঘন্টা টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে বৈঠক চলে। ভোর চারটার দিকে পাওয়া সংবাদে জানা যায় যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তি একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরেছে। এ বিষয়ে রাশিয়ার গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জানিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভ। তিনি বলেন, “ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘ ও জটিল একটি বৈঠক শেষ হয়েছে। অনেক বছর যোগাযোগ বজায় রাখার কারণে এবারের এই বৈঠকে যে সিদ্ধান্তে আমরা আসতে পেরেছে সেখানে অগ্রসর ও পিছু হাটা দুটিই রয়েছে। ঐক্যমতে পৌঁছানোর মূল বিষয়বস্তু রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পূর্বে দেয়া প্রস্তাব ও আমাদের পররাষ্ট্রনীতির নীতিকে সমর্থন করছে।“

আপাতত এই সমঝোতাকে প্রথম ধাপ বলা হচ্ছে। মূল চুক্তিপত্র তৈরী করতে হয়তবা আরও একবছর অপেক্ষা করতে হবে। তবে এখন থেকে ইরান শান্তিপূর্ণ কাজে নিজেদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করতে পারবে। এবার সমঝোতার মধ্য দিয়ে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ল্যাভরোভ। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সমঝোতা থেকে এটাই বলা হচ্ছে যে, শান্তিপূর্ণভাবে পরমাণু প্রকল্প ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছে ইরান। এরমধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বিষয়টিও রয়েছে। মূলকথা হচ্ছে, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে যেসব প্রশ্ন ছিল তা থেকে সরে আসবে তেহরান।ইরানের প্রতিটি পরমাণু প্রকল্পে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার(আইএইএ)পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। এটি হচ্ছে সর্বশেষ উদ্দেশ্য এবং আজকের নথিপত্রে তা উল্লেখ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে এই প্রক্রিয়ার প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ করতে ছয়মাস সময় লাগতে পারে। এই ছয়মাস ইরান নিজেদের সব পারমানবিক প্রকল্পের কাজ স্থগিত রাখবে। ইরানের আরাক শহরে যে বিশাল পানির জলাধার রয়েছে যা কিনা পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনে ব্যবহার করা হয় সেটিও আপাতত বন্ধ রাখতে হবে। ইরানের প্রতিটি পরমাণু প্রকল্প যা বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার(আইএইএ) পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তা আগামী ছয়মাস ওই সংস্থার অধীনে বহাল থাকবে।“

ইরানের সাথে ছয়জাতির সমঝোতা তা হয়তো জেনেভা-২ শান্তি সম্মেলনে ইরানের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা অনেকাংশে বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভ।