ভবিষ্যতের সংবাদ মাধ্যম আজ জন্ম নিচ্ছে – এই ধরনের একটা স্লোগান নিয়ে ও এই কংগ্রেস মস্কো শহরে শুরু হয়েছিল. এখানে নানা রকমের বক্তৃতা, আলোচনা সভা ও গুণী ব্যক্তিদের নিজস্ব পাঠের ক্লাস ছাড়া করা হয়েছে নানা রকমের পেশাদার যন্ত্রপাতির প্রদর্শনীও. টেলিভিশন, রেডিও এবং ইন্টারনেট প্রচারের উপযুক্ত চলমান রেডিও টেলিভিশন স্টুডিও, পেশাদারের ক্যামেরা, যার আয়তন এবারে ছবি তোলা যাদের শুধুমাত্র হবি, তাদেরই মত হয়েছে, প্রায় সমস্ত রকমের প্রচারের প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করার মতো যন্ত্রপাতি ইত্যাদি এখানে রাশিয়া ও বিদেশ থেকে আসা সমস্ত নেতৃস্থানীয় উত্পাদক কোম্পানীরা দেখিয়েছেন.

কিন্তু যে কোন নতুন ধরনের প্রযুক্তি – এটা শুধু ইতিমধ্যেই তৈরী হয়ে যাওয়া তথ্য পরিবেশনের নতুন একটা কৌশল মাত্র. আর তারা মোটেও ঠিক করে দেবে না যে, আগামী কয়েক বছর পরে সংবাদ মাধ্যম কি রকমের হতে চলেছে. এখানে শেষ কথা বলবে মিডিয়া থেকে উত্পন্ন জিনিষ যারা ব্যবহার করবে তারাই, এই কথা সম্মেলনের সময়ে উল্লেখ করে রেডিও রাশিয়া কোম্পানীর চেয়ারম্যান আন্দ্রেই বিস্ত্রিত্সস্কি বলেছেন:

“মিডিয়া বিপ্লব শেষ হয়েছে, আর তা অনেকদিন আগেই. নতুন মিডিয়া ক্ষেত্রের সমস্ত অংশই তৈরী হয়ে গিয়েছে. এখন সকলকেই সকলের সঙ্গে সংযুক্ত করার মতো সম্ভাবনা রয়েছে. ডিজিট্যাল প্রযুক্তি রয়েছে. এখানে টেলিভিশন ও ইন্টারনেটের মধ্যে তফাত হল – যত না সিগন্যাল পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমের মধ্যে, তার চেয়েও বেশী করে গ্রাহকদের অভ্যাসের মধ্যে. আর তার ফলে প্রায় সেটাই ঘটেছে, যা হয়েছে বিমান নির্মাণের ক্ষেত্রে. সেই সমস্ত বিমান, যা গত শতকের ষাটের দশকে উড়তো, তা কিন্তু দ্রুতগামী হওয়া বা আরামের ব্যাপারে আজকে যে সমস্ত নতুন বিমান উড়ছে, তার চেয়ে খুব একটা খারাপ ছিল না. পরবর্তী কালে মিডিয়া ক্ষেত্রে উন্নতিকে মিডিয়া ও যোগাযোগ প্রক্রিয়ার অংশীদারদের প্রয়োজনই নিয়ন্ত্রণ করবে, কোন প্রযুক্তি নয়. আর সমস্ত প্রযুক্তিই এর মধ্যে ভেবে বার করা হয়ে গিয়েছে”.

ভবিষ্যতের সংবাদ মাধ্যম সম্বন্ধে বলতে গিয়ে এই সম্মেলনে যাঁরা অংশ নিয়েছেন, তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, খুব সম্ভবতঃ, আসন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের সংবাদ মাধ্যমের মধ্যে সীমান্ত অস্পষ্ট হয়ে যাবে. মাল্টিমীডিয়া গ্রাহকের মূল মনোযোগ জয় করতে সক্ষম হবে. কারণ তা সম্ভব করে দেবে কি ভাবে প্রথমতঃ কি দেখা হবে, তা বেছে নেওয়ার ও দ্বিতীয়তঃ একই সঙ্গে গ্রাহকই ঠিক করতে পারবেন, কোন ক্যামেরা থেকে কি ধরনের ছবি ও কোন গ্যালারির শব্দ দিয়ে তাঁর পছন্দের খেলাধূলার অনুষ্ঠান তিনি দেখতে পারেন,.

আর ইন্টারনেটের মাধ্যম খুবই গুরুতর পরিবর্তনের সম্মুখীণ হতে চলেছে, প্রাথমিক ভাবে তথ্যের উপরে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে, এই রকম মনে করে আন্দ্রেই বিস্ত্রিত্সস্কি বলেছেন:

“খুব সম্ভবতঃ, আর এটাই বিগত সময়ের ঘটনা পরম্পরা দেখিয়ে দিয়েছে যে, রাষ্ট্রের ভূমিকা ও জাতীয় নিয়ন্ত্রকদের ভূমিকা সারা বিশ্বেই শুধু বাড়তে থাকবে. খুব বেশী রকম সম্ভাব্য বলেই জোর দিয়ে বলা যেতে পারে যে, বিভিন্ন দেশ এই নিয়ে ব্যবস্থা নেবে, যাতে ঐক্যবদ্ধ ইন্টারনেট ক্ষেত্রকে টুকরো করে দেওয়া যেতে পারে, একটা নিজে থেকেই নিজেকে আটকে রাখার চেষ্টা হবে. প্রসঙ্গতঃ এই সব ঘটনার ক্ষেত্রে শুরুর দিকে বরাত বেশী করে দেবে সেই ইউরোপের দেশগুলোই. আমি মনে করি যে, আগামী কয়েক বছরে বিশ্বের ব্যুরোক্র্যাসী চেষ্টা করবে একটা রাষ্ট্রের চেয়ে বেশী ওপরে থাকা সংস্থা তৈরী করার, নতুন তথ্য ও মিডিয়া যোগাযোগ ব্যবস্থার উপরে নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টিকোণ থেকেই”.

জাতীয় টেলি-রেডিও সম্প্রচার অ্যাশোসিয়েশনের সপ্তদশ কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত তৈরী হয়ে যাবে খুবই আসন্ন সময়ে. কিন্তু এখনই বলা যেতে পারে যে, এই সাক্ষাত্কার খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমগুলোর কর্মীদের এই ক্ষেত্রে চালু প্রক্রিয়াগুলো নিয়ে ভাবার জন্য. এখানে দেখানো হয়েছে সর্বাধুনিক মিডিয়া প্রযুক্তি ও নির্ণয় করা হয়েছে মিডিয়ার প্রগতির নীতিগত ভাবে পথ গুলিকেই.