মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে তাড়াহুড়ো করে গুপ্তচর বিরোধী আইনের সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে, তাতে কোন কিছুই অবাক হওয়ার মতো নেই, এই রকম মনে করে রাশিয়ার রাজ্যসভার সদস্য রুসলান গাত্তারভ বলেছেন:

“একটা প্রচলিত বচন রয়েছে: “জয়ী হতে না পারলে – নেতৃত্ব দাও!” ওরা সেই ভাবেই সমস্যাকে সমাধান করতে চাইছে, যা স্নোডেনের জন্যই আজ বাস্তবে পরিণত হয়েছে: তা যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে সারা বিশ্বের উপরে আর এমনকি নিজেদের জোট সঙ্গীদের উপরেও নজরদারি করা, তেমনই এই জোটসঙ্গীদের আবার নিজেদেরই জনগনের উপরে আড়িপাতা. ইউরোপের লোকরা নিজেদের দেশের লোকের উপরে নজর রাখছে, আর তারপরে সেই তথ্য তুলে দিচ্ছে আমেরিকার লোকদের হাতে. এটা মানবাধিকারের সনদের এক অত্যন্ত ন্যক্কারজনক লঙ্ঘণ, এই সব দেশের সংবিধানেরও আর ব্যক্তিগত তথ্য সংক্রান্ত আইনের ক্ষেত্রেও. আর সিদ্ধান্ত যা নেওয়া হতে চলেছে- তা হল আমেরিকা ও ইউরোপের পক্ষ থেকে নিজেদের মুখ রক্ষার প্রচেষ্টা, নিজেদের জনগনকে দেখানো যে, তারা গুপ্তচর বৃত্তির বিরুদ্ধে”.

রাশিয়া তা স্বত্ত্বেও, ইতিমধ্যেই এই দলিল নিয়ে আলোচনার সময়ে নিজেদের অংশগ্রহণের ইচ্ছার কথা জানিয়ে দিয়েছে. রাষ্ট্রসঙ্ঘে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিনের কথামতো, এই উদ্যোগ মস্কোর জন্য আগ্রহের বিষয়. কিন্তু এই সিদ্ধান্তে নিজেদের পক্ষ থেকে লিখিত সংযোজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয় নি. কারণ আপাততঃ স্পষ্ট নয়, সেখানে ইলেকট্রনিক গুপ্তচর বৃত্তির বিরুদ্ধে কোন নির্দিষ্ট ব্যবস্থার কথা বলা থাকবে কি না, নাকি আবারও এটা হবে একটা “সদিচ্ছার ঘোষণা মাত্র”.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের সিদ্ধান্ত একটা পরামর্শ মূলক চরিত্র বহন করে. সুতরাং তা পালন করা বাধ্যতা মূলক নয়. আর ওয়াশিংটন নিয়ে যা বলা যেতে পারে তা হল যে, সেখানে বহুদিন হল শুধু রাষ্ট্রসঙ্ঘের পরামর্শই নয়, এমনকি আন্তর্জাতিক অধিকারের ভিত্তি সংক্রান্ত নিয়মই পালন করা বন্ধ হয়েছে. জার্মানীর সংবাদ মাধ্যম, এই গুপ্তচর বৃত্তি সংক্রান্ত স্ক্যান্ডাল নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে উল্লেখ করেছে: জার্মানীর চ্যানসেলারের উপরে নজরদারি আর অন্যান্য মিত্রসুলভ দেশের নেতাদের উপরে নজরদারি খুবই ভাল রকম ভাবে এই ছবিতে যোগ হয়েছে, যা বহুদিন ধরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দেখতে পাওয়া গিয়েছে. যখন কথা হয়ে থাকে সত্যিকারের অথবা নিরাপত্তা বিষয়ে কোন রকমের হুমকির আঁচের, তখন জাতীয় স্বার্থে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র না মিত্রকে, না শত্রুকে, না বিবেককে, না আইনকে কোন রকমের পাত্তা দিয়ে থাকে.