এরই মধ্যে “রেডিও রাশিয়াকে” দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে সিরিয়ার জাতীয় সভার প্রতিনিধি ও জাতীয় জোটের তথ্য সম্প্রচার বিভাগের কর্মী আখমাদ ক্যামেল জোর দিয়ে বলতে পারেন নি যে, এই সাক্ষাত্কার সত্যই হতে চলেছে. তিনি বলেছেন:

“আমি আপাততঃ এই সাক্ষাত্কার নিয়ে যেমন জোর দিয়ে হবেই, তেমনই হবে নাও বলতে পারছি না. কিন্তু আমি সমর্থন করি যে, বর্তমানের পরিস্থিতিতে রাশিয়ার অবস্থান সম্বন্ধে চোখ বুজে থাকাও যায় না. কেউই সিরিয়াতে বা তার চারপাশ জুড়ে যে সমস্ত প্রক্রিয়া চলছে, তার বাইরে বের করে দিতে চাইছে না, যদিও আমাদের মতে মস্কোতে এই পরিস্থিতিকে সঠিক ভাবে মূল্যায়ণ করা হচ্ছে না. আমাদের কাজ হল রাশিয়ার নেতৃত্বকে আমাদের দৃষ্টিকোণ ও আমাদের তরফ থেকে এই সমস্যাকে কি ভাবে দেখা হয়েছে, তা বোঝানো”.

যদি সের্গেই লাভরভ ও আখমাদ ঝারবার দেখা হয়, তবে মনে করা যেতে পারে যে, আলোচনার মুখ্য বিষয়বস্তু হবে জেনেভা- ২ এর প্রস্তুতি. জানাই আছে যে, এর আগে জাতীয় জোটের পক্ষ থেকে এই সম্মেলনে যোগদানের বিষয়ে নীতিগত ভাবে সম্মতি জানানো হয়েছিল. এরই মধ্যে রাশিয়া ও প্রবাসী বিরোধী পক্ষ এই প্রশ্নে অবস্থানে আলাদা হয়েই রয়েছে. অংশতঃ, মস্কোতে মনে করা হয় যে, জেনেভা-২ সম্মেলন কোন রকমের আগাম শর্ত ছাড়াই হওয়া উচিত্. আর নিজেদের পক্ষ থেকে জাতীয় জোট বলে চলেছে যে, তাদের রাষ্ট্রপতি আসাদের পদত্যাগের দাবী এটা অন্তর্বর্তীকালীণ সরকার গঠনের জন্য কোন শর্তই নয় বরং একটা যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত.

অর্থাত্ সের্গেই লাভরভ ও আখমাদ ঝারবার বিতর্কের বিষয়বস্তু রয়েছে, - এই কথা উল্লেখ করে ভূ-রাজনৈতিক সমস্যা একাডেমীর সভাপতি লিওনিদ ইভাশভ বলেছেন:

“সত্যি করে বলতে হলে, এই ধরনের সাক্ষাত্কার প্রথমে মনে হতে পারে কিছুটা অদ্ভুত রকমের. তাও রাশিয়ার পক্ষ হয়ে কথা বলবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ আর তাঁর বাক্যালাপের সঙ্গী হবেন কোন এক সংগঠনের সদস্য, যারা নিজেরাই নিজেদের উপরে সিরিয়ার সমস্ত লোকের পক্ষ থেকে কথা বলার দায়িত্বভার ন্যস্ত করেছে. কিন্তু রাশিয়া এই ব্যাপারকেও মেনে নিয়েছে, কারণ আমাদের দেশ সত্যই জেনেভা-২ সম্মেলন করার জন্য চেষ্টা করে চলেছে. যদি ঝারবা মস্কো আসে, লাভরভ মনে করা যেতে পারে যে, চেষ্টা করবেন, তাকে সিরিয়ার সঙ্কট নিরসনের জন্য কোন একটা গঠনমূলক উপায়ের কথা বোঝাতে. এখানে কথা হচ্ছে কম করে হলেও সশস্ত্র সংঘর্ষের পথ ত্যাগ করার. যদি ঝারবা কোন না কোন অজুহাত দিয়ে না আসে, তবে এটা দেখিয়ে দেবে যে, তথাকথিত জাতীয় কোয়ালিশনের দল – এটা একটা গুণ্ডাদের জোট, যারা আলোচনার উপযুক্ত নয় আর যাদের সঙ্কট নিরসনের জন্য কোনও লক্ষ্য নেই”.

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, লাভরভ ও ঝারবার সাক্ষাত্কার থেকে কোন রকমের উন্নতির আশা করা বোধহয় ঠিক হবে না. কিন্তু যদি তা হয়, তবে এটা হবে একটা ইতিবাচক লক্ষণ, কারণ কয়েকমাস আগেও এই ধরনের সাক্ষাত্কার করার ধারণা এমনকি কোথাও কথাতেও ওঠে নি. সুতরাং, সিরিয়ার সঙ্কট ধীরে হলেও একটা রাজনৈতিক দরাদরির পর্যায়ে উপনীত হচ্ছে. সমস্ত ক্রীড়নকরাই এবারে মনে হচ্ছে জেনেভা-২ এর প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হচ্ছে. কিন্তু তাদের এই ব্যাপারে অবস্থান আলাদাই রয়ে গিয়েছে. তাই পক্ষদের, দেখাই যাচ্ছে যে, এবারে ছাড় ও সমঝোতার প্রশ্ন নিয়ে ভাবতে হবে. কিন্তু যেমন করে সের্গেই লাভরভ উল্লেখ করেছেন যে, “যদি একেবারে আদর্শ পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করতে হয়, তবে এই সম্মেলন কোনদিনই জড়ো হবে না”.

যদিও বিশেষজ্ঞরা যেমন উল্লেখ করেছেন যে, সবচেয়ে চরমপন্থী মানসিকতার সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের জন্য বোধহয়, সেই ধরনের পরিস্থিতিই সবচেয়ে ভাল.