ওবামা প্রেসিডেন্ট পদের প্রথম মেয়াদকালের দায়িত্ব পালন শুরু করেছিলেন অনেক আস্থা নিয়েই। কংগ্রেসের উভয় পার্টি তার ওপর আস্থা রেখেছিল। ২০০৮ সালে অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে উঠতে কংগ্রেস থেকে ৮০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মন্দাবিরোধী আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করেন। আর ওই সময়ে ওবামাকে মার্কিন জনগন অনেকটাই পরিবর্তনের নায়ক বলে মনে করেছিলেন। আর ওবামা মার্কিন প্রশাসনের সব ক্ষেত্রই সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশকে দায়ী করতেন।

তবে সময়ের পরিবর্তেনর সাথে সাথে কংগ্রেস একসময়ে ওবামার এ কর্মকান্ডের বিরোধীতা করতে শুরু করেছে। কারণ পরবর্তিতে জানা গেছে যে, আমেরিকার সমস্যার জন্য শুধুমাত্র বুশ নিজেই দায়ী ছিলেন না। এখানে উল্লেখ করা যায় যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওমাবা মার্কিনিদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা খাত সংস্কার করার মধ্য দিয়ে সুফল বয়ে আনার চেষ্টা করলেও এর ফলে মধ্যভিত্তরা নতুন স্বাস্থ্য বিমা না পাওয়ায় তাদের পুরানো স্বাস্থ্য বিমা হারাতে বাধ্য হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কলরোডা রাজ্যের সবার জন্য সুস্বাস্থ্য তহবিলের পরিচালক ডোনি স্মিথ বলেন, "আমাদের স্বাস্থ্যসেবার যে অংশ নিয়েই কথা বলা হোক না কেন সেখানেই ব্যাবসায়িক উদ্দেশ্য আমরা দেখতে পাবো। যেমন স্বাস্থ্য বিমা কোম্পানী, ঔষধ কোম্পানী ও চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সরবরাহ ইত্যাদি। এসব কিছু রোগীর কাছ থেকে অর্থ আদায় করার কৌশল বরং রোগীর স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য নয়।"

তবে ওবামাকে অন্য কারণে ধন্যবাদও জানানো উচিত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার স্বাক্ষরিত নতুন আইনের কারণে স্বাস্থ্য বীমা বাতিলের জন্য কয়েক আমেরিকানদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তবে নিজের ভুল কূটনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য ওমাকে খুব একটা ক্ষমা চাইতে দেখা যায় না।

আর অন্যদিকে পাঁচ বছরে ওবামা আরব বিশ্বে নিজের ভাবমূর্তি হারিয়েছে। কিন্তু রাশিয়ায় অনেক আশা রয়েছে। আরব বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন এবং মস্কোর সাথে সম্পর্কের পুনঃসূচনা করেছিলেন এবং গুনতামালায় মার্কিন কারাগার বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ইরাক থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নিয়েছেন। সন্ত্রাসদমনের নাম করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার যে নীতি বুশ অবলম্বন করেছিলেন সেখান থেকে ওবামা সড়ে আসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন কায়রোতে নিজের দেওয়া স্মরনীয় ভাষণে।

তবে লিবিয়া ও সিরিয়া যুদ্ধ আবার প্রমাণ করলো যে যুদ্ধ ছাড়া মার্কিন সামরিক শিল্প বেঁচে থাকতে পারেনা। এর থেকেও আরো খারাপ দিক হচ্ছে যে, মার্কিন গণমাধ্যম যুদ্ধ ছাড়া বাঁচতে পারেনা। তাদের সবসময়ে কাউকে না কাউকে চাপের মুখে রাখা চাই। তা হয়তো লিবিয়াদের, সিরিয়ানদের, ইরানিদের অথবা রাশিয়ার নেতাদের। মার্কিনীদের এই কর্মকান্ড যেন ঠিক হলিউডের ছবির মত। যেমন শক্রু বন্ধ থাকলে; আপনার ভাল বন্ধু থাকবে। লিবিয়ায় ও সিরিয়ায় ভাল বন্ধুদের মধ্য থেকেই কখনো বা তা আল-কায়দাসহ অন্যান্য সন্ত্রাসীর মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে। আর ওবমা হলিউডের এমন চিত্রপটের মধ্যে একরকম বন্ধি হয়ে পড়েছেন।

গত ১৫ বছরে আমেরিকা অনেকগুলো যুদ্ধে অংশ নেয়ায় দেশটি কার্যত যুদ্ধ থেকে এখন মুক্তি পেতে চাচ্ছে। এমনটি বলছেন কংগ্রেসম্যান টেড ক্রুজ। রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন, "সিরিয়া যুদ্ধে অংশ নেওয়া ৯টি বিদ্রোহী দলগুলোর ৭টি দলকে পরিচালনা করছে উগ্রবাদী ইসলামিক জঙ্গিরা। এছাড়া একটি সাধারণ নিয়ম বজায় রয়েছে এবং তা হচ্ছে- যারা আপনাকে সহ্য করতে পারেনা তাদের হাতে অস্ত্র সরবরাহ করা ঠিক না।"

সিরিয়া ও লিবিয়ায় গৃহযুদ্ধ, ইয়েমেনে একের পর এক মার্কিন ড্রোন হামলায় বেসামরিক মানুষদের হত্যা, আরব বিশ্বের উপজাতিদের গুয়াতেমালায় বন্ধি করে রাখা এবং যেখান থেকে মুক্তি পাওয়ার পর মার্কিনীদের বিরুদ্ধে ভায়াবহ সন্ত্রাসী রুপে গড়ে ওঠে। এসব কিছুই কায়রোতে ওবামার দেওয়া আশ্বাসের সাথে সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সামগ্রিক দিক বিবেচনা করলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য বারাক ওবামার ভাবমূর্তির জন্য আরো একটি সমাধিতে পরিণত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বাদ দিলেও অন্য দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের তেমন সুখকর অবস্থান নেই। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে নিয়মিত ড্রোন হামলা এবং মস্কোর সাথে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন থামিয়ে দেয়া। আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতাদের টেলিফোনে আড়িপাতা যা নতুন করে মার্কিন প্রশাসনকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে।