সেই নব্বইয়ের দশকেই চিনে এই ধরনের এক সংগঠন তৈরীর কথা ভাবা হয়েছিল, তাতে নমুনা হিসাবে দেখা হয়েছিল মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা এজেন্সীকে. কিন্তু শি জিনপিনের পূর্বসুরী – জিয়ান শ্জিমিন ও হু জিনটাও এর পক্ষে সেই ধরনের আন্তর্প্রশাসনিক কাঠামো তৈরী করা অবধি সময় হয়ে ওঠে নি. সম্ভবতঃ, সেই কারণেই যে, এর জন্য প্রয়োজন ছিল যথেষ্ট রকমের রাজনৈতিক ইচ্ছার. কারণ জাতীয় নিরাপত্তা সভা তৈরী করা নিয়ে সিদ্ধান্ত সমগ্র পররাষ্ট্র নীতি ও শক্তি প্রয়োগে সক্ষম দপ্তরগুলোর সকলকেই স্পর্শ করবে, তার মধ্যে দেশের সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বও থাকবে.

জাতীয় নিরাপত্তা সভা তৈরীর ধারণাকে আবার করে বাঁচিয়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উত্সাহের বিষয় হয়েছে পররাষ্ট্র সংক্রান্ত পরিস্থিতি. চিনের অর্থনীতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গেই ও গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের বিশ্বে প্রভাব বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র নীতিতেও অস্থিতিশীলতার কারণগুলো বেড়ে উঠেছে. এটাই অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে চিনের সম্পর্কের বিষয়কে কর্কশ করে তুলেছে, আর তারই সঙ্গে খুবই স্পষ্ট করে সেই সমস্ত হুমকিও মাথা চাড়া দিয়েছে, যেমন সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার, সীমান্ত পার হয়ে আসা অপরাধের পরিমাণ. জাপানের সঙ্গে বিরোধ বৃদ্ধির সময়ে যেমন দেখা গিয়েছে যে, পররাষ্ট্র নীতি সংক্রান্ত সমস্যাগুলো দেশের ভিতরেই গণ বিক্ষোভে পরিণত হয়ে উঠতে পারে. ২০১২ সালে জাপানের বিরুদ্ধে মিছিল সমাবেশের সময়ে পর্যবেক্ষকদের একাধিকবারই মনে হয়েছে যে, দেশের সরকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে না.

আর প্লেনামের পরে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষ করে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই সভা সৃষ্টির লক্ষ্য - জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখার ব্যবস্থাকে আরও সংশোধন করা ও এই ক্ষেত্রে পরিকল্পনা তৈরী করা. “রেডিও রাশিয়াকে” দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে মস্কোর রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত এশিয়া ও আফ্রিকা ইনস্টিটিউটের ডেপুটি ডিরেক্টর আন্দ্রেই কারনেয়েভ যেমন উল্লেখ করেছেন যে, জাতীয় নিরাপত্তা সভা তৈরীর সিদ্ধান্তের কথা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে “সামাজিক নিয়ন্ত্রণের স্তরে উন্নয়ন” সংক্রান্ত কাজকর্মের তালিকা দেওয়ার অব্যবহিত পরেই, “সামাজিক পারস্পরিক বিরোধ নিরসনের জন্য ফলপ্রসূ অগ্রিম কাজকর্মের ব্যবস্থা সৃষ্টি” প্রসঙ্গে. এটা রাশিয়ার বিশেষজ্ঞের মতে সেই বিষয়েই বলে দিচ্ছে যে, নতুন কাঠামোর কাজের প্রথম সারিতে চলে আসছে দেশের আভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কাজ গুলোই. তাই আন্দ্রেই কারনেয়েভ বলেছেন:

“কোন গোপনীয় খবর নয় যে, বিগত বছরগুলোতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ব্যবস্থা সমালোচনার সম্মুখীণ হয়েছে. তা লক্ষ্য করে করা হয়েছে, যাতে দেশে তীক্ষ্ণ পরিস্থিতিকে সামাল দেওয়া সম্ভব হয়, আর এটা সব সময়ে ফলপ্রসূ ছিল না. বর্তমানে থাকা ব্যবস্থা সেই কারণেই সমালোচিত হয়েছে যে, সেখানে প্রথমে উঠে এসেছে চাপ দেওয়ার পদ্ধতিগুলো, অথচ সেই সমস্ত পরিস্থিতি গুলোকে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্লেষণ করা ও তার থেকে বোঝার চেষ্টা যে, কেন ও কি প্রতিবাদ সৃষ্টি করেছে, তা কখনও আগে করা হয় নি – তা সে পরিবেশ সংরক্ষণের প্রশ্নেই হোক অথবা চাষীদের জমি কেড়ে নেওয়াই হোক অথবা প্রশাসনিক ক্ষমতার অপ প্রয়োগই হয়ে থাকুক”.

আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রশ্নে বর্তমানের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজকর্মের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়ে প্রশাসন যে খুশী হতে পারছে না, তার ইঙ্গিত অনেকদিন আগেই পাওয়া গিয়েছিল. সবচেয়ে শেষ ও ভয় পাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছিল যখন একেবারে বেজিংয়ের কেন্দ্রে তিয়ান আন মেন স্কোয়ারে সন্ত্রাসবাদী কাজ হয়েছে. এখানে বলা যায় না যে, এটাই জাতীয় নিরাপত্তা সভা সৃষ্টির কারণ হয়েছে, কিন্তু এটাই বোধহয় একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যে বহু শাখা প্রশাখায় প্রসারিত শক্তি প্রয়োগের দপ্তর এবারে খুবই গুরুতর ভুল করতে শুরু করেছে.

নতুন কাঠামো তৈরী হওয়া চিনের কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে আরও বেশী সাহসী ভাবে নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যবস্থাকে সংশোধনের প্রচেষ্টা বলেই মনে হয়েছে, যা চিনে রাজনৈতিক ক্ষমতার অস্তিত্বকেই স্পর্শ করে. খুবই আগ্রহের হল যে, কে এই নতুন ব্যবস্থায় প্রধান হবেন. এটা অবশ্যই কোন খুবই উঁচু পদের নেতা হবেন – কারণ এই সভার এক্তিয়ারে বেশ কয়েকটি দপ্তরের কাজকর্মের যোগাযোগের বিষয় পড়বে – সামাজিক নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়, জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়. সম্ভবতঃ এই সভার নেতৃত্ব শি জিনপিন নিজেই দেবেন. খুব সম্ভবতঃ, জাতীয় নিরাপত্তা সভা একটা রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের যৌথ সংস্থা হতে চলেছে, যেমন এখন আছে কেন্দ্রীয় সামরিক সভা. এটা অন্যান্য দেশের একই রকমের দপ্তরগুলোর মধ্যে যোগাযোগ সহজ করবে, যেমন রাশিয়ার সঙ্গেও, যেখানে জাতীয় নিরাপত্তা সভা, বর্তমানের রূপে রয়েছে ১৯৯২ সাল থেকেই.