২০০২ সালের অক্টোবর মাসে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সংস্থা তৈরী করা হয়েছিল আর সেখানে যোগ দিয়েছে রাশিয়া, বেলোরাশিয়া, আর্মেনিয়া, কাজাখস্থান, কিরগিজিয়া ও তাজিকিস্তান. আজ রাশিয়া যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সংস্থার ভিত্তি মূলক দেশ হিসাবে রয়েছে, যাদের কাছে আছে সবচেয়ে গুরুতর সামরিক প্রযুক্তিগত ক্ষমতা.

সেই “সমস্যামালা- ২০১৪” এর পরিপ্রেক্ষিতে একই সময়ে রাশিয়া বর্তমানে খুবই সক্রিয় শক্তি প্রয়োগ করেছে যাতে এই সংস্থায় রাশিয়ার সহকর্মী দেশগুলোর ক্ষমতাও মজবুত হতে পারে. এটা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সংস্থার সদস্য দেশগুলোর সামরিক কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও বিনা মূল্যে অস্ত্র ও প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তার মধ্যেই লক্ষ্য করা গিয়েছে. এখানেই সম্মিলিত ভাবে বাধা দেওয়া ও প্রত্যুত্তর যোগ্য কার্যকলাপের জন্য দ্রুত পরিকল্পনাকে যোগ করা যেতে পারে.

যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সংস্থার দেশগুলোর এলাকায় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য একটি মুখ্য বাস্তব ব্যবস্থা হয়েছে এই এলাকায় দেশের বাইরের ও ভিতরের সীমান্ত এলাকাকে মজবুত করা. এই প্রসঙ্গে “জাতীয় প্রতিরক্ষা” নামের জার্নালের প্রধান সম্পাদক ইগর করোতচেঙ্কো বলেছেন:

“রাশিয়ার আজ সবচেয়ে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে কাজাখস্থানের সঙ্গে আর প্রযুক্তিগত ভাবে তা যথেষ্ট রকম সজ্জিত. তাই শক্তি প্রয়োগের বিষয়ে একজোট করার কাজ মুখ্য হওয়া দরকার সেই কারণে যে, যাতে তাজিকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তকে সবচেয়ে বেশী মজবুত করা সম্ভব হয়. এখানে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সংস্থার ভেতরে একটা কিছু অসাধারণ ব্যবস্থাই নেওয়া হতে পারে, যাতে এই সীমান্ত সবচেয়ে বেশী রকম করেই ডাকাত, সন্ত্রাসবাদী ও মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য নিশ্ছিদ্র হতে পারে”.

যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সংস্থার নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরীর জন্য বিশেষজ্ঞের মতে আলাদা করে সমস্যা হয়ে রয়েছে তুর্কমেনিয়া ও উজবেকিস্তান, যে দুটি দেশ এই জোটে অংশ নেয় নি, কিন্তু আফগানিস্তানের সঙ্গে যেমন তাদের সীমান্ত রয়েছে তেমনই এই জোটের অন্যান্য দেশের সঙ্গেও রয়েছে. বিশেষ করে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি হয়ে আছে উজবেকিস্তানে, যেখানে বাস্তবেই সেই ধরনের পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে, যাতে দেশের কিছু জনগনের পক্ষ থেকে, যাদের খুবই কঠিন আর্থ- সামাজিক অবস্থার মধ্যে বেঁচে থাকতে হচ্ছে, চরমপন্থী ঐস্লামিক গোষ্ঠীদের ধারণাকে গ্রহণ করা হতে পারে. তা স্বত্ত্বেও, করোতচেঙ্কোর মতে যেমন রাশিয়া ও উজবেকিস্তান ও তুর্কমেনিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে, তেমনই যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থার কাঠামোর মধ্যে প্রয়োজন রয়েছে উদ্ভূত হুমকির মোকাবিলা করার জন্য পারস্পরিক ভাবে কাজ করার ব্যবস্থা করা.

কিন্তু রাশিয়া প্রজাতন্ত্রের জন্য সরাসরি বিপদের অনুপস্থিতি থাকায় রুশ সামরিক বাহিনীর মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর এলাকার মধ্যে কোন রকমের যুদ্ধে বা সংঘর্ষে অংশ নেওয়ার কথা হতে পারে না, এই বিষয়কে বিশেষ করে উল্লেখ করে ইগর করোতচেঙ্কো বলেছেন:

“বোঝাই যাচ্ছে যে, রাশিয়ার সৈন্যরা মধ্য এশিয়ার প্রশাসনগুলোর স্থিতিশীলতা নিজেদের রক্তের মূল্য দিয়ে বজায় রাখতে পারে না. আমাদের উচিত হবে সেই রকমের ব্যবস্থা করা যাতে তাদের নিজেদের সেনা বাহিনীই যুদ্ধপোযোগী থাকে. কিন্তু এখানে পরিস্থিতি খুবই খারাপ হয়ে দাঁড়ালে তখন যৌথভাবে দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল সামরিক শক্তি ব্যবহারের কথা ভাবতে হবে, যাতে “তালিবান”, “আল-কায়দা” ইত্যাদি গোষ্ঠীর প্রাক্তন সোভিয়েত দেশ এলাকায় অনুপ্রবেশকে আটকানো সম্ভব হয়”.

তারই সঙ্গে “সমস্যামালা – ২০১৪” সমস্ত এলাকাকেই ছুঁয়েছে, শুধু প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের মধ্য এশিয়া অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোকেই নয়. তাই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সংস্থার সম্ভাবনা মধ্য এশিয়ার আকারের তুলনায় দেখা যাচ্ছে যে অবশ্যই সীমাবদ্ধ, এই কথা উল্লেখ করে স্ট্র্যাটেজিক কাঠামো গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর ইভান কনোভালভ বলেছেন:

“জানা আছে যে, যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সংস্থার নেতৃত্ব ন্যাটো জোটকে আহ্বান করেছিল. সেখানে কথা হয়েছিল এই এলাকায় একসাথে কাজ করার জন্য. কিন্তু ন্যাটো জোটের কাছ থেকে কোন রকমের ইতিবাচক উত্তর পাওয়া যায় নি. যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সংস্থার কিছু প্রতিনিধি নেপথ্যে যেমন বলেছেন যে, ন্যাটোর লোকরা মনে করে যে, যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সংস্থা এখনও ন্যাটো জোটের মত সংগঠিত ও মজবুত কাঠামো নয়. তাই ন্যাটো জোট যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সংস্থাকে যেন উপর থেকে নীচে নজর করছে, যা একেবারেই ঠিক নয়”.

তা স্বত্ত্বেও যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সংস্থার দেশগুলো নিজেদের সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বজায় রাখতে সক্ষম আর তা উত্তর অতলান্তিক জোটের সাহায্য ছাড়াই. আর মধ্য এশিয়ার কিছু দেশের প্রতি ন্যাটো জোটের সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক আগ্রহের কথা হিসাব করলে, পশ্চিমের জোটকে কোন না কোন ভাবে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সংস্থার সঙ্গে সহকর্মী সম্পর্ক তৈরী করতেই হবে.