চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মিখাইল বাগদানোভ ও গেনাদি গাতিলোভ জেনেভায় মার্কিন সহকর্মী উয়েনদী শেরমান ও কবর্ট ফারদোমের সাথে সাক্ষাত করেছেন। জেনেভা-২ শান্তি সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠককে স্বাগতম জানিয়েছেন সিরিয়া বিষয়ক জাতিসংঘ ও আরব লীগের বিশেষ প্রতিনিধি লাখদার ব্রাহিমি।

তিন পক্ষকে নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে কূটনীতিকরা জেনেভা-২ সম্মেলনের জন্য আমন্ত্রণপত্রের ভাষা চূড়ান্ত করেছেন। তবে জেনেভা সম্মেলন ডিসেম্বরের আগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না তা ইতিমধ্যে সংবাদে জানানো হয়েছে। সম্মেলন পিছানোর অন্যতম কারণ হচ্ছে সিরিয়ার বিরোধী জোটের সাথে ঐক্যমতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায়। আগামী ২৫ নভেম্বর রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র-জাতিসংঘের পরবর্তি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের কাছে অবশ্য এমন চিত্রপট খুব একটা আশ্চর্যের বিষয় ছিল না। সিরিয়ার বিদ্রোহীদের অন্যতম সংগঠন ফ্রি সিরিয়ার আর্মি যা সশস্ত্র একটি দল হিসেবে পরিচিত তাদের অনেকেই নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।

সিরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশগুলোর মধ্যে সম্মেলনে অংশগ্রহণ করা নিয়ে কোন অভিন্ন মতাদর্শ নেই। যেমন জেনেভা সম্মেলনে যদি তেহরান থেকে প্রতিনিধি উপস্থিত থাকে তাহলে সিরিয়ার বিরোধী জোট এতে অংশ নিবে না। বিশ্বশক্তিদের আরো বেশি কৌশলী ভূমিকা পালন করা উচিত। সিরিয়ার যেসব বিরোধী জোটের ওপর যাদের প্রভাব বেশি রয়েছে তাদেরকে সম্মেলনে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব পালন করা উচিত। এমনটি মনে করছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভ।

তবে ইরান ছাড়া জেনেভা সম্মেলন তার মূল উদ্দেশ্য হারাবে। এমনটি মনে করছেন মধ্য এশিয়া ও আরব বিশ্বের সমস্যা সংক্রান্ত ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সেমিওন বাগদাসারোভ। রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন, "সিরিয়া পরিস্থিতিতে ইরান উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখছে। মূলত সিরিয়ার সরকারকে সামরিক-প্রযুক্তি, মানসিক ও কূটনৈতিক দিক দিয়ে সহায়তা করছে। যদি সিরিয়ার বিরোধী জোটের কথা বিশ্বাস করতে হয় তাহলে সিরিয়ার ভূখন্ডে অন্তত ৬০ হাজার ইরানি সেনা যুদ্ধ করছে। শুধু তাই নয়, ইরাকে অবস্থিত ইরানি শিয়াদের স্বার্থ রক্ষায় অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তাই ইরানকে বাদ দিয়ে এ ধরণের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা শুধুই একটা প্রতিকী মাত্র।"

এদিকে সিরিয়ার বিরোধী জোটের অন্যতম মিত্রদেশ সৌদি আরব বিদ্রোহীদের যুদ্ধের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের জন্য আর্থিক সহায়তা বহুগুনে বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই সাথে ইসলামের আর্মি নামের যে সংগঠন বাশার আসাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে তাদের জন্য অস্ত্র সরবরাহ চালিয়ে যাচ্ছে। ৮ই নভেম্বর গার্ডিয়ান পত্রিকা জানায়, ইসলামের আর্মির অধিকাংশ সদস্যই হচ্ছে উগ্রবাদী জঙ্গি সংগঠনগুলোর সংমিশ্রনে গঠিত।

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক রুশ প্রেসিডেন্টের বিশেষ প্রতিনিধি মিখাইল বাগদানোভ বলেছেন, সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির পক্ষ-বিপক্ষের জোট এবং তাদের বিদেশি মিত্র দেশগুলোর সাথে পরামর্শ গ্রহণ করতে মস্কো এর জন্য জায়গা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। আর ৭ই নভেম্বর বাগদানোভ জানান যে, সিরিয়ার অধিকাংশ প্রভাবশালী সরকারবিরোধী দল আলোচনার জন্য মস্কো আসতে রাজি হয়েছে। খুব শিঘ্রই সিরিয়ার সরকারের সাথে বিরোধী জোটদের ওই সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে রাসিস্কায়া গাজেটা নামের রুশ পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাতকারে জানিয়েছেন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী গেনাদি গাতিলোভ।