বিটকয়েন – এটা একটা ভার্চুয়াল বিনিময় মুদ্রা, যা কোন রকমের বাস্তব জিনিষের দাম দিয়ে তৈরী করা হয় নি. এই ধারণা তৈরী হয়েছে ২০০৮ সালে. ইংরাজী ভাষা থেকে অনুবাদে বিট – এটা তথ্যের একক ও কয়েন – এটা মুদ্রা. এই শব্দ বন্ধের স্রষ্টা হলেন এক জাপানী সাতোসি নাকামোতো. বৈদ্যুতিন অর্থের বিশেষত্ব হল যে, তা নিয়ন্ত্রণ করার কোন একক কেন্দ্র নেই. বৈদ্যুতিন মুদ্রার ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয় ভাবেই কাজ করে. তা নির্দিষ্ট রকমের ফর্মুলার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় ও কোন দেশের অর্থনীতির কোনও প্রতিফলন দেয় না, কারণ এটাকে মনে করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা. বিটকয়েন তৈরী করে থাকে যারা প্রোগ্রাম লেখে তারা ও যারা এই মুদ্রার ভবিষ্যত নিয়ে ভরসা করেছে, তারা. এই ব্যাপারে কানাডার অ্যালিক্স রিসোর্সেস কোম্পানীর জেনারেল ডিরেক্টর – মাইকেল ইংল্যান্ড বিশ্বাস করতে পেরেছেন. তিনি মনে করেছেন এই ভাবে দাম দেওয়াটা একটা উদ্ভাবনী ব্যাপার. কিন্তু কর্পোরেশন এই ক্ষেত্রে খুবই বড় রকমের ঝুঁকি নিতে চলেছে, এই কথা উল্লেখ করে বৈদ্যুতিন মুদ্রা অ্যাশোসিয়েশনের বোর্ড অফ ডিরেক্টরের চেয়ারম্যান ভিক্টর দোস্তভ বলেছেন:

“আমার মতে, এটা খুবই একটা উড়নচণ্ডী ধরনের ব্যাপার. কোম্পানীরা একে অপরের মধ্যে বিটকয়েন, ডলার অথবা কুকুরের ছানা মার্কা যা খুশী তাই দিয়েই দাম দেওয়া নেওয়া করতে পারে. কিন্তু তখনই দুটো ঝুঁকি তৈরী হয়. প্রথমটা – বোঝা যাচ্ছে না, কি করে কোম্পানী এটা তাদের অ্যাকাউন্টে দেখাবে আর এখানে কর দেওয়া হয় নি বলে কি তাদের উপরে অভিযোগ করা হবে না? দ্বিতীয় হল যে, বিটকয়েন – এটা একটা ভাল কথায় বললে বাজী ধরার মতো মুদ্রা, তার রেট ডলারের পরিপ্রেক্ষিত একবার ওঠে, তো একবার নেমে যায়. আর কিছুতেই বোধগম্য নয়, কিভাবে সেই কোম্পানী এই ঝুঁকি সামলাবে”.

কিন্তু এটাতে তারা ভয় পাচ্ছে না, যারা অনেকদিন ধরেই বিটকয়েন ব্যবহার করছে. তা দিয়ে ইন্টারনেটে কেনা বেচা করা হচ্ছে ও জিনিষপত্র ছাড়াও এমনকি কোম্পানী কেনাও হয়েছে. যেমন, এই বছরের জুলাই মাসে ১২৬ হাজার বিটকয়েন দামে একটা অন লাইন ক্যাসিনো বিক্রী হয়ে গেছে. ডলারে হিসাব করলে এটা প্রায় এক কোটি পনেরো লক্ষ ডলার. এখনই খুব গুরুতর ভাবে আলোচনা করা হচ্ছে জমি জায়গা বেচাকেনা নিয়েও. তাছাড়া, নিয়মিত ভাবেই কোম্পানীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে, যারা বিটকয়েন দাম হিসাবে স্বীকার করে নিচ্ছে. এখানে উল্লেখ করা দরকার যে, বিগত সময়ে এই ভার্চুয়াল বিনিময় মুদ্রার দাম খুবই দ্রুত বেড়ে গিয়েছে. যদি অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে একটা বিটকয়েন বিক্রী হয়েছে ১৫০ ডলার দামে, তবে এই ১৩ই নভেম্বর দেখা গিয়েছে যে কেনাবেচার সময়ে দাম বেড়ে হয়েছে ৩৯০ ডলার. এই রকম ভাবে হঠাত্ খুবই দাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়েছে মার্কিন সেনেট. মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চ সভা আগামী সপ্তাহে বিটকয়েন তাদের অর্থনীতিতে কি প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করবে. ইন্টারনেটে এই অর্থের প্রসার আরও বেশী করেই প্রশাসনকে ভাবিয়ে তুলেছে. এই প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ সের্গেই খেস্তানভ বলেছেন:

“জাতীয় অর্থনীতি নিয়ন্ত্রকের নজর থেকে ভার্চুয়াল মুদ্রার প্রধান সমস্যা হল এর চলাফেরার উপরে কোন রকমের নিয়ন্ত্রণই নেই. এর ফলে ভার্চুয়াল মুদ্রা নানা রকমের অন্যায় কাজকর্মের জন্য খুবই পছন্দসই হয়ে উঠেছে”.

এরই এক উদাহরণ, একেবারেই দিন কয়েক আগে একটি বৃহত্তম অন লাইন স্টোর বন্ধ হয়ে গিয়েছে, Silkroad.onion, যেটায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ সমস্ত জিনিষপত্র বিক্রী করা হত. এই পোর্টাল ইন্টারনেটে মাদক বেচা কেনার জন্য সবচেয়ে বড় মঞ্চে পরিণত হয়েছিল. বিভিন্ন লোক প্রায় ৫০০ রকমের মাদক এর মাধ্যমে বেচত. এখানে কেনা বেচার প্রধান বিনিময় মুদ্রাই ছিল বিটকয়েন, যা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সকলকেই সম্পূর্ণ বেনামে থাকার গ্যারান্টি দিতে পারে. এই সবই মার্কিন সেনেটে এই প্রসঙ্গে শুনানী হওয়ার জন্য কারণ হয়েছে. তাছাড়া বিশেষজ্ঞদের মতে পরিস্থিতি তীক্ষ্ণ হয়েও দাঁড়াতে পারে, যখন এই বিটকয়েন বেচা কেনার পরিমাণ এত বেশী হয়ে যাবে যে, তা জাতীয় মুদ্রার সঙ্গে পাল্লা দিতে শুরু করবে.