‘আনাপা’ নামক নতুন প্রজন্মের ছোট স্যাটেলাইটগুলি মহাজাগতিক রশ্মিগুলি, সৌর সক্রিয়তা, পৃথিবীর আয়নোস্ফিয়ার, মহাকাশে তেজস্ক্রিয়তা অনুধাবন করবে. তাদের সুদূর গ্রহান্তরে পাড়ি জমানোর কাজেও ব্যবহার করা যাবে, যেহেতু তারা অভূতপূর্ব আঁটোসাঁটো বৈদ্যুতিক রকেট ইঞ্জিন চালিত.

রুশী বিজ্ঞান এ্যাকাডেমির অন্তর্ভুক্ত মহাকাশবিদ্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট, কেলদীশ ইনস্টিটিউট অফ এ্যাপ্লায়েড ম্যাথামেটিক্স সহ মস্কোর কয়েকটি প্রথম সারির বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট এমন একধরনের ইঞ্জিন উদ্ভাবনের কাজে রত রয়েছে, যেখানে বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র(ইলেকট্রিক ফিল্ড)তরল জেনন গ্যাসকে পরিবর্তিত করবে অতি দ্রুত গতিসম্পন্ন অণুর স্রোতে. রাসায়নিক জ্বালানীপুষ্ট রি-এ্যাকটিভ ইঞ্জিনের মতো এদের প্রবল টান না থাকলেও তাদের পেছনে খরচা কম এবং তাদের বিপুল কার্যক্ষমতা.

যাই হোক, আপাতত নতুন স্যাটেলাইটগুলিকে ব্যবহার করা হবে এ্যাসটেরয়েডের সম্ভাব্য আঘাত থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করার কাজে. প্রথম যে প্রকল্পটিতে তাদের ব্যবহার করা হবে, সেটি হচ্ছে অন্যতম সুবিদিত ‘এ্যাপোফিস’ এ্যাসটেরয়েডকে নিয়ে গবেষণা. ‘এ্যাপোফিস’ শেষবার পৃথিবীর কাছাকাছি দিয়ে গ্যাছে চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে, আর পূর্বাভাস অনুযায়ী, পরের বার তারা পৃথিবীর কাছাকাছি আসবে ২০২৯ সালে.

নতুন স্যাটেলাইটগুলি তাদের বোর্ডে ৩০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি বহন করতে সমর্থ হবে. তালিকায় সবার আগে এ্যাসটেরয়েডদের মানচিত্র ফুটিয়ে তোলার জন্য স্ক্যানার, ইনফ্রা-রেড বিচ্ছুরণ পরিমাপের জন্য স্পেকট্রোমিটার, তেজস্ক্রিয়তার দিকে নজর রাখার মনিটর.

ছোট স্যাটেলাইটগুলির কার্যকলাপের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক রকেট ইঞ্জিনের কার্যদক্ষতাও যাচাই করা নেওয়া যাবে. এটা আরও এই কারণে গুরুত্বপূর্ণ, যে আর মাত্র কয়েক বছর পরেই বাস্তবায়িত করা হবে পৃথিবীর মহাকাশবিদ্যার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত উচ্চাভিলাসী প্রকল্প – ভারী মহাজাগতিক যন্ত্র ‘ইন্টারহেলিওপ্রোব’কে সূর্যের দিকে পাঠানো. ওটাকে চালনা করবে রাশিয়ার বিজ্ঞানীদের দ্বারা উগ্ভাবিত নতুন বৈদ্যুতিক রকেট ইঞ্জিন.