চলমান হাসপাতালের চিকিত্সক দলের মধ্যে নানা রকমের বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন তাদের মধ্যে প্রাথমিক ভাবে আছেন শল্য চিকিত্সক, বিবশ করার বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা, পুনরুজ্জীবিত করতে পারেন এমন লোকরা, আরও আছেন জেনারেল ফিজিসিয়ান বিশেষজ্ঞরাও. একেবারেই মাঠ ঘাটের মধ্যে এই চলমান হাসপাতালের যান্ত্রিক ব্যবস্থা সবচেয়ে কঠিন শল্য চিকিত্সা করার সুবিধাও করে দিতে পারে. কিন্তু এবারে বেশী করেই দরকার হতে পারে মহামারী বিশেষজ্ঞদের, এই রকম মনে করেন একাধারে চিকিত্সক ও বায়োফিজিসিস্ট নেল্লি সসেদোভা. কারণ যে রকম ভাবে “হাইয়ান” ঘূর্ণিঝড়ে ধ্বংস হয়েছে, তাতে সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যেতেই পারে, তাই তিনি বলেছেন:

“পানীয় জলের অভাব মানুষকে বাধ্য করে যে কোন ধরনের উত্স খুঁজে পেতে. যদি তাতে রোগ উদ্রেককারী ভাইরাস থাকে, তবে কোন সন্দেহ নেই যে, তা বিপজ্জনক হবে. আমি মনে করি যে, এই বিষয়ে সমান্তরাল ভাবেই কাজ করা দরকার. বিপজ্জনক হল সেই ধরনের সংক্রমণ, যা জমি থেকে গবাদি পশুর কবর ও জল নিকাশী ব্যবস্থার থেকে হতে পারে. এই গুলোই সংক্রামক রোগ ছড়ানোর উত্স”.

উল্টো পথে বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের বিমানে সেই সমস্ত রুশী লোকদের নিয়ে আসা হবে, যারা ফিলিপাইনস ছেড়ে চলে আসতে চাইবেন, এই কথা রেডিও রাশিয়াকে রাজধানী ম্যানিলা শহরের রুশ দূতাবাসের তৃতীয় সচিব আলেক্সেই ইল্লিউভিয়েভ জানিয়েছেন. তিনি আরও যোগ করেছেন যে, ফিরে আসার সময়ে এই বিমান রাশিয়ার ক্রাসনোইয়ারস্ক ও অন্যান্য শহরেও নামতে পারে, ফলে যাদের ফেরার টিকিট নিয়ে অসুবিধা রয়েছে ও সঙ্গে নিয়ে যাওয়া অর্থও ফুরিয়ে এসেছে, তাদের সুবিধা হবে. তবে তিনি আরও বলেছেন যে, প্রায় জনা পঞ্চাশেক রুশী নাগরিক ফিলিপাইনসে বর্তমানে বিশ্বের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন, অনেকেই এখানে দ্বীপ গুলির মধ্যে বিমান চলাচল চালু হওয়া সুযোগ পেয়ে ম্যানিলাতে এসে দেশে ফিরে যাচ্ছেন, আর কয়েকজন এখন ঠিক করেছেন সেখানেই ছুটি কাটাবেন, কারণ অনেক হোটেলেই জল ও বিদ্যুত সরবরাহ চালু হয়েছে. তবে সঠিক করে বলা যাচ্ছে না যে, কতজন রুশী নাগরিক সেই দেশে রয়েছেন, কারণ অনেকেই দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন নি.

তারই মধ্যে ফিলিপাইনসে এক ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে আসছে, যা আরও একটি বিশাল ঝড়ে পরিণত হতেই পারে. সেই দেশের আবহাওয়া দপ্তরের খবর অনুযায়ী এই সাইক্লোন, যাকে নাম দেওয়া হয়েছে “জোরাইদা”, তা সেই প্রবল ঘূর্ণিঝড় “হাইয়ান” যে পথ দিয়ে গিয়েছে, সেখান দিয়েই আবার করে যেতে পারে. আর যদি তা হয়, তবে এই বিপর্যয়গ্রস্থ এলাকায় ত্রাণ কর্মীদের কাজ করাও কঠিন হতে পারে. মনে করিয়ে দিই যে, “হাইয়ান” হিসাব অনুযায়ী ২৪তম ঘূর্ণিঝড়, যা এই ফিলিপাইনস দ্বীপপূঞ্জের উপরে আছড়ে পড়েছে. এই ঝড়ের কেন্দ্রে হাওয়ার গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ২৭৫ কিলোমিটারের বেশী, আর ঝড়ের দমকা হাওয়া একেক সময়ে ঘন্টায় ৩১০ কিলোমিটারের চেয়ে বেশী গতিতে ছুটেছে. এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছে এখনও অসমর্থিত তথ্য অনুযায়ী প্রায় দশ হাজারেরও বেশী মানুষের জীবনকে.