কিছু বিশেষজ্ঞ যেমন জোর দিয়ে বলেছেন যে, লিবিয়াতে প্রকৃত ক্ষমতা বাস্তবে বহু সংখ্যক সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতেই রয়েছে. তাদের প্রত্যেক দলই একমাত্র একটি লক্ষ্য নিয়েই চলেছে: দেশের কোন না কোন অংশকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার, যে দেশের এলাকায় রয়েছে খনিজ তেল. এই প্রসঙ্গে একেবারেই গুরুত্বপূর্ণ নয় যে, সেখানে প্রজাতিগত অনুপাত কি রকমের, প্রশাসনের মডেল অথবা সেই ধরনের গোষ্ঠীগুলোর ধর্মীয় আদর্শ কি রকমের, তার ওপরে. সবার আগে, তারা লড়াই করছে “সম্পদের” জন্য, আর তার মানে হল – অর্থের জন্য ও স্রেফ টিকে থাকার জন্যই. আফ্রিকাতে লিবিয়া সবচেয়ে বেশী খনিজ তেলের সঞ্চয়ের অধিকারী এই কথা মনে করলে, এই ধরনের লড়াই যখন “সকলেই সকলের বিরুদ্ধে” লড়াই করছে, তা অনন্তকাল ধরেই চলতে পারে. আর তার ফলে সম্পূর্ণ ভাবেই এই দেশের পতন হতে পারে, যাতে ত্রিপোলির অধিকার থাকবে শুধু বৈদেশিক সম্পর্কের বিষয়েই, - এই রকম মনে করে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের আরব আলোচনা কেন্দ্রের ডিরেক্টর আনাতোলি ইগোরিন বলেছেন:

“এখন বাস্তবে কিরেনাইকা এলাকা আলাদা হয়ে গিয়েছে ও তারা এমনকি নিজেদের খনিজ তেলের কোম্পানীও তৈরী করেছে. সম্ভবতঃ এর পরেই সারি দিয়ে দাঁড়াবে ফেজ্জান ও ত্রিপোলিতানিয়া. এক্ষেত্রে আমি মনে করছি না যে, দেশ খণ্ডিত হয়ে যাবে. বরং খুবই সম্ভবতঃ তিনটি ঐতিহাসিক অঞ্চল বেশী করেই স্বয়ং শাসনের অধিকার পাবে. আর কেন্দ্রীয় সরকার ত্রিপোলিতে দেশকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করতে পাঠাবে. সম্ভবতঃ এই সবই এক রকম ভাবে গ্রহণের অযোগ্য বলেই দেখাচ্ছে কিন্তু বাস্তবে এটা হবে একেবারে নখ দাঁত শানানো সশস্ত্র জঙ্গীদের নিয়েই ও কোন রকমের সত্যিকারের প্রশাসন ও দেশের শূণ্য বাজেটের পরিপ্রেক্ষিতেই. সুতরাং বর্তমানের ধ্বংস হওয়া অবস্থা, যাতে খুব সম্ভবতঃ দুর্ভিক্ষও যোগ হতে চলেছে, তা লিবিয়ার লোকদের জন্যেই খুব একটা কম বছরের জন্য আগামীতে অপেক্ষা করছে না”.

কিছু পর্যবেক্ষক আরও বেশী অন্ধকার ভবিষ্যতই দেখাচ্ছেন. কিরেনাইকা এলাকায় দেশের খনিজ তেলের শতকরা ৮০ ভাগ রয়েছে. আর এটাই বিচ্ছিন্নতাবাদের জন্য সবচেয়ে ভাল রকমের জমি তৈরী করে দেয়. কিছুদিন আগেই এখানে প্রশাসন তৈরী করা হয়েছে ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করা হয়েছে. এটা ঠিক যে, কিরেনাইকা এলাকার প্রতিনিধিরা সব রকম ভাবেই বিশেষ করে উল্লেখ করছে যে, তারা দেশ ভেঙে যায় – এটা চায় না, কিন্তু বাস্তবে সমস্ত শেষ ঘটনাই খুব গুরুতর রকমের কেন্দ্র বিপরীত প্রক্রিয়ার উদাহরণ হয়েছে. এখানে যোগ করা যায় সন্ত্রাসবাদী কাণ্ড গুলোকে, গোলাগুলি বর্ষণকে, অপহরণ করা গুলোকে, খনিজ তেলের উত্পাদনের জায়গা ও সরবরাহের কেন্দ্রগুলোকে দখল করাও. সশস্ত্র জঙ্গী গোষ্ঠীদের নেতারা আপাততঃ এখনও ঐক্যবদ্ধ ও বিদেশের সঙ্গে সম্পর্ক সমেত নিজেদের রাষ্ট্রকেই একেবারে মৌলিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক ঠিক রাখতে বাধা দিচ্ছে. আর এই সব সম্পর্ক থেকেই আজ বাস্তবে সব কিছুই নির্ভর করছে. একদল দেশে খাবার জিনিষের আমদানীর জন্য দাম দিতে পারছে না, কারণ অন্যরা দেশ থেকে খনিজ তেল রপ্তানীর বিষয়ে বাধা দিচ্ছে. আবার তার ওপরে খনিজ তেল উত্পাদনের পরিমাণই কয়েক গুণ কমে গিয়েছে. সুতরাং কোন রকমের বিশেষ ঠেলার প্রয়োজন নেই এই দেশে ভেঙে পড়ার জন্য, - এই কথা মনে করে রাশিয়ার লিবিয়া ও সিরিয়ার জনগনের সঙ্গে সহযোগিতা কমিটির উপসভাপতি নেল্লি কুশকোভা বলেছেন:

“লিবিয়াকে ভেঙে দেওয়ার জন্য যা দরকার ছিল, তা দু’বছর আগে ন্যাটো জোটের বিমান বাহিনী করে দিয়েছে. দেশ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে. শহর রয়েছে, যেখানে জনগন সম্পূর্ণ ভাবে নিজেদের ঘরবাড়ী থেকে উত্খাত হয়ে গিয়েছে. লিবিয়াকে এক করার জন্য কি করা দরকার? সম্ভবতঃ প্রয়োজন কিছু একটা আশ্চর্য হওয়ার মতো পরিস্থিতির, আর প্রাথমিক ভাবে একজন শক্তিশালী নেতার, যাঁর পিছনে থাকবেন দেশের মানুষ, যাঁরা এখানে চাইছেন কোন রকমের শৃঙ্খলা”.

কিন্তু লিবিয়াতে আজ সেই রকমের কোনও নেতা নেই. আর পশ্চিম, যারা এই মাত্স্যন্যায় ও ধ্বংসের কারণ হয়েছে, তারা মোটেও সবকিছু ঠিক করে দেওয়ার ইচ্ছা নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে না. তার ওপরে ওয়াশিংটন অথবা ব্রাসেলস তাদের করা কাণ্ড নিয়ে কিছু শুনতেও চায় না. তারা আপাততঃ স্রেফ সমস্যাগুলো লক্ষ্যই করতে চাইছে না.