সত্যিকার অর্থে রাজাপাকসের সরকারকে নিয়ে সম্মেলনকে ঘিরে বিরোধী দল যে বিতর্কের আশা করেছিল সেই ধরণের কোন বিতর্কের সৃষ্টি হয়নি। মূলত একে কলম্বের বিজয় হিসেবেও ধরা যায়। যদিও সম্মেলনে ৫৩টি দেশের মধ্যে মাত্র ২৭টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান অংশ নেন। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা অবশ্য কলম্বোর কোন সমালোচনা করেনি। বরং সব ধরণের সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে আমাদের পর্যবেক্ষক সের্গেই তোমিন বলেছেন, ২৬ বছরের গৃহযুদ্ধ ও দ্বীপ রাষ্ট্রের বর্তমান মানবাধিকার ও স্বাধীনতার পরিস্থিতি নিয়ে একেবারে নিশ্চুপ থাকা সম্ভব হয়নি। রেডিও রাশিয়াকে তিনি আরও বলেন, “শ্রীলঙ্কার উত্তরের দ্বীপ জাফনা যেখানে মূলত তামিলরা সংখ্যাগরিষ্ঠ সেখানে সফরে যান যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুন। সেখানে তামিলদের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে শ্রীলঙ্কার সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে এর আগে কোন বিদেশি রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান জাফনা দ্বীপ সফর করেনি। তাই এক অর্থে ডেভিড ক্যামেরুন ইতিহাসই গড়লেন। সফর শেষে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী শ্রীলঙ্কার সরকারকে অনেকটা হুঁশিয়ারি জানান।"

২০০৯ সালে তামিল বিদ্রোহীদের দমনে সামরিক অভিযানের সময় শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের পূর্ণ তদন্ত প্রতিবেদন ২০১৪ সালের মার্চ মাসের মধ্যে শেষ করার দাবী জানিয়েছে লন্ডন। বিভিন্ন তথ্যমতে, ওই যুদ্ধে ১ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। যদি

শ্রীলঙ্কার সরকার এই দাবীকে অস্বীকার জানায় তাহলে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী দ্বীপ রাষ্ট্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলোর আন্তর্জাতিক তদন্তের জন্য উত্থাপন করবেন। তবে এরই মধ্যে লঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসে বলেছেন, তাঁদের ‘লুকানোর কিছু নেই এবং ক্যামেরুনের দাবী পূরণ করা হবেনা।

সবকিছু বিচার করলে কমনওয়েলফ শীর্ষ সম্মেলন থেকে শ্রীলঙ্কা বিতর্কের মধ্যে জড়িয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তকে বিশ্বের অনেক দেশই সমর্থন জানাবে বিশেষ করে সম্মেলনে যেসব দেশ অংশগ্রহণ করেনি। এ বিষয়ে সেরগেই তোমিন আরো বলেন, “এ ধরণের দাবী তা লংকান সরকারকে নিজেদের আইনি অধিকার প্রমাণে আরও সহযোগিতা করবে । তা হয়তো আন্তর্জাতিক কমিউনিটির জন্য পাল্টা জবাব দিতে পারবে কলম্বো. যেখানে বলা হচ্ছে, জাতীয়তা হুমকির মুখে এবং কোন আন্তর্জাতিক আদালত নেই ।“

 আর এর মানে হচ্ছে, শ্রীলঙ্কাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গনতন্ত্রহরন করার দায়ে অভিযুক্ত করতে পারে পশ্চিমা মিত্রজোট। আর এই দ্বীপ রাষ্ট্রকে দুর্বৃত্ত দেশের তালিকাভুক্ত করা হতে পারে। আর এমনটি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবেন শ্রীলঙ্কার সাধারণ নাগরিকরা, যাদের নিরাপত্তার জন্য ক্যামেরুন মড়িয়া হয়ে উঠেছেন।