১২ই নভেম্বর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভিয়েতনামে রাষ্ট্রীয় সফর করেন। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পর্যালোচনা করে পুতিন বলেন, ভিয়েতনামের আর্মির জন্য রাশিয়া আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি সরবরাহ করার সহযোগিতা আরো বাড়াবে।

সামরিক-প্রযুক্তি সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভিয়েতনাম আজ রাশিয়ার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ। মূলত ভিয়েতনাম রাশিয়ার কাছ থেকে সামরিক প্রযুক্তি ক্রয় করার দিক থেকে ইতিমধ্যে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। ভিয়েতনামে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে সরবরাহ করা অনেক সামরিক প্রযুক্তি বর্তমানে রয়েছে। যার এখন আধুনিকায়নের প্রয়োজন পড়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা ম্যাগাজিনের সম্পাদক ইগর কারোতচিনকা বলেন, রুশ-ভিয়েতনাম দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামরিক খাত কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজার। রেডিও রাশিয়াকে তিনি আরো বলেন, “সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতার কথা বলতে গেলে মূলত ভিয়েতনামের নৌঘাঁটি কামরানে রাশিয়ার নৌবাহিনীর ফিরে যাওয়াকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য বলা যেতে পারে। এখানে পরিষ্কার যে, নৌঁঘাটি ভাড়া নেয়ার কথা হচ্ছে না। অতীতে ভিয়েতনামে আমাদের নৌঁঘাটি গুটিয়ে নিয়ে আমরা ভুল করেছিলাম। দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে আগামী বছরের শেষ নাগাদ কামরানে রাশিয়ার নৌঁবাহনীর একটি প্রযুক্তি সহায়তা ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করা হবে। যুদ্ধ জাহাজগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করাসহ সেখানে সর্বদা রিজার্ভ প্রকৌশলীরা অবস্থান করবেন।“

যদি হ্যানয়ে ভ্লাদিমির পুতিনের সফরসঙ্গীরা রাশিয়া ও ভিয়েতনামের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নের ইতিবাচক অবদান রেখেছে তাহলে অন্যদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সাথে মিশরের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর ২+২ ফরম্যাটের বৈঠককে বিশেষজ্ঞরা যুগান্তকারী সাফল্য বলে উল্লেখ করেছেন। সেরগেই ল্যাভরোভ ও সেরগেই শাইগুর সাথে কায়রোতে বৈঠক শেষে মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাবিল আহমি আরটি চ্যানেলকে বলেন, মিশরীয় সরকার রাশিয়ার কাছ থেকে নতুন সামরিক অস্ত্র কেনার সম্ভাবনা চিন্তা-ভাবনা করেছে। এসব কিছুই ঘটে ১২ই নভেম্বর। আর ১৩ই নভেম্বর রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শাইগু তাদের মিশরীয় সহকর্মীদের সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠককে সাফল্যজনক বলে অভিহিত করেছেন।

 মিশর ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্যতম মিত্রশক্তি যা আরব দেশে প্রতিরক্ষা বিভাগকে অনেক শক্তিশালী করেছিল। অতীতে এ দেশে সোভিয়েত ইউনিয়ন নতুন উদ্ভাবিত সামরিক প্রযুক্তি নিয়মিত সরবরাহ করেছিল। ১৯৫৪ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্তমিসরের প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালনকারীগামাল আবদেল নাসের সেই সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নকে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য অন্যতম ঘনিষ্ঠ জোট হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন কিন্তু নাসেরের পরে আনোয়ার সাদাত যখন মিশরের প্রেসিডেন্ট হলেন তখন তিনি মার্কিন নীতি গ্রহণ করলে মিশরে সোভিয়েত ইউনিয়নের অবস্থান নাজুক হয়ে পড়ে তাই স্বভাবতই কায়রোতে রাশিয়ার মন্ত্রীদের সদ্য এ সফরকে এক মাইলফলক বলেই উল্লেখ করছেন ইগর কারাতচেনকো মূলত এ সফরের মধ্য দিয়ে মিশরের সাথে রাশিয়ার সামরিক-প্রযুক্তি খাতে সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা শুরু হলো যদিও কায়রোর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের নির্দিষ্ট করে কোন সামরিক-প্রযুক্তি খাতে কোন চুক্তি হয়েছে কিনা জানানো হয়নি তবে বিশেষক্ষরা বলছেন যে, রাশিয়ার রকেট প্রতিরোধবিরোধী ক্ষেপনাস্ত্র, সু ও মিগ যুদ্ধ বিমান, হেলিকপ্টার ও রকেট স্প্রিডবোট ইত্যাদি প্রযুক্তির ওপর মিশরের আগ্রহ রয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এর সূত্র জানায়, প্রাথমিক ধাপে রাশিয়ার কাছ থেকে মিশরের ক্রয় করা সামরিক প্রযুক্তির দরদাম হতে পারে ১ থেকে ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার