‘রাশিয়া বিস্মিত করছেঃ সংখ্যাতথ্য ও সমাজতত্ত্ব বনাম মস্তিষ্কপ্রসূত গল্পগাছা ও কল্পনা করে নেওয়া সিদ্ধান্তাবলী’ নামক প্রকল্পের সংকলক সমাজতত্ত্ববিদেরা এই সিদ্ধান্তেই উপনীত হয়েছেন. জনসমীক্ষাটি এই সাক্ষ্য দিচ্ছে, যে রাশিয়ায় বসবাস করা বেশি ‘সুখকর’ হয়েছে. সমীক্ষাটির ফলাফল সংকলকরা www.russia-review.ru তে প্রকাশ করেছেন এবং এই বিষয়ে বই প্রকাশ করতে মনস্থ করেছেন.

উন্নত দেশগুলির প্রেক্ষাপটে নীচুহারের মাইনেপত্র, প্রতিটি কানাকড়ি হিসাব করে চলার অপরিহার্যতা, যে সম্পর্কে দিনরাত টিভির পর্দা থেকে ও পত্রপত্রিকার পাতায় বলা ও লেখা হচ্ছে, সেটা মস্তিষ্কপ্রসূত ফ্যান্টাসি. সমীক্ষাটি সাক্ষ্য দিচ্ছে, যে রুশবাসীরা নিজেরা কিন্তু আদৌ তাদের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে ততখানি নৈরাশ্যবাদী নয়. বিগত ৮ বছরে নিজস্ব রোজগারে অখুশিদের সংখ্যা অর্ধেক হয়েছে আর এই নিয়ে সন্তুষ্টদের অনুপাত ২০০৫ সালের ৬২% থেকে বেড়ে ২০১৩ সালে ৮০%-এ গিয়ে দাঁড়িয়েছে. সুখের নক্সাচিত্রটাও অনুরূপঃ নব্বইয়ের দশকের ৪৪% সংখ্যাটা বেড়ে ৭৬%-এ গিয়ে পৌঁছেছে. ‘রেডিও রাশিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে সেই কথাই বলছেন সমাজ-রাজনৈতিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য আধিকারিক স্তেপান লভোভ. –

আমাদের দেশের অধিবাসীদের মধ্যে লক্ষ করা যায় এমন একধরনের মানসিকতা, যখন তারা কোনো বস্তু অবলোকন করে বলে – গ্লাসটার অর্ধেক খালি, যদিও এটা বললেই ভালো হয়, যে গ্লাসটার অর্ধেকটা ভরা.

রুশবাসীদের গ্লাসটির বাকি অর্ধেক ভরিয়ে তোলার জন্য সমাজতত্ত্ববিদেরা সংখ্যাতথ্যের আশ্রয় নিয়েছেন. যেমন ধরুন, যে সব পরিবারের বাড়ি আছে, তাদের অনুপাত ২০০৬ সালের ৩৭% থেকে বেড়ে এখন ৪৮%-এ গিয়ে পৌঁছেছে. ২০০৯ সালের আর্থিক সংকটও এর ওপর প্রভাব ফ্যালেনি. আরও একটা বাস্তব সূচক হচ্ছে রাশিয়ার নাগরিকদের সঞ্চয়ের পরিমান, যেটা প্রতিটি কানাকড়ি গুনে চলার অপকথাকে ধুলিসাত্ করে দেয়. –

যদি ২০০৫ সালে তাদের মতে সঞ্চয় শুরু করার ন্যূনতম অঙ্কটি ছিল ১ লক্ষ রুবল বা ৩ হাজার ডলার, তবে এখন সেই অঙ্কটা ২ লক্ষ ৫০ হাজার রুবল বা ৮ হাজার ডলার. দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি তার ২-৩% গ্রাস করেছে আর বৃদ্ধি ঘটেছে আড়াই গুণ.

বছর সাতেক আগে প্রতি চারজন রুশবাসীর একজন মিটিংয়ে রাস্তায় নামতে রাজি ছিল, আজ প্রতিবাদী মনস্কদের অনুপাত কমে দাঁড়িয়েছে ১৭ শতাংশে. সমাজ-রাজনৈতিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য আধিকারিক বলছেন – যখন আমরা চেল্লাই, যে আমাদের সর্বক্ষেত্রে করুন অবস্থা, তখন প্রশ্ন জাগে যে, তাহলে আমরা এই দেশে কি করছি, কেন আমরা একে ভালোবাসি, কেন আমরা আমাদের বংশধরদের জন্য এখানে নিশ্চিন্ত ভবিষ্যতের প্রত্যাশা করি. যদি আশাবাদী হওয়ার মতো উপলক্ষ্য থাকে, তাহলে মানুষ গঠনমুলক আচরণ করতে শুরু করে.