তালিবদের তুলনায়, যারা এখন শোকের জায়গায় আনন্দ করার কারণ খুঁজে পেয়েছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের প্রশাসনের আজ কিছুই আনন্দ করার মতো ঘটে নি. পাকিস্তানে শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে হাকিমুল্লা মেহসুদের মৃত্যু এক প্রবল আঘাত হেনেছে. আর তালিবদের নতুন নেতার ভূমিকায় মৌলবী ফজলুল্লা দেশে জাতীয় শান্তির কাজকে আরও কঠিন করে দেবে, যদি তা আসন্ন ভবিষ্যতে আদৌ অর্জনের যোগ্য হয়, এই কথা মনে করে আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“এই ধরনের নৈরাশ্য জনক পরিস্থিতির কারণ যথেষ্ট. সরকার ও পাকিস্তানের তালিবদের মধ্যে আলোচনার বিষয়ে বাধা প্রাথমিক ভাবে এই মৌলবী ফজলুল্লা নামক ব্যক্তি, যাকে রেডিওতে ঐস্লামিক প্রচারের জন্য “রেডিও মোল্লা” নামে ডাকনাম দেওয়া হয়েছে, আর তারই সঙ্গে তার “কার্যকলাপের দীর্ঘ তালিকার” জন্যেও. ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালে এই ব্যক্তি পাকিস্তানের এক বিশাল এলাকা নিয়ন্ত্রণ করত – সোয়াত উপত্যকা, সেখানে সে মধ্য যুগের আইন কানুন চালাতে শুরু করেছিল. সেখানে পুরুষ মানুষদের দাড়ি রাখতে বলা হয়েছিল, মেয়েদের শুধু লেখা পড়ার অধিকারই কেড়ে নেওয়া হয় নি, বরং তাদের বাজার ঘাটে যাওয়া বারণ ছিল. যাকে “অবিশ্বাসী” বা “ইসলামের শত্রু” অথবা বিরোধী মনে করা হয়েছে, তাদের মাথা কেটে দেওয়া যেতে পারত. আর তা চলেছিল ২০০৯ সালে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এই জায়গা দখলে আনা পর্যন্ত ও যতদিন না এখানে সন্ত্রাস বিরোধী অপারেশন করে সমস্ত তালিবদের তাড়াতে পেরেছে”.

সেই মৌলবী ফজলুল্লা ও তার লোকরাই সারা বিশ্বে প্রচুর শোরগোল তোলা কিশোরী মালালা ইউসুফজাইয়ের উপরে আক্রমণ করেছিল, যা গত বছরে অক্টোবর মাসে হয়েছে. মেয়েদের লেখা পড়ার অধিকারের স্বপক্ষে বলতে গিয়ে এই মেয়ে প্রায় মরতেই বসেছিল, কারণ সে সেই ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলেছিল, যা এই “রেডিও মোল্লা” প্রচার করে থাকে.

নতুন “তেহরিক-এ-তালিবান পাকিস্তান” দলের নেতার কাজের মধ্যে যে জাতীয় শান্তি স্থাপনের প্রক্রিয়া পড়ে না, তার প্রমাণ এই দলের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সরকারের সঙ্গে আলোচনা সম্বন্ধে প্রথম যে সমস্ত মন্তব্য করা হয়েছে, তা থেকেই বোঝা গিয়েছে. “শান্তি আলোচনা হবে না, কারণ মৌলবী ফজলুল্লা ইসলামাবাদের সঙ্গে কোন রকমের আলোচনার বিরোধী” – অল্প আগেই এই কথা ঘোষণা করেছে তালিবদের প্রতিনিধি.

ভাগ্যের পরিহাসে মৌলবী ফজলুল্লা পাকিস্তানের তালিবদের নেতা নির্বাচিত হয়েছে ঠিক তার পরের দিনই, যেদিন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ ঘোষণা করেছেন যে, তিনি এখনও শান্তি প্রক্রিয়ার উপরে বিশ্বাস রাখেন, যদিও হাকিমুল্লা মেহসুদকে হত্যা করা হয়েছে, তাও. কিন্তু যদি মনে করা হয় যে, “রেডিও মোল্লা” তাও আলোচনায় রাজী হবে, তবুও সে তা করতে চাইবে শক্তির অবস্থান থেকেই. পাকিস্তানের সরকারের জন্য স্পষ্টই সেই রকমের পরিস্থিতি চলতে পারে না.

সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, আমেরিকার পাইলট বিহীণ ড্রোন বিমানের আঘাতের পরে, যাতে হাকিমুল্লা মেহসুদ প্রাণ হারিয়েছে, পাকিস্তান অপেক্ষায় রয়েছে নতুন এক অধ্যায়ের, যা হবে প্রশাসন ও তালিবদের মধ্যে ক্ষমতা নিয়ে এক আমরণ দড়ি টানাটানির মতো.