রাশিয়া থেকে দেশের একটি বা অন্য কোন একটি অঞ্চল বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিতর্ক বিগত সময়ে ঐক্যবদ্ধ করেছে দেশের সেই সমস্ত রাজনৈতিক শক্তিকে, যেমন জাতীয়তাবাদী ও লিবারেলদের. তাদের প্রতিনিধিরা প্রায়ই এই ধরনের ঘোষণা নিয়ে বক্তব্য প্রকাশ করছে যে, দেশের উন্নতি আরও সক্রিয় ও অগ্রসর হবে, যদি তার এলাকাকে ছেঁটে ফেলা হয়. উদাহরণ হিসাবে “নোভোয়ে ভ্রিয়েমিয়া” (নতুন সময়) জার্নালের প্রধান সম্পাদক ইভগেনিয়া আলবাত্স একটি রেডিও স্টেশনের প্রচারের সময়ে বলেছেন যে, তিনি বিশেষ কোন সমস্যা দেখেন না যদি রাশিয়াকে উরাল পর্ব্বতমালার শৃঙ্গ বরাবর বিভক্ত করে দেওয়া হয়. তাঁর মতে এই ধরনের ব্যাপার একেবারেই অবশ্যম্ভাবী, যদি রাশিয়ার সুদূর প্রাচ্য ও প্রতিবেশী চিনের উন্নতির গতি নিয়ে বিবেচনা করা হয়.

জাপানকে কুরিল দ্বীপপূঞ্জ দিয়ে দেওয়া নিয়ে আগেও মানবাধিকার রক্ষা কর্মী লেভ পনোমারিয়েভ মন্তব্য করেছেন, আর প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক ভালেরিয়া নভোদ্ভোরস্কায়া বিশ্বাস করেন যে, রাশিয়ার ভাল হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি রাজ্যে পরিণত হলে. রাশিয়ার হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্সের প্রফেসর সের্গেই মেদভেদেভ আহ্বান করেছেন রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চলের একটি অংশকে আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণে দিয়ে দিতে. আর সবচেয়ে বিখ্যাত বিরোধী নেতা আলেক্সেই নাভালনী জোর দিয়ে বলছেন যে, উত্তর ককেশাস নাকি রাশিয়ার অংশই নয়. রাষ্ট্রের অখণ্ডতা নিয়ে এত বেশী রকমের তথ্য ও আদর্শ সংক্রান্ত আক্রমণ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনকে বাধ্য করেছে এই বিষয়ে নিজের অবস্থান প্রকাশ্যে ব্যক্ত করতে. তিনি বলেছেন:

“আমাদের থেকে কোন একটা এলাকাকেও আলাদা করে নেওয়া নিয়ে যে কোন রকমের প্রচেষ্টা নিয়ে যা বলা যেতে পারে, - সেগুলো সংবিধান সম্মত নয়, আইন সম্মত নয় ও দেশের আইন অনুযায়ী সেগুলোকে নিয়ে বিচার করা দরকার. এর উপযুক্ত রকমের আইন সম্মত মূল্যায়ণ হওয়া দরকার, তবে বোঝাই যাচ্ছে যে, কোন রকমের ডাইনি শিকার শুরু না করে, তা করা দরকার”.

সংবাদ মাধ্যমে খুবই শোরগোল করা নাম দিয়ে নিয়মিত ভাবেই প্রবন্ধ প্রকাশ করা হচ্ছে, যেমন “সাইবেরিয়ার অভিশাপ”. ব্যাপারটা এমন যে, রাশিয়া এই এলাকাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম নয়. কিছু সংবাদ মাধ্যমে রাশিয়াকে একটি বহু ধর্মের ও বহু জাতির রাষ্ট্র হিসাবে হেয় করার লক্ষ্য নিয়ে প্রচার করা হচ্ছে. প্রায়ই এই ধনের প্রকল্প বিদেশী তহবিল থেকে অর্থ সাহায্য পাচ্ছে. আর জাতীয়তা বাদী দল জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা এবারে ধুয়ো তুলেছেন যে, রাশিয়াতে সমস্ত রাজ্যের মধ্যে নতুন করে চুক্তি করা দরকার, আর তাতে উত্তর ককেশাসের রাজ্য গুলোকে অংশ নিতে দেওয়া উচিত হবে না. একেবারেই অল্পদিন আগে এই এলাকা নিয়ে এক স্ক্যান্ডাল করা ঘোষণা দিয়ে রাশিয়ার লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক দলের নেতা ভ্লাদিমির ঝিরিনোভস্কি মন্তব্য করেছেন. তিনি আহ্বান করেছেন ককেশাসে জন্মের হার কম করার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারী করতে ও সেই এলাকাকে কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে ঘিরে দিতে. ৬ই নভেম্বর ভ্লাদিমির পুতিন দেশের মুখ্য লিবারেল ডেমোক্র্যাটের সঙ্গে সাক্ষাত্কারের সময়ে প্রস্তাব করেছেন যে, তিনি যেন নিজের নির্বাচকদের কাছে অবস্থান জোরালো করার জন্য দেশের ভিত্তিমূলক মূল্যবোধ বিসর্জন না দেন.

একদিন পরে, দেশের প্রজাতান্ত্রিক গঠন নিয়ে বলতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, এই দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশেষত্ব হল যে, “দেশের প্রজাতিগুলো তাদের নিজেদের এলাকার সঙ্গেই যুক্ত রয়েছে”. এখানে যেমন ইতিবাচক বিষয় রয়েছে, তেমনই রয়েছে নেতিবাচক ব্যাপারও. এখানে প্রয়োজন নিয়মিত ভাবেই ভাবা যে, কি করে এই সুবিধাকে সবচেয়ে বেশী ব্যবহার করা সম্ভব হয় ও সেখানে থাকা বিপদের সম্ভাবনাগুলোকে আগে থেকেই ছেঁটে ফেলা যায়, তাই একটা সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে তিনি বলেছেন:

“সেই ধারণা যে, কোন একটা এলাকাকে ছেঁটে ফেললেই দেশের অন্যান্য এলাকার লোকের জীবন ভাল হয়ে উঠবে, তা কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়. সেই সমস্ত সমস্যার সমাধানের সূত্র, যা আমাদের দেশে এমনিতেই অনেক রয়েছে - তা যেমন অভিবাসন সংক্রান্ত, আরও অনেক রকমের, তা রয়েছে একেবারেই অন্য এক স্তরে. দেশের ভেতরের অর্থনৈতিক ও সামাজিক রাজনীতির গুণ মানকে উন্নত করার মধ্যে, দুর্নীতির সঙ্গে লড়াইয়ের ভেতরে. সেই সব সাদামাটা ফর্মুলা – ওদের আলাদা করে দাও, এটা দিয়ে দাও, তার থেকে কিছুই ভাল হবে না, শুধু নতুন বাড়তি সমস্যাই তৈরী হবে. তার ওপরে আবার সেই ধরনের সমস্যা, যা সমাধান করার বিষয়ে খুবই জটিলতার সৃষ্টি হবে ও খুবই বেশী রকমের শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজন হবে, আর হতে পারে যে, মানুষের প্রাণের বলিও হতে পারে”.

একই সময়ে রাশিয়ার দ্যুমার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যরা এক উদ্যোগ নিয়ে প্রস্তাব করেছেন যে, রাশিয়াকে খণ্ড করা নিয়ে মত প্রকাশকে ফৌজদারী আইন গ্রহণ করে শাস্তি যোগ্য করতে হবে. এই বিষয় নিশ্চয়ই বিতর্কের উপযুক্ত, তবে সমস্যা স্পষ্টই চাগিয়ে উঠেছে.