তাঁর সম্পূর্ণ নাম – মুহাম্মেদ আলি গাজী কাসীম ওগলী কাজেমবেক. তিনি ১৮০২ সালে বর্তমানের ইরানের এলাকায় থাকা রেশ্ত নামের জায়গায় জন্মেছিলেন.

১৮ বছর বয়সে দাগেস্তানের দেরবেন্ত শহরে, যেখানে তাঁর পিতা শেখ-উল-ইসলামের জন্ম হয়েছিল, তিনি বিখ্যাত হয়েছিলেন, তাঁর আরবী ও পারসী ভাষায় লেখা বইয়ের জন্যই.

কাজানের সঙ্গে কাজেমবেক তাঁর জীবনের ২৩ বছর যুক্ত করেছিলেন (বর্তমানে তাতারস্থান রাজ্যের রাজধানী), যেখানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে তুর্কী- তাতার ভাষার বিভাগীয় প্রধান ছিলেন. তার মধ্যে আবার তিনি সেখানে আরব, তুর্কী, পারসী ও তাতার ভাষা পড়াতেন. বলা হয়ে থাকে যে, কাজেমবেক নিজে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের পরীক্ষা দেওয়ার জন্য লেভ তলস্তয়কেই তুর্কী ও আরব ভাষা পড়িয়ে ছিলেন, যিনি পরে বিশ্ব বিখ্যাত রুশ লেখক বলে স্বীকৃতী পেয়েছিলেন.

২১শে নভেম্বর কাজান শহরে কাজেমবেক স্মরণে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে. তাতে তুরস্ক, আজারবাইজান, ফ্রান্স, কানাডা থেকে বিজ্ঞানীরা এসেছেন, যাঁরা প্রখ্যাত রাশিয়া বাসী প্রাচ্য বিশারদের উত্তরাধিকার নিয়েই কাজ করছেন, এই কথা “রেডিও রাশিয়ার” সাংবাদিক প্রতিনিধিকে এক সাক্ষাত্কারে জানিয়েছেন ইতিহাসে ডক্টরেট রামিল ভালেয়েভ, তিনি বলেছেন:

“কাজেমবেক, রাশিয়া, ইরান, তুরস্ক ও আজারবাইজানের জন্য খুবই কাছের লোক. এটা এমন এক ব্যক্তিত্ব, যা শুধু আরবী, প্রাচ্য বিশেষজ্ঞ, ইরান বিশেষজ্ঞ বৈজ্ঞানিক মহলকেই নয়, বরং মানুষদেরই এক করেছে. তিনি নিজেরই আদর্শ ও প্রসারিত সমাজের কাছে প্রকাশিত ধারণার খুব কাছেই আসতে পেরেছেন. তিনি রুশ প্রাচ্য বিদ্যার এক ভিত্তি স্থাপক, তাঁকে আমাদের দেশে প্রাচ্য অনুসন্ধান বিষয়ের স্থপতি বলা হয়ে থাকে. ১৮২৬ থেকে ১৮৪৯ সাল তিনি আমাদের কাজান শহরের বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার সময়ে আরব, ইরান ও তুরস্কের বিষয়ে গবেষণার জন্য প্রধান দিকগুলিকে নির্ণয় করে দিয়েছিলেন, তাছাড়া ওসমান, স্লাভনিক ও তুর্কী জনগনের ইতিহাসের প্রধান গবেষণার পথও নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন. তিনি যেমন সংস্কৃতির সাম্যের পক্ষপাতী ছিলেন, তেমনই রাশিয়ার রাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রাচ্যের সংস্কৃতির সংজ্ঞার কথাও বলেছেন”.

কাজানের প্রাচ্য বিশারদরা সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরের প্রাচ্য বিশারদদের সঙ্গে একসাথে এই সম্মেলন করছেন, যে শহরে কাজেমবেক তাঁর জীবনের ২১ বছর কাটিয়েছেন.

১৮৪৯ সালের নভেম্বর মাসে তিনি সেন্ট পিটার্সবার্গের পারসী ভাষার বিভাগে উদয় হয়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন. পরে এখানের এক প্রফেসর লিখেছিলেন: “ইনি বর্তমানে একজন সবচেয়ে চমত্কার ব্যক্তিত্ব, আর তা শুধু আমাদের জন্যই নয়, বরং সমগ্র এশিয়া ও সম্পূর্ণ ইউরোপেও. একজন এশিয়া বাসী, যাঁর খুবই গভীর করে ইসলামের বিদ্যা অধীত রয়েছে, যাঁর ইউরোপের মতই বৈজ্ঞানিক মনোভাব রয়েছে ও যিনি একই সঙ্গে আরবী, পারস্যের ও তুরস্কের ভাষায় লেখাপড়া করার ক্ষমতা রাখেন, আবার রুশী ইংরাজী ও ফরাসী ভাষাতেও সমান দক্ষ ভাবে লেখেন ও তা ছাপাও হয়ে থাকে”.

কাজেমবেক যে সমস্ত বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান শেষ করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে – “মুসলমান আইন পাঠের কোর্স”, ইরানের ধর্মীয় ইতিহাস নিয়ে এক বড় কাজ – “বাব ও বাবিদরা: ১৯৪৪- ১৮৫২ সালের পারস্যের ধর্মীয় – রাজনৈতিক অন্ধযুগ”, “প্রাচ্যের ভাষার কাছাকাছি রুশী শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা”, ইত্যাদি.

রাশিয়ার ইসলাম অনুসন্ধান পাঠের উন্নতির জন্য কাজেমবেক বেশ কয়েকটি পড়াশোনার সুবিধার জন্য বই লিখেছেন – তুরস্ক- তাতার ভাষার ব্যাকরণ, তুরস্ক- অটোমান ভাষা নিয়ে ব্যাখ্যার বই আর কোরান নিয়ে এক হ্যান্ডবুক: “কোরানের সমস্ত বাক্য ও বর্ণনা বোঝার চাবিকাঠি”. এই বই ১৮৫৯ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে ছাপা হয়েছিল.

কাজেমবেক চেষ্টা করে বেশ কয়েকটি প্রাচ্যের উত্স প্রকাশ করেছিলেন, যা রাশিয়ার ইতিহাস সম্বন্ধে আলোকপাত করেছিল, বিশেষ করে দক্ষিণের এলাকা গুলির.

প্রাচ্য বিশারদদের মতে, কাজেমবেক তাঁদের একজন ছিলেন, যাঁরা রাশিয়ার প্রাচ্য বিজ্ঞানকে এমন একটা স্তরে উন্নীত করেছিলেন, যা শুধু ইউরোপের চেয়েই পিছিয়ে থাকে নি, বরং অনেক সময়েই পশ্চিম ইউরোপের প্রাচ্য বিশারদদের সাফল্যকে অনেকখানি অতিক্রম করে গিয়েছিল. এটাই কাজান শহরে বর্তমানে চালু হওয়া “মির্জা কাজেমবেকের উত্তরাধিকার: ইতিহাস ও বর্তমান সময়” নামের সম্মেলনের লক্ষ্য.