- অনেকগুলো ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত ধারণা রয়েছে কেনেডি হত্যা নিয়ে. তাদের মধ্যে কোনটি আপনি সমর্থন করেন, মনে করেন সবচেয়ে সম্ভাব্য?

আমি মনে করি যে, এই ষড়যন্ত্র করার পেছনে অনেকগুলো সংগঠন ও ব্যক্তি ছিল: সিআইএ সংস্থার সদস্য, মাফিয়াদের প্রতিনিধিরা ও কিউবার লোকরা, যারা কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ছিল. অনেক প্রমাণ রয়েছে যে, এই সব লোকরাই এই ষড়যন্ত্র করার পেছনে ছিল.

- অর্থাত্ আপনি মনে করেন না যে, লি হার্ভি অসওয়াল্ড একক হত্যাকারী ছিল – এটা ঠিক?

প্রমাণ রয়েছে যা নির্দেশ করে যে, অসওয়াল্ড একক বন্দুকবাজ ছিল না. আমি মনে করি যে, অসওয়াল্ড ছিল এক টোপ, তাকে তারাই বসিয়েছিল, যারা আসলে এই রাষ্ট্রপতিকে খুনের পরিকল্পনা করেছিল. আমি মনে করি যে, অসওয়াল্ড একেবারেই এই বিশাল রকমের ছকের অংশ ছিল না ও অনেকেই আমার সঙ্গে সহমত.

- দেখাই যাচ্ছে যে, কেনেডির মৃত্যু অনেকেরই সুবিধার কারণ হয়েছে, তা যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, তেমনই দেশের বাইরেও. কিন্তু রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করা থেকে কে সব থেকে বেশী সুবিধা আদায় করেছে?

লিন্ডন জনসন সবার থেকে বেশী লাভ করেছেন, এটা বোঝাই যাচ্ছে, কারণ তিনি রাষ্ট্রপতি হতে পেরেছেন. অনেকেই মনে করেন যে, তিনি নিজেই এই হত্যাকাণ্ড পরিকল্পনার পেছনে ছিলেন. আমি জোর দিয়ে বলতে পারছি না যে, এটা আসলে তাই, কিন্তু নির্দিষ্ট কিছু সূত্র এই প্রসঙ্গেও রয়েছে.

সিআইএ সংস্থার কোন সন্দেহই নেই যে, কেনেডির হাত থেকে রেহাই পাওয়ার দরকার ছিল – তারা তাঁর ওপরে অনেক কারণেই খুশী ছিল না: তাঁর রাশিয়ার সঙ্গে ঠাণ্ডা যুদ্ধের সময়ে কাজ, কিউবা রাষ্ট্রে ও কাস্ত্রোর সম্পর্কেও. সিআইএ সংস্থায় চাওয়া হয়েছিল যে, তিনি যেন কাস্ত্রোর থেকে মুক্ত হন, কিন্তু রাষ্ট্রপতি তা করেন নি. তাছাড়া, নিজের মৃত্যুর ঠিক আগেই কেনেডি ঠিক করেছিলেন দক্ষিণ ভিয়েতনাম থেকে আমেরিকার সেনা বাহিনীকে ফিরিয়ে আনবেন, আর সিআইএ তার বিরুদ্ধে ছিল. সেই কারণেই এই দপ্তরের সব রকমের কারণ ছিল কেনেডিকে সরিয়ে দেওয়ার.

মাফিয়াদেরও কেনেডিকে হত্যা করার কারণ ছিল. রাষ্ট্রপতির ভাই রবার্ট কেনেডি খুব কড়া হাতে তাদের শায়েস্তা করছিলেন, তিনি মাফিয়া সংগঠনের অনেক পাণ্ডাকে জেলে ভরেছিলেন, যদিও তারা কেনেডিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়ে জিততে সাহায্যই করেছিল. অর্থাত্ মাফিয়া সংগঠনগুলো কেনেডি ভাইদের কাজে খুব অসন্তুষ্ট ছিল.

কিউবার জঙ্গীরা, যারা কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে লড়াই করছিল, তারাও কেনেডির পতন চেয়েছিল – তাদের পছন্দ হয়নি ঠাণ্ডা যুদ্ধের বিষয়ে কেনেডির ভূমিকা ও কাস্ত্রোর কিউবা সম্বন্ধেও তাঁর সম্পর্ক.

এক কথায়, মোটিভ সকলেরই ছিল, যেমন এই সমস্ত লোকদের, তেমনই সংস্থাগুলোর.

- কেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনেট কমিটি হত্যা নিয়ে পরিষদ তৈরী করেছিল শুধু

১৯৭৬ সালে, কেনেডি হত্যার পুরো ১৩ বছর পরে?

এই কমিটি তৈরী করা হয়েছিল প্রাথমিক ভাবে সেই জন্যেই যে, ১৯৭৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশনে প্রথম দেখানো হয়েছিল জাপ্রুডারের ফিল্ম – কেনেডি হত্যা নিয়ে বিখ্যাত ছবি, যা সারা বিশ্বের বহু লক্ষ লোকই দেখেছে. এই প্রসঙ্গে মার্কিন কংগ্রেস তখন ঠিক করেছিল যে, রাষ্ট্রপতি কেনেডি হত্যা নিয়ে আবার তদন্ত করা হবে ও তার জন্য কমিটি তৈরী করেছিল. এক সময়ে জেরাল্ড ফোর্ড ওয়ারেন কমিশনের সদস্য ছিলেন, আর তিনি একেবারে নিজের মৃত্যুর দিন পর্যন্ত এই কমিশনের সিদ্ধান্তকেই জোর দিয়ে সমর্থন করে গিয়েছেন – তিনি বারবার করে বলেছেন যে, কোন ষড়যন্ত্রই ছিল না. আমি তার সঙ্গে একেবারে একমত নই, মনে করি যে, তিনি ঠিক ছিলেন না.

- আপনি কি মনে করেন, কেনেডির হত্যা আমেরিকার ইতিহাসের গতিকে কি পাল্টে দিয়েছে? যদি কেনেডি বেঁচে থাকতেন, তবে কতটা আলাদা হতে পারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস?

এই বিষয়ে আমি বই লিখেছি. এখন অবধি অনেক কথা বলা হয়েছে যে, কি পাল্টে যেতে পারত, যদি কেনেডিকে হত্যা না করা হত. আমার ব্যক্তিগত মত – আর অনেকেই তার সঙ্গে সহমত হয়েছেন যে, মূল তফাত হতে পারত ভিয়েতনামের যুদ্ধে, মনে করি যে, সেখানে সব কিছুই অন্য রকমের হতে পারত. আমি মনে করি যে, কেনেডি বেঁচে থাকলে, সেখান থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করে নিতেন. আর জনসন এর ঠিক উল্টোটাই করেছিলেন: তিনি নতুন করে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তা হেরেছিল আর ৫৮ হাজার মানুষকে হারিয়েছিল – শুধু জানা নেই কিসের জন্য.