আলবানিয়ার নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্ত এক “তিতো বড়ি” হয়ে উঠেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য, যে বিপুল আশা পোষণ করেছিল এ দেশের উপর সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করার ব্যাপারে. তবে, আমেরিকানরা গোড়াতেই ভুল করেছিল দেশ নির্বাচনের ব্যাপারে, বলেন সামাজিক-রাজনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ইয়েভসেয়েভ –

   রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করার জন্য যথাযথ পরিকাঠামো প্রয়োজন. এমন পরিকাঠামো মাত্র কয়েকটি দেশেই গঠিত হয়েছে. আলবানিয়া রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করতে অস্বীকার করেছে শুধু এজন্যই নয় যে, পরের অস্ত্র নিজের দেশে আনতে চায় নি, এজন্যও যে, হাজার টন রাসায়নিক অস্ত্র স্বল্প সময়ের মধ্যে ধ্বংস করার জন্য তার ক্ষমতা যথেষ্ট নয়. এ পরিমাণ রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করতে আলবানিয়া সক্ষম নয়.

   যাই হোক না কেন, এখন সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করার জন্য অন্য জায়গা খুঁজতে হবে. সেই সঙ্গে, সামরিক বিষাক্ত বস্তু উত্পাদনের সুযোগের জন্য সিরিয়া কার কাছে ঋণী, এ কথা মনে করিয়ে দেওয়া আতিশয্য হবে না, বলেন স্বাধীন সামরিক বিশেষজ্ঞ ওলেগ ইভান্নিকোভ –

   এ ক্ষেত্রে কোনো দেশের নাম করার আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া খাস কর্মসূচির চরিত্র সম্বন্ধে বিচার করতে বাধ্য হবে. সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র দেখা দিয়েছিল ইউরোপীয় এবং মার্কিনী রাসায়নিক কোম্পানি ও সংস্থাগুলির সাথে সিরিয়ার সহযোগিতা এবং দ্বিমুখী প্রকৌশলের দরুণ.

   রাসায়নিক অস্ত্র নিষেধ সংস্থা সিরিয়ার বিষাক্ত বস্তু ধ্বংস করার মেয়াদ নির্ধারণ করেছে ২০১৪ সালের মাঝামাঝি. তবে, ভ্লাদিমির ইয়েভসেয়েভের মতে, নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র তার সীমানার বাইরে ধ্বংস করার সম্ভাবনা খুব কমই রয়েছে. বিশেষজ্ঞ মনে করিয়ে দেন যে, সিরিয়ায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে তার ভূভাগ থেকে বিষাক্ত বস্তু পরিবহণ করে নিয়ে যাওয়া জনসাধারণের জন্য অতি বিপজ্জনক. এমন পরিস্থিতিতে সমস্যার সাময়িক মীমাংসার একটি ধরণ হতে পারে সিরিয়ার ভূভাগেই তার রাসায়নিক অস্ত্র মাটির তলায় সমাধিস্থ করে রাখা, যাতে তা ধ্বংস করার প্রশ্নে ফেরা যায় এ দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার পরে.