সমুদ্রতীরের অলিম্পিক গ্রামে থাকবেন ২২০০ জন – খেলোয়াড়, ট্রেনার ও দলের প্রতিনিধিরা. তাঁরা এই গ্রাম তৈরী শুরু হওয়ার একদম প্রথম থেকেই কোন বাড়ী কাদের হবে জানতে পেরে, নিজেদের পছন্দমত ঠিক করে নিয়েছেন. যদিও বাইরের দিক থেকে সোচীতে সব কটা বাড়ীকেই এক রকমের দেখতে – এটা চার বা পাঁচ তলা গোলাপী- খয়েরী বাড়ী, যাদের চাল লাল রঙের, - তবুও ভেতরে ঘর গুলোর চেহারা আলাদা রকমেরই হবে. এখানে পাল্টাবে না শুধু খুবই উচ্চ মানের আরামের ব্যবস্থা, এই কথা ঘোষণা করে “সোচী- ২০১৪” আয়োজক কমিটির প্রতিনিধি তিমুর জৈনালভ বলেছেন:

“একেকটা ঘরে দুজন করে খেলোয়াড় থাকবে. গড়ে ঘরের আয়তন ৪০- ৪৫ স্কোয়ার মিটার, যা আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি থেকে অলিম্পিকের গ্রাম তৈরীর সময়ে যে মাত্রা দেওয়া হয়েছে, তার চেয়ে তিনগুণ বেশী. লন্ডনে অলিম্পিকের সময়ে প্রত্যেক দু’জন খেলোয়াড়ের জন্য গড়ে ১২ থেকে ১৬ স্কোয়ার মিটার জায়গা দেওয়া হয়েছিল. আমাদের এখানে যারাই দেখতে এসেছেন, সেই সমস্ত প্রতিনিধি দলই খুব আনন্দিত হয়েছেন, যে এবারে অবশেষে তাদের জায়গা থাকবে একটু ছড়িয়ে থাকার মতো, আর এবারে সবার জন্যই যথেষ্ট জায়গা থাকবে”.

যাতে খেলোয়াড়দের এখানে সবচেয়ে বেশী আরামের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়, তাই আয়োজকরা ঠিক করেছেন বাড়তি ব্যবস্থা আলাদা জায়গায় করে দেওয়ার, তাই তিমুর জৈনালভ আরও বলেছেন:

“একটা খাবার ঘর থাকছে ৭০০ লোকের বসার মতো, আর তাতে এমন মেন্যু করা হয়েছে, যা খেলোয়াড়দের পছন্দ আর আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির নিয়ম মেনে করা হয়েছে. ফিটনেস - সেন্টার, মেডিক্যাল সেন্টার, সংস্কৃতি ও আনন্দের জায়গা, নানারকমের খেলার মেশিন সমেত জায়গা থাকছে, আর থাকছে একটা ক্লাবও. তবে এগুলো আমরা খানিকটা দূরেই করেছি, কারণ এখানে অলিম্পিক গ্রামের বাড়ী গুলোতে অনেক লোক একসঙ্গে থাকবেন বলে অন্যদের যাতে কোন রকমের অসুবিধা না হয় তাই আমরা কিছু ধরনের পরিষেবা ঠিক এখানেই দিতে পারছি না. এখান থেকে বাস যাবে, যেখানে এই সমস্ত ব্যবস্থাই একসাথে করা থাকবে, অথবা সাত- দশ মিনিট হেঁটে প্রত্যেকেই সেখান অবধি যেতে পারবেন”.

আরও একটি বিতর্কাতীত সুবিধা, যা এই সমুদ্র পারের অলিম্পিক ভিলেজে পাওয়া যেতে চলেছে – তা হল প্রবল শীতেও জমে না যাওয়া কৃষ্ণ সাগর ও তার তীরের পাম গাছের সারি. শীত অলিম্পিকের অংশগ্রহণকারীরা: ফিগার স্কেটিং, আইস হকি ও স্কেট রানিংয়ের প্রতিযোগীরা আগে কখনও অলিম্পিকের মেডেলের জন্য ক্রান্তীয় এলাকায় লড়াই করেন নি. তাদের হয়তো মনে হবে যে, তাদের সঙ্গেই যারা এখানে স্কি করতে, পাহাড়ে ঢাল বেয়ে নামতে অথবা স্নো বোর্ডে মেডেলের জন্য লড়াই করছে, তারা হয়তো অন্য কোথাও গিয়ে রয়েছে, কারণ সেখানে অলিম্পিকের ভিলেজে ও জায়গায় শুধু বরফে ঢাকা পাহাড়ই রয়েছে.