আবার করে বিদেশী মুদ্রা নিয়ে লড়াই করতে বাধ্য করেছে অসন্তোষ উদ্রেককারী সংখ্যা তত্ত্ব ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের আরও একটি পূর্বাভাস. তাদের মূল্যায়ণ অনুযায়ী বিশ্বের গড় বার্ষিক উত্পাদনের হার কমে যাবে, উন্নত দেশগুলোতে মূল্য বৃদ্ধি গ্রহণযোগ্য স্তরের চেয়ে উপরেই থাকবে. এই ধরনের পরিপ্রেক্ষিতে বিনিয়োগ করাও কোন রকমের আগ্রহের সঞ্চার করে না. যেমন বলা হয়ে থেকে –অর্থ নেই মানে অর্থনৈতিক উন্নতিও নেই. আর যাতে পরিসংখ্যান উন্নত করা সম্ভব হয়, তাই ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক বাধ্য হয়েছে তাদের মুদ্রা সংক্রান্ত নীতিকে লঘু করতে, কারণ অক্টোবর মাসে ডলারের পরিপ্রেক্ষিতে সারা ইউরোপের ঐক্যবদ্ধ মুদ্রা ইউরো ডলারের তুলনায় সবচেয়ে বেশী দামী হয়ে ২০১১ সালের সবচেয়ে বেশী দামকে ছুঁয়েছে.

ইউরোপের নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে গত সাত দিনে যোগ দিয়েছে বেশ কয়েকটি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক. তাদের মধ্যে প্রথম – নিউজিল্যান্ডের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক. সেখানের নিয়ন্ত্রক ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তাঁরা দেশে সুদের হার বাড়ানো নিয়ে এখনও কিছুদিন দেরী করতে তৈরী আছেন, কারণ দেশের জাতীয় মুদ্রার বিনিময় মূল্য খুবই বেশী, যা কমানো দরকার. একই ধরনের সাবধান বাণী নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মুদ্রা প্রশাসনও বক্তব্য রেখেছে. এই ধরনের কাজ নতুন ধরনের ঝুঁকির সামনে উপস্থিত করতে পারে বলে সাবধান করে দিয়ে অর্থনীতিবিদ মার্ক রুবিনশ্টেইন বলেছেন:

“বিনিময় মুদ্রা নিয়ে লড়াই আমরা নিয়মিতই দেখতে পাই. সেই গুলি আমাদের বিশ্বের নানা জায়গায় জ্বলে ওঠে, আর এটা প্রাথমিক ভাবে বিভিন্ন রকমের আভ্যন্তরীণ অনুপাতের অভাবের জন্যই উদ্ভব হয়, যা বিশ্বের নানা অর্থনৈতিক এলাকায় উদয় হয়ে থাকে. এই উপায় আগেও ব্যবহার করা হয়েছে, করা হচ্ছে ও তা করা হবেও. কিন্তু এটার একটা নেতিবাচক দিকও রয়েছে. যদি কোন মুদ্রা খুবই দ্রুত ও অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে, তবে এর ফলে খুবই বড় রকমের মূল্যবৃদ্ধি হতে পারে, যা একই সঙ্গে অর্থনীতির জন্যই একটা নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আসে”.

একটি মুদ্রার মুদ্রাস্ফীতির অর্থ অন্য একটি মুদ্রার বিনিময় মূল্য কমা. এই প্রক্রিয়া একটা শৃঙ্খলাবদ্ধ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে: একদল দেশের পক্ষ থেকে নিজেদের জাতীয় মুদ্রার বিনিময় মূল্য কমানো অন্য দেশগুলোর তরফ থেকেও প্রত্যুত্তরে পদক্ষেপের ব্যবস্থা করে দেবে. এটা আপনা হতেই আন্তর্জাতিক কারবারের পরিমাণকে কম করে দিতে পারে, অথবা এমনকি আন্তর্জাতিক মুদ্রা ব্যবস্থাকেই ডুবিয়ে দিতে পারে. এরই উদাহরণ – ব্রেটন-উড বিনিময় মুদ্রা নীতি, যা কাজ করেছিল ১৯৪৪ সাল থেকে ৭০ এর দশকের শুরু অবধি. তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই নীতিকে অস্বীকার করেছিল ও ডলারের সঙ্গে সোনার দামের তুলনা থেকে বিরত হয়েছিল.