“এই পরিস্থিতির নাটকীয়তা সেই পরিস্থিতি তৈরী করে দিয়েছে, যা ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটেছে, যখন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতে একটা সিদ্ধান্ত মূলক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন পড়েছে: নব নির্বাচিত পার্লামেন্টকে এবারে স্থায়ী সংবিধান গ্রহণ করতে হবে. যদি সেই বাস্তবকে দেখা হয় যে, নিজের এলাকাতে প্রার্থী হয়ে প্রচণ্ড, যিনি বহুকাল ধরেই দেশের রাজতন্ত্রের সঙ্গে লড়াইয়ে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছেন, তিনি এমনকি নিজেই হেরে গিয়েছেন, তবে খুবই কঠিন হবে অনুমান করতে যে, এবারে মাওবাদীরা কি করে তাদের যত্সামান্য প্রতিনিধিত্ব নিয়ে নতুন সংবিধান গ্রহণের বিষয়ে প্রভাব ফেলতে পারবে”.

সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, এই পরিস্থিতিই ব্যাখ্যা করে দিয়েছে, কেন তারা এত প্রবল ভাবে নির্বাচনের ফলাফলকে অস্বীকার করছে. প্রচণ্ড এমনকি আহ্বান করেছিলেন দেশের নির্বাচন কমিশনকে ভোট গণনা বন্ধ করতে. আর মাওবাদীদের নেতাকে এই দাবী মানা হবে না বলে বলা হয়েছে, তাঁর পক্ষের লোকরা প্রতিবাদ করার জন্য কাঠমান্ডু শহরে মাওবাদীদের সদর দপ্তরের কাছে গণ মিছিল করেছে.

কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিমি কার্টারের ঘোষণা মাওবাদীদের উত্তেজিত কর্ণকুহরে শীতল বারির সঞ্চার করেছে, তিনি এখানে নির্বাচনের সময়ে বিদেশী পর্যবেক্ষকদের দলের নেতৃত্ব দিতে এসেছেন ও পরে বলেছেন যে, নির্বাচন অবাধ, সত্ ও সুষ্ঠু ভাবেই সম্পন্ন হয়েছে, আর তা স্বচ্ছও ছিল, এর অর্থ হল যে, প্রচণ্ডের সমর্থকদের অসন্তুষ্ট হওয়ার কোন কারণ থাকা উচিত্ নয়.

প্রসঙ্গতঃ, তাদের মধ্যে কিছু লোক আবার নিজেদের নেতার চেয়েও এক কাঠি বেশী এগিয়ে গিয়েছে, আর তারা ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে, আবার লড়াই করতে তৈরী. এই রকমের পরিস্থিতি নেপালের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন না করে পারে না, যারা নিজেদের গণতন্ত্রের দিকে প্রগতির পথে একাধিকবার পথ হারিয়েছে, এটাই বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন সের্গেই তোমিন, তিনি বলেছেন:

“আসলে বর্তমানের নির্বাচনে হেরে যাওয়ার জন্য মাওবাদীদের উচিত্ হবে নিজেদের দোষ দেওয়া. প্রায় দশক ধরে সশস্ত্র সংগ্রামের পথ ছেড়ে তারা ২০০৬ সালে রাজনৈতিক প্রক্রিয়াতে যোগ দিয়েছিল. তারা সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, আশা করেছিল নেপালের রাজনৈতিক শীর্ষে তাদের জায়গা আপনা হতেই এবারে অটল রয়ে যাবে. নিজেদের ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়কে তারা ধরে নিয়েছিল সেই ব্যাপারেই একটা প্রমাণ বলে, আর ঠিক করেছিল তারপর থেকে রাজনৈতিক খেলার নিয়ম তারাই তৈরী করবে.

কিন্তু নির্বাচকদের বিশ্বাসের পূঁজি অকারনেই নষ্ট করা হয়েছে. বিগত বছর গুলোতে নেপালে ক্ষমতার জন্য অনন্ত সময় ধরে চলতে থাকা লড়াইতে – সমস্ত রাজনৈতিক দলই চেষ্টা করেছে নিজেদের গায়ে বেশী করে কম্বল ঢাকা দিতে আর একে অন্যের সাথে নেতৃত্বের জন্য লড়াই করেছে. এই প্রসঙ্গে দুর্নীতি সংক্রান্ত স্ক্যান্ডাল নির্বাচকদের প্রশাসনের উপরে বিশ্বাস নষ্ট করে দিয়েছে. শেষমেষ, সাংবিধানিক সভা যা ২০০৮ সালে আগের বারে গঠিত হয়েছিল, তারা নতুন সংবিধানের উপরে কাজই শেষ করতে পারে নি. এবারে এই কাজ করতে বাধ্য হবে নতুন পার্লামেন্ট, যাতে মাওবাদীরা আর প্রাথমিক সুর তুলবে না”.

নেপালে আরও একটি পার্লামেন্ট নির্বাচন দেশকে আবার করে নতুন রাজনৈতিক সঙ্কটের সামনে ফেলে দিয়েছে. বর্তমানে হওয়া পরিস্থিতিতে দেশ আবার করে ঐতিহাসিক চৌরাস্তার মোড়ে উপস্থিত হতে চলেছে. এই প্রসঙ্গে আবার প্রধান প্রশ্ন উদয় হয়েছে সেই বিষয় নিয়ে যে, নেপালের মাওবাদীরা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার কাঠামোর মধ্যে থাকতে পারবে কি না, নিজেদের পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন নির্বাচনের সময়ে আবার আরও বেশী অভিজ্ঞ এক রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে উপস্থিত হতে পারবে কি না. অথবা তাদের সমর্থকরা নিজেদের অধৈর্য অবস্থাই দেখাবে, কোন ভাবেই কয়েক বছরের জন্য অপেক্ষা করবে না আর আবার করে নৌকাকে টলিয়ে দিতে চাইবে. আজকে বাজী রয়েছে – শুধু নতুন পার্লামেন্টে আসনই নয়, বরং নেপালের নবীন গণতন্ত্রের ভাগ্যও.