এই ঘটনার অনন্য ভিডিও বিশ্বের সমস্ত টেলিভিশন চ্যানেল দিয়েই উড়ে এসেছে. আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের ল্যাবরেটরীর বিশেষ জানলা খুলে যাচ্ছে আর রাশিয়ার মহাকাশচারী ওলেগ কোতভ মহাকাশের অসীমে বেরিয়ে আসছেন. তাঁর হাতে রয়েছে সোচী- ২০১৪ অলিম্পিকের মশাল. তিনি এই মশাল নেড়ে বিশ্বের সমস্ত মানুষকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন. মশাল রিলে করে তাঁর হাত থেকে নিচ্ছেন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের ইঞ্জিনিয়ার সের্গেই রিয়াজানস্কি. এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত ছবি তুলে রাখছে স্টেশনের বাইরের দিকে আটকানো ভিডিও ক্যামেরা, যা রাখা হয়েছে একটা তাপ ও চাপ সহ্য করতে সক্ষম বাক্সে করে.

অলিম্পিকের মশাল খোলা আকাশে ছিল প্রায় এক ঘন্টার মতো. মহাকাশচারীরা কয়েকবার এই মশাল একে অপরকে দিয়েছেন, মাঝে কিছু সময়ের জন্য থেমে, যাতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন ও পৃথিবীকে প্রেক্ষাপটে রেখে ছবি তোলা যায়. তারপরে মশাল স্টেশনে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, আর মহাকাশচারীরা তাঁদের কাজ চালিয়ে গিয়েছেন.

অলিম্পিকের মশালকে খোলা মহাকাশে বের করে নিয়ে আসা প্রযুক্তিগত ভাবে একটা জটিল কাজ, সেই অন্য সমস্ত রকমের কাজের মতই, যা মহাকাশে অভিযানের সঙ্গে জড়িত. সেখানে কি করা হবে তার রুটিন লেখা ছিল প্রায় প্রতি সেকেন্ড হিসাব করেই. সেখানে যা কিছু হচ্ছে, তার উপরে পৃথিবী থেকে লক্ষ্য রাখা হয়েছে, রাশিয়ার মস্কো উপকণ্ঠের শহর করলিয়েভ থেকে, যেখানে মহাকাশ গবেষণার নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র রয়েছে.

খোলা মহাকাশে বের হয়ে আসার সময়ে মশাল একটা দড়ি দিয়ে খুবই ভরসার উপযুক্ত ভাবেই আটকানো ছিল, আর ওলেগ কোতভ যেমন পরে বলেছেন যে, তাঁর জন্য সবচেয়ে মুখ্য কাজ ছিল যে, মশাল যেন উন্মুক্ত মহাকাশে হারিয়ে না যায়, তাই তিনি বলেছেন:

“যে কোন জিনিষই, যে কোন যন্ত্র, হাতিয়ার, যা উন্মুক্ত মহাকাশে বার করে নিয়ে আসা হয়, তা খুবই ভরসার উপযুক্ত ভাবে আটকে রাখতে হয়. কারণ সেগুলো হারিয়ে ফেলার সম্ভাবনা খুবই বেশী – একবার শুধু ছেড়ে দিলেই হয়, তা সঙ্গে সঙ্গেই দূরে চলে যাবে. খুবই প্রয়োজন ছিল, যাতে এটা অলিম্পিকের মশালের সঙ্গে না হয়”.

অলিম্পিকের এই রিলে রেসের মহাকাশ অংশের একটা আরও বিশেষত্ব ছিল. মশাল জ্বালানো ছিল না. খোলা মহাকাশে, অক্সিজেনের অভাবে আগুন জ্বলতে পারে না. আর আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে তা জ্বালানো হয়নি নিরাপত্তার কথা ভেবেই. কিন্তু এই মশাল তাও জ্বালানো হবে. তার থেকেই ২০১৪ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারী সোচী শহরে দ্বাদশ শীত অলিম্পিকের উদ্বোধনের সময়ে স্টেডিয়ামের মূল মশালটি জ্বালানো হবে.

সোমবারেই মহাকাশ থেকে এই মশাল পৃথিবীতে ফিরে এসেছে. সোচী – ২০১৪ সালের আয়োজক কমিটির প্রতিনিধিরা তা মাটিতে নেমে আসা সইউজ মহাকাশযানের কম্যান্ডার ফিওদর ইউরচিখিনের কাছ থেকে ক্যাপস্যুলের পাশেই পেয়েছেন.