কি কারণে এই ভয়াবহ ট্রাজেডি ঘটেছে বিশেষজ্ঞরা তা জানার চেষ্টা করবেন। তবে বিশেষজ্ঞদের কাছে আপাতত দুর্ঘটনার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- পাইলটদের ভুল, যান্ত্রিক গোলোযোগ, মানসম্পন্ন জ্বালানী না ব্যবহার করা, বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণকক্ষের গাফেলতি এবং খারাপ আবহাওয়া। তবে সন্ত্রাসী হামলার কারণটি উড়িয়ে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। দুমার যোগাযোগ বিষয়ক কমিটির বিশেষজ্ঞ বলেন, ১ম বার অবতরণ না করে ২য় বার চক্কর দেয়াটিই পাইলটদের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। রেডিও রাশিয়াতে তিনি আরও বলেন, “রসএভ্যিয়েশন সংস্থার এক সভায় নিরাদকো সংস্থার পরিচালক বলেছিলেন যে, কাজানে বিমান বিধ্বস্তের একমাত্র কারণ হচ্ছে পাইলটদের বিমান উড্ডয়নে ভুল করা। বৈশিষ্টের দিক দিয়ে কাজানের সাথে পের্ম শহরে ঘটা দুর্ঘটনার মিল রয়েছে যেখানে বিমান একদিকে কাত হয়ে সজোরে মাটিতে আছড়ে পড়েছিল। পাইলটদের সাধারণ ভুলের কারণেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে সংশ্লিষ্ট অন্য কারণেও যে ঘটতে পারে তা বাদ দিচ্ছি না।“

২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে পের্মে যাত্রীবাহি বিমান দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছিল। ওই সময়েই একই বোয়ি-৭৩৭ বিমান অবতরণের সময়ে বিমানবন্দরের কাছেই বিধ্বস্থ হয়। ওই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে পাইলটদের দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুর অবস্থানগত ভুলের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছিল। বিমান পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ হারানোকেও একেবারে বাদ দেয়া যাচ্ছে না, কারণ বিমানটি যখম বিধ্বস্থ হয় তখন তা অবতরণের ভারসাম্যে ছিলো না। আর এর অর্থ হচ্ছে বিমান পাখা বা নেভিগেশননের যন্ত্রপাতি কাজ না করা। আর এ কারণে ২য় বারের মত চক্কর দেয়ার সিদ্ধান্ত কিন্তু যুক্তসংগতই ছিলো। স্বয়ংক্রিয় উড্ডয়ন অকেজো হওয়ায় দ্রুত গতিতে বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, কাজানে বিধ্বস্ত হওয়া বোয়িং-৭৩৭ বিমানটি ১৯৯০ সালে তৈরী করা হয়েছিল। বিমানটি ফ্রান্সের একটি কোম্পানীর কাছ থেকে ক্রয় করা হয়েছিল। এর আগে বিমানটি উগান্ডা, ব্রাজিল, রুমানিয়া ও বুলগেরিয়ায় যাত্রী সেবায় ব্যবহার করা হয়।

আর এর অর্থ হচ্ছে বিমানের যান্ত্রিক অবকাঠামো তেমন ভাল অবস্থায় ছিলো না। যদিও বিমান তৈরীর বয়স মেপে বিমানের প্রযুক্তিগত ক্রিয়াকলাপের মূল্যায়ন করা যায় না। এর জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয় যে কোথায়, কখন এবং কিভাবে বিমানের কারিগরি সেবা দেয়া হয়েছে।