বিষয় নিয়ে মন্তব্য করেছেন ভ্লাদিমির সাঝিন.

বলা দরকার যে, ইরানের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েক বছর ধরে প্রায়ই বলা হয়ে থাকে যে, রাশিয়ার সঙ্গে আরও একটি নতুন পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নিয়ে আলোচনা হচ্ছে অথবা নির্মাণ করা নিয়ে প্রোটোকল ইতিমধ্যেই স্বাক্ষরিত হয়েছে. ২০১২ সালের মার্চ মাসে রসঅ্যাটম সংস্থার প্রধান সের্গেই কিরিয়েঙ্কো জানিয়েছিলেন যে, তাঁর সংস্থা ইরানে নতুন পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র তৈরী করার কোনও পরিকল্পনা নেয় নি, আর ইরানের সঙ্গে আলোচনাও করা হচ্ছে না.

এটা ঠিকই যে, দেড় বছরে অনেক কিছুই পাল্টে যেতে পারত: আর আলোচনাও শুরু হতে পারত ও প্রোটোকল স্বাক্ষরিত হতেও পারত. কিন্তু রাশিয়ার পক্ষ থেকে চুপ করেই থাকা হয়েছে. মনে তো হয় না যে, কোন বিশেষ গোপনীয়তার কারণে. খুব সম্ভবতঃ, নির্দিষ্ট কোন দলিল অবধি বিষয় এখনও পৌঁছায় নি. রাশিয়ার জ্বালানী শক্তি ও নিরাপত্তা কেন্দ্রের ডিরেক্টর আন্তন খ্লোপকভ এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই রাশিয়ার সহযোগিতায় নতুন পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রের রিয়্যাক্টর ব্লক চালু করা নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে যেটা আশা করা হয়েছে, সেটাই বাস্তব বলে স্পষ্টই দেখানোর চেষ্টা হয়েছে.

মনে করিয়ে দিই যে, ২৫শে আগষ্ট ১৯৯২ সালে ভিত্তিমূলক রাশিয়া- ইরান আন্তর্প্রশাসনিক চুক্তি যা পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র তৈরী করা নিয়ে হয়েছিল তাতে চারটি অবধি পারমাণবিক শক্তি উত্পাদক রিয়্যাক্টরের কথা বলা হয়েছে.

একই সময়ে এটাও স্পষ্ট যে, সেই চুক্তির পরে গত কুড়ি বছর কেটে যাওয়াতে প্রয়োজন পড়ছে বাড়তি আইন সংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার.

প্রসঙ্গতঃ, তারই মধ্যে ১৯৯২ সালের চুক্তি ও বুশের পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের নির্মাণ নিয়ে চুক্তির মধ্যে তিন বছর পার হয়ে গিয়েছে, যখন ১৯৯৫ সালে এই নির্দিষ্ট বিষয়ে চুক্তি করা হয়েছিল”.

আন্তন খ্লোপকভের মতে, এটা বলা যে, রাশিয়া আসন্ন সময়ে ইরানে নতুন পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র তৈরীর কাজ শুরু করতে পারে. তা সময়ের আগেই হয়ে যাচ্ছে: সেই ধরনের আইন সঙ্গত কোন ভিত্তিই নেই, কোন চুক্তিই নেই.

অন্যদিক থেকে ইরানের পক্ষ থেকে রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনায় আগ্রহের কথা জানা রয়েছে. রাশিয়া পারমাণবিক প্রযুক্তি বাজারে এক বৃহত্তম ক্রীড়নক ও এক সারি দেশে নিজেদের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে.

নিজেদের পক্ষ থেকে রাশিয়ার জন্যও ইরানের বাজার আগ্রহ জনক. আর তা শুধু রাশিয়ার জন্যই নয়. কয়েকদিন আগে জাপান তাদের পররাষ্ট্র দপ্তরের সহকারী মুখপাত্রের মুখ দিয়ে বলিয়ে সমর্থন করেছে যে, তারা ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুত প্রকল্প নিয়ে আলোচনায় ইচ্ছুক. “ইরানের পক্ষ থেকে উত্সাহ প্রকাশ করা হলে, আমরা তৈরী রয়েছি ইরানকে পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণে সহযোগিতা করতে, যদি তেহরানের পারমাণবিক পরিকল্পনার সমস্যার সমাধান হয় ও তা নিয়ে উদ্বেগ- দূর হয়, তাহলে”. তাই, কোন সন্দেহই নেই যে, তেহরানের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা কমানো অথবা তুলে নেওয়া হলে ইরানের বাজারের জন্য প্রতিযোগিতা নতুন করে জ্বলে উঠবে ও তার মধ্যে পারমাণবিক শক্তির বাজারও থাকবে.

এই বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে মস্কো শহরে স্থায়ী রাশিয়া- ইরান পরিষদ, যা আর্থ-বাণিজ্য সহযোগিতা নিয়ে করা হয়েছে, সেখানে এক প্রোটোকল স্বাক্ষর করা হয়েছে, যাতে দুই পক্ষের মধ্যে যে সমস্ত বিষয়ে সমঝোতায় আসা হয়েছে, তা লিখিত রয়েছে, আর তার মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিকের মধ্যে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি বিষয়ে সহযোগিতার কথাও রয়েছে. অংশতঃ, সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রুশ প্রজাতন্ত্র ও ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরান ১৯৯২ সালে রাশিয়া-ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত আন্তর্প্রশাসনিক সমঝোতা, যা শান্তিপূর্ণ ভাবে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার প্রসঙ্গে করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নের কাজ করে যাবে. কিন্তু এটা ছিল বলা যেতে পারে সদিচ্ছা সম্বন্ধে এক প্রোটোকল, কোন নতুন পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের জন্য চুক্তি নয়.

কোন সন্দেহই নেই যে, জ্বালানী শক্তি ক্ষেত্রে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সহযোগিতার ভবিষ্যত খুব একটা খারাপ নয় ও এরই প্রমাণ এই প্রোটোকল. আর পরবর্তী কালে দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন এখনই পড়েছে, যখন ইরান সেই নিষেধাজ্ঞার কবলেই পড়ে রয়েছে, আর মঞ্চ তৈরী করছে আগামীতে প্রতিযোগিতার লড়াইয়ের জন্য. কিন্তু আক্রমণে এগিয়ে যাওয়া – এখনও তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে.

এখন, যখন ইরানের পারমাণবিক পরিকল্পনার সমস্যা নিয়ে জটিল আলোচনা করা হচ্ছে, যখন এই দেশ নিজেদেরই যথেষ্ট রকমের গঠনমূলক অবস্থান এই সমস্যা সমাধানের জন্য না নেওয়ার ফলে কঠোর নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে রয়েছে, তখন কোন পারমাণবিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাওয়া, আর তা শান্তিপূর্ণ কারণে হলেও, খুব একটা ভেবে কাজ করতে যাওয়া বলে প্রমাণিত হত না. অংশতঃ, এটাই নেতিবাচক ভাবে আলোচনার পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলত, বিশেষ করেই “ছয় মধ্যস্থতাকারী” দেশের গোষ্ঠীতে, যারা ইরানের সঙ্গেই আলোচনায় বসেছে.

হতে পারে যে, এই দিকটাকেই মিস্টার সালেখি মনে করেছেন, যখন রাশিয়ার সাহায্যে ইরানে পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের কথা বলেছেন? একমাত্র ভবিষ্যতই তা দেখিয়ে দেবে.