৫০ হেক্টর জমির ওপরে, যা আয়তনের দিক থেকে ইংল্যান্ডের কিউ-এ অবস্থিত সুপ্রসিদ্ধ রয়াল বোটানিক্যাল গার্ডেনের অর্ধেক, পৃথিবীর সব প্রান্ত থেকে দুই হাজারেরও বেশি গাছপালা রোপণ করা রয়েছে. আরবোরেটামে আপনারা দেখতে পাবেন ব্রেডফ্রুট গাছ, যা জন্মায় হাওয়াই দ্বীপে ও জামাইকাতে, আপনার চোখ জুড়িয়ে দেবে মেক্সিকো ও উত্তর আমেরিকা থেকে আনা স্ট্রবেরি ও টিউলিপ গাছগুলির সৌন্দর্য, নিজের হাতে ছুঁতে পারবেন সোপবেরি গাছে ধরা সোপনাটগুলিকে, যার উল্লেখ এমনকি পুরাকালীন ভারতীয় আয়ুর্বেদেও রয়েছে. আর মিষ্টিপ্রেমীদের জন্য রয়েছে ক্যান্ডি বা লজেন্সের গাছ, যেখানে ঝুলে থাকে সুগন্ধী বারবেরি. এই বিশাল বাগিচাটির প্রত্যেকটি আলাদা অংশ স্বকীয়ভাবে সজ্জিত. কেন্দ্রস্থল যেন একটা ছোট্ট ইতালি. বেঞ্চি, গম্বুজবিশিষ্ট গোলাকৃতি সব স্থাপত্য, কৃত্রিম জলপ্রপাত, উদ্ভট আকারের বিভিন্ন কম্পোজিশন একেবারে রেনেশাঁসের যুগে নিয়ে যাবে. আর যদি আপনার পছন্দ হয় পরিমিত শৈলী, তাহলে উঁকি মারুন ইংলিশ ল্যান্ডস্কেপ পার্কে, যেখানে আপনার মন জুড়াবে লিলি ও গোলাপ ফুল. ছায়া বীথি দিয়ে ঘুরতে ঘুরতে আচমকাই দেখতে পাবেন ময়ুরদের, এমনকি উঠপাখিদের. শেষোক্তরা অবশ্য ঘেরা জায়গার মধ্যে থাকে.

২) অলিম্পিকের বিশৃঙ্খলা

অলিম্পিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বপূর্ণ কাজ সংগঠকদের. তাদের দরকার সবকিছু আগে থেকে ভেবে নেওয়ার, যে কোনো আকস্মিকভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকা. তবে মানুষ মাত্রেই ভুল হয়, সংগঠকদেরও ভুল হতেই পারে. এরকম কিছু ভুল ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে. যেমন, ২০১০ সালে ভ্যানক্যুভের অলিম্পিকে পোল্যান্ডের বায়াথলনিস্টরা যে ইউনিফর্ম পেয়েছিলেন, সেখানে মোনাকো রাজতন্ত্রের পতাকা সেলাই করা ছিল. পোল্যান্ডের জাতীয় অলিম্পিক কমিটি সব দোয চাপিয়েছিল জাতীয় বায়াথলন কমিটির ওপর আর তারা পোযাক উত্পাদকের ঘাড়ে. স্পোর্টস ইউনিফর্ম নিয়ে এটাই একমাত্র অপ্রতিভতার উদাহরণ নয়. ২০০৬ সালে তোরিনো অলিম্পিকে জার্মান বায়াথলনিস্টরা তিন দিন ধরে বেলজিয়ামের পতাকার তলে প্রতিদ্বন্দিতা করেছিল, যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা টের পেয়েছিল, যে রঙের বিন্যাসে ওলট-পালট হয়ে গ্যাছে. আর ১৯২৪ সালে বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় উরুগুয়ে বনাম সার্বিয়া ও ক্রোয়াশিয়ার ম্যাচে উরুগুয়ের পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল উল্টো করে, মানে হিল ওভার হেড এবং শুধু তাই নয়. উরুগুয়ের জাতীয় সঙ্গীতের পরিবর্তে স্টেডিয়ামে ধ্বনিত হয়েছিল ব্রাজিলিয়ান সাম্বোর একটা খন্ড.

৩) অলিম্পিক অগ্নিশিখার রেলভ্রমণ

‘সোচি-২০১৪’ অলিম্পিকের অগ্নিশিখার রিলে দৌড় চলছে. ঐ অগ্নিশিখা খাবারভস্ক থেকে রেলযোগে ইহুদি স্বয়ংশাসিত জেলার রাজধানীতে এসে পৌঁছয় ১৮ই নভেম্বর. অলিম্পিকের একটা প্রতীক খাবারভস্ক শহরে বরাবরের মতো রয়ে গেল, প্রতীকটি কিনেছেন শহরের একজন মহিলা বাসিন্দা. এভাবেই তিনি অলিম্পিকের প্রতি তার ভালোবাসা ব্যক্ত করেছেন. ১৯শে নভেম্বর অগ্নিশিখা পৌঁছায় বেলোগোরস্কে, যেখানে ১২ মিটারের বিশাল রাশিয়ার পতাকা দিয়ে তাকে বরণ করা হয়. ২১শে নভেম্বর অগ্নিশিখা পৌঁছাবে চিতা শহরে আর ২৩ তারিখে তাকে নামানো হবে পৃথিবীর গভীরতম মিষ্টি জলের হ্রদ বৈকালের একেবারে তলায়. এটাই হবে চলতি সপ্তাহব্যাপী অলিম্পিক অগ্নিশিখা নিয়ে রিলে দৌড়ের সর্বোচ্চ সীমা(কালমিনেশন).