তাতারিস্তান বিমান কোম্পানীর বোয়িং ৭৩৭-৫০০ বিমানটি প্রতিদিনের মতো গতকালও মস্কো থেকে কাজানের উদ্দ্যেশ্যে ছেড়ে যায়। কাজান বিমানবন্দরে রানওয়ে থেকে কয়েক মিটার দূরে অবস্থানের সময়েই বিমানের পাইলট নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সাথে যোগাযোগ করে অবতরণ করতে না পারার সংবাদ জানান। এ কারণে বিমানবন্দরের উপর দ্বিতীয়বার চক্কর দিয়ে ভূমিতে অবতরনের মুহুর্তে বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে। সাথে সাথে বিকট শব্দে বিমানটিতে আগুন লাগে। দুর্ঘটনা কবলিত বিমান থেকে কেউই জীবিত হয়ে ফিরতে পারেননি। নিহত যাত্রীদের অধিকাংই রুশ। তবে ১ জন যুক্তরাজ্যের ও ১ জন ইউক্রেনের নাগরিক বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

কি কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তা বিশেষজ্ঞরা খুঁজে বের করবেন। সব ধরেণের সম্ভাব্য কারণ নিয়ে তদন্ত করবেন। তবে যান্ত্রিক গোলোযোগ ও পাইলটের ভুলকে অধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

ভলগা অঞ্চলের তাতারিস্তানের তদন্ত কমিটির পরিচালক আলেক্সান্দার পাল্তিনিন জানান, ইতিমধ্যে বিশেষজ্ঞরা তাতারিস্তান বিমান কোম্পানী থেকে বোয়িং ৭৩৭-৫০০ বিমানের যান্ত্রিক অবস্থান ও পাইলটদের অভিজ্ঞতার সব কাগজপত্র সংগ্রহ করেছে। রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন, “তদন্ত কমিটি থেকে আমাদের মস্কোর সহকর্মীদের আলাদাভাবে বিমানে ব্যবহার করা জ্বালানী পরীক্ষা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। একসারি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। তবে এ তথ্য নিশ্চিত যে দুর্ঘটনার পূর্বে পাইলটরা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছিলো। তাই এখন জানার চেষ্টা করবে হবে কেন বিমানটি প্রথমবারই অবতরণ করতে পারেনি।"

গতকাল সারা রাতভরই দুর্ঘটনাস্থলে কাজ করেছেন জরুরি সহায়তা মন্ত্রনালয়, জাতীয় অপরাধ তদন্ত কমিটি ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় এ্যাভিয়েশন কমিটির প্রতিনিধিরা। বিমানের ব্লাক বক্সে থেকে তথ্য উদঘাটনের পরেই নিশ্চিকরে যানা যবে। আর ইতিমধ্যে ব্লাক বক্সের সন্ধান মিলেছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সাহায্য করবে বোয়িং কর্পোরেশন। আন্তর্জাতিক এ্যাভিয়েশন কমিটির অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি বিশেষজ্ঞদের দল রাশিয়ার উদ্দ্যেশ্যে রওনা হয়েছে।

এদিকে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের মানসিক মনোবল ঠিক রাখতে মনোচিকিৎসকরা কাজ করছেন। এ বিষয়ে আরো জানিয়েছেন মন্ত্রনালয়ের মুখপাত্র ইরিনা রাসিউস। রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন, "একটি হট লাইন টেলিফোনের সাহায্যেও তারা নিহতদের আত্বীয়-স্বজনদের সাহায্য করছেন। নিকটজনদের হারিয়ে শোকাহত এসব মানুষদের পাশে তাঁরা অবস্থান করছেন। আর নিহতদের লাশ দেখে সনাক্ত করার মুহূর্তেও মনোচিকিৎসকরা উপস্থিত থাকবেন।"

এদিকে কাজানে বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় পুরো রাশিয়াজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এরই মধ্যে জাতিসংঘের মহাসচিব শোকবার্তা পাঠিয়েছেন। কাজানের মসজিদ ও গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিহতদের আত্বার শান্তিকামনা করে বিমানবন্দরে ফুল নিয়ে যাচ্ছেন কাজান নগরবাসীরা।