মন্তব্য করেছেন আমাদের সমীক্ষক ভ্লাদিমির সাঝিন.

এই ধরনের কূটনৈতিক সক্রিয়তা একটি বিষয়েরই সাক্ষ্য দেয় – ইরান ও তাদের বিরোধীরা সত্যই তৈরী রয়েছে ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সমস্যা সমাধান করার জন্য, যা বিগত দশকে বিশ্ব রাজনীতির এক প্রধান বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে. এখন দুই পক্ষের থেকেই ইতিবাচক ফলের দিকে অগ্রসর হতে চাওয়াকে সমর্থন করে হঠাত্ করে জেনেভা শহরে নিজেদের বাকী সমস্ত কাজ বন্ধ রেখে ছয় মধ্যস্থতাকারী দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীরাই আলোচনায় উপনীত হয়েছিলেন. এটাও খুব একটা কম গুরুত্বপূর্ণ নয় যে, ইরানের রাজধানীতে গুরুত্বপূর্ণ দলিল স্বাক্ষর করতে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধান ইউকিও আমানো.

জানাই রয়েছে যে, তেহরানের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সমাজের সঙ্গে আলোচনা দুটি কাঠামোতেই করা হচ্ছে: “ছয় মধ্যস্থতাকারী” পক্ষের দেশ গুলি রাজনৈতিক- স্ট্র্যাটেজিক প্রশ্ন নিয়ে কাজ করছে, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা – নির্দিষ্ট প্রযুক্তি সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে. প্রাথমিক ভাবে ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের পারমাণবিক কাজ কারবার নিয়ে সংস্থার পক্ষ থেকে নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন. বোঝাই যাচ্ছে যে, এই দুটি আলোচনার ফরম্যাট একে অপরের সঙ্গে জড়িত. তাই বর্তমানের এই দুটি ফরম্যাটে পক্ষদের সক্রিয়তা ও তেহরানের সাফল্য ইতিবাচক মানসিকতার লোকদের মনে একটা বিশ্বাস এনে দিয়েছে যে, এর পরে ঘটনা পরম্পরা ভালোর দিকেই যাবে. এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানী ও নিরাপত্তা কেন্দ্রের ডিরেক্টর আন্তন খ্লোপকভ বলেছেন:

“গত সপ্তাহে জেনেভা আলোচনার কাঠামোর মধ্যে যে সমস্ত সমঝোতায় পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে, তা বিগত পাঁচ- ছয় বছরে যত আলোচনা হয়েছে, তাদের সম্মিলিত ফলাফলের চেয়ে অনেক বেশী করেই গুরুত্বপূর্ণ ও তাতে অনেক গভীরতাও রয়েছে. এই পরিপ্রেক্ষিতে কোন সন্দেহই নেই যে, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রগতি.

এটাও সত্যি যে, সেই বাস্তব বিষয়ও একটা উদ্বেগের সৃষ্টি করে যে, এখানে দুই পক্ষের সম্ভব হয় নি কোন রকমের সমঝোতায় পৌঁছে চুক্তি স্বাক্ষর করার. কিন্তু সেই সম্ভাবনাও বাদ দেওয়া যায় নি যে, এটা খুবই আসন্ন আগামী দু’সপ্তাহ সময়ের মধ্যেই করা হতে চলেছে”.

এটাও ঠিক যে, জেনেভা শহরে আপাততঃ সম্মিলিত দলিল গ্রহণ করা সম্ভব হয় নি. কিন্তু এটা কোন বিপর্যয় নয়. সুইজারল্যান্ডে সম্মিলিতভাবে কাজ করার একটা ভিত্তি তৈরী করা সম্ভব হয়েছে, যাতে ইরানের পারমাণবিক সমস্যাকে একে অপরকে জানিয়ে সমাধান করাই সম্ভব হয়. বর্তমানে চালু একটা বাক্যবন্ধ পথ নির্দেশ নামের কথাটি ব্যবহার করে বলা যেতে পারে যে, এখানে মুখ্য দিকগুলোকে নির্দেশ করা সম্ভব হয়েছে অথবা সহজ করে বললে পরবর্তী কাজকর্মের পরিকল্পনা করা গিয়েছে. আর সেই দলিল খুব সম্ভবতঃ জেনেভা শহরে ২০শে নভেম্বর তৈরী হয়ে যেতে চলেছে.

কিন্তু অতি আশাবাদী লোকদেরও শান্ত করার প্রয়োজন রয়েছে. এমনকি এই দলিল তৈরী হয়ে গেলেও, যা সম্ভবতঃ সেই জেনেভা শহরেই এক পথ নির্দেশ বলেই গৃহীত হতে চলেছে আর ইতিমধ্যেই ইরান ও আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার মধ্যে তেহরান শহরে সমঝোতা পত্র মোটেও সম্পূর্ণ ও শেষ হয়ে যাওয়ার মত করে ইরানের পারমাণবিক সমস্যা সমাধান করবে না. সেটা খুবই জটিল, তা যেমন রাজনৈতিক দিক থেকে, তেমনই স্রেফ যান্ত্রিক দিক থেকেও. এখানেও সময় দরকার.

এখানে খুশীর ব্যাপার হল যে, ছয় মধ্যস্থতাকারী দেশের পররাষ্ট্র দপ্তরগুলোর প্রধানরা ও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রীও একমত হয়েছেন যে, ইরানের পারমাণবিক সমস্যা সমাধান করা নিয়ে কাজ করা হবে ধাপেধাপে ও পারস্পরিক ভাবে করার নীতি মেনেই (লাভরভের স্টেপ বাই স্টেপ নীতি). এখানে জটিলতা রয়েছে পক্ষ গুলির একে অপরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য পদক্ষেপের মূল্য নিয়েই. ইরানের উপর থেকে কোন ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে অথবা তা কম করা হবে, যেমন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার বিষয়ে শতকরা কুড়ি শতাংশ থেকে কম করা হলে? কে আগে পদক্ষেপ নেবে? এখানে দরাদরি হবে খুবই কড়া. কিন্তু এটা ইতিমধ্যেই ভাল যে, এই ধরনের দরাদরি যে হবে এটার মানে হল যে, দরাদরি করার বিষয় ইতিমধ্যেই স্থির করা গিয়েছে.

কোনই সন্দেহ নেই যে, আজ তেহরানে গৃহীত দলিল জেনেভায় আসন্ন আগামী সম্মেলনের সাফল্যে সাহায্য করবে. ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরান ও আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি, যাতে ছ’টি মূল বিষয় রয়েছে, তা বাকী সমস্যা সমাধানের জন্য দ্বিপাক্ষিক পদক্ষেপগুলো নির্দিষ্ট করে দেবে. এই প্রসঙ্গে আলি আকবর সালেখি ঘোষণা করেছেন: “যে চুক্তিতে পৌঁছনো গিয়েছে, তা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র গুলোতে পর্যবেক্ষণ করতে যেতে পারে. এই সংস্থা আরাকে ভারী জলের রিয়্যাক্টর দেখতে যেতে পারে ও তারই সঙ্গে গাচিন শহরে ইউরেনিয়াম খনিও দেখতে যেতে পারে”.

নিজের পক্ষ থেকে শ্রী আমানো নির্দিষ্ট করে বলেছেন: “বাস্তব ব্যবস্থা, যা এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, তা কার্যকরী করা হবে আজকের দিন থেকেই শুরু করে আগামী তিন মাস সময়ের মধ্যে”.

এটাই দ্রুত অগ্রগতি. কারণ মুখ্য হল যে, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা যে বিষয় নিয়ে জোর দিচ্ছে – তা হল সেই দেশের পারমাণবিক পরিকল্পনা নিয়ে একেবারেই স্পষ্ট থাকার ওপরে. আর তেহরানে এই দিকেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে. আমরা জেনেভা শহরে ২০শে নভেম্বর নতুন অগ্রগতির অপেক্ষা করেই থাকবো.