স্বয়ং আফগানদের মধ্যে এ নিয়ে নানা মতভেদ রয়েছে। অনেক ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এ সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করেছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন যে, আফগানিস্তানে এখনও মার্কিন সেনাবাহিনীর উপস্থিতি প্রয়োজন।

আগামী লয়া জিরগার বৈঠকে অংশ নিবেন আফগান পার্লামেন্টের সদস্য আরইয়ান ইউন। রেডিও রাশিয়াকে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, “আমাদের দেশ এমনেই অর্থনৈতিক ভারসাম্যে নেই এবং সেই সাথে রয়েছে জঙ্গীদের হুমকিসহ আরও অনেক সমস্যা। আমরা এসব নানামুখী হুমকির মাঝে একাকি থাকতে পারবো না। এছাড়া প্রতিবেশী দেশগুলো এর মধ্যে রয়েছে। এ কারণে ২০১৪ সালের পর মার্কিন সেনাবাহিনীর আফগানিস্তানে অবস্থান করার জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছানো দরকার।"

রেডিও রাশিয়া কথা বলেছে পার্লামেন্টের একজন নারী সদস্য শেখ গুল রেজাইর সাথে। তিনি বলেন, "যারা এই চুক্তি সাক্ষারের বিপক্ষে অবস্থান করেছে আমি তাদের মনোভাব বুঝতে পারছি না। এখন পর্যন্ত পার্লামেন্টে ওই চুক্তির সর্বশেষ ধারা উত্থাপন করা হয়নি। তবে আমি বিশ্বাস করি জিরগায় সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া হবে যা আফগান জনগনের জন্য সুফল বয়ে আনবে। আমাদের দেশে এখনও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সমৃদ্ধ নয় এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৈরী নয়। আমাদের সেনাদের নতুন সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে শিখতে হবে। এছাড়া রয়েছে জঙ্গীবাদ, মাদকপাচার ও আফগানিস্তান বিষয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর হস্তক্ষেপ. আর এসব কিছু বিবেচনা করলে আগানিস্তানকে ২০১৪ সালের পর আমেরিকার মধ্যে নিরাপত্তা চুক্তি সই করা ছাড়া বিকল্প কোন পথ খোলা নেই।"

অবশ্যই, যে তিন হাজার মানুষ লয়া জিরগার অধিবেশনে এসেছেন তাদের প্রতিটি অনুচ্ছেদ পর্যালোচনা করতে হবে যেন তাদের সিদ্ধান্ত আফগান জনগনের জন্ সুফল বয়ে আনতে পারে।

এসব কিছু শুধুই রাজনৈতিক বুলি বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষক ফাজেল সানচারাকি। জাতীয় লোকসভাকে শুধুই লোক দেখানো বলে তিনি উল্লেখ করেন। সত্যিকথা বলতে যুক্তরাষ্ট্র, হামিদ কারজাই এবং তাদের মিত্ররা সবকিছু অনেক আগেই নির্ধারণ করে রেখেছে। রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন, “লয়া জিরগার অধিবেশনে এমন সব আইনজীবিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে যাদের কাছে এমনকি অত্র চুক্তি সম্পর্কে সাধারণ ধারণাও নেই। আর কিভাবে তাহলে লয়া জিরগা এমন জটিল একটি আইনি নথিপত্র নিয়ে আলোচনা করবে? । আর এখানে একজন আইনজীবিকে আইনি, রাজনীতি ও সামরিক বিষয়ে জ্ঞান থাকতে হবে। তাই দেখতে পাচ্ছি যে, সবকিছু আগেই ঠিক করা হয়ে গেছে। সবাইকে এখন যেভাবে বলা হবে তারা শুধু নির্দেশ পালন করে যাবেন। এর ক্ষতিকর প্রভাব দীর্ঘদিন আফগান জনগনকে পোহাতে হবে।"

আফগানিস্তান ও আমেরিকার মধ্যে কথিত নিরাপত্তা চুক্তি সইয়ের বিষয়ে দেশটির জনসাধারণের মধ্যে একমত আমরা দেখতে পাচ্ছই না। আর এটিই স্বাভাবিক। তবে এ সংক্রান্ত প্রশ্ন নিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন। আর এমন আলোচনা কি লয়া জিরগায় হতে যাচ্ছে?। খুব শীঘ্রই আমরা তা জানতে পারবো।