এখনকার সোচী শহরের পত্তন হয়েছে ১৮৩৮ সালে, আর তখন এটা সোচী ছিল না, ছিল আলেকজান্দ্রিয়া কেল্লা. এই সমুদ্র তীরের শহর তার নিজের নাম সরকারি ভাবে পেয়েছে ১৮৯৬ সালে, আর তা পর্যটন ও স্বাস্থ্যোদ্ধার কেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে ১৯০৯ সালে, যখন এখানে প্রথম স্বাস্থ্যোদ্ধার করার জন্য হোটেল “ককেশাসের রিভিয়েরা” খোলা হয়েছিল.

প্রসঙ্গতঃ, ২০১৪ সালের শীত অলিম্পিকের রাজধানীকে প্রায়ই বলা হয়ে থাকে “রুশী রিভিয়েরা” বলেই, কারণ তা ইউরোপের সেই সমস্ত নামী পর্যটন ও স্বাস্থ্যোদ্ধার কেন্দ্র যেমন, নিস, কান, মন্টে কার্লো ও সান রেমোর মত একই অক্ষরেখায় অবস্থিত.

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে এই শহর খুবই দ্রুত উন্নত হয়েছিল. ১৯৯০ এর দশকের শুরুর দিকে এই শহরে ২২০টি স্বাস্থ্যোদ্ধার কেন্দ্র কাজ করত ও প্রত্যেক বছরে সোচীতে আসত প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ পর্যটক.

২০১৪ সালের অলিম্পিকের সময়ে শীতের খেলাধূলার জন্য পদক অলিম্পিকের ইতিহাসে এই প্রথমবার পাম গাছের নীচে ক্রান্তীয় জল বায়ুতে হতে চলেছে.

২. অলিম্পিকের সময়ে জরিমানা

সেই প্রাচীন সময় থেকেই অলিম্পিকের সময়ে জরিমানার ব্যবস্থা চালু হয়েছিল. খ্রীষ্টপূর্ব ২৫ সালে ২০১ তম অলিম্পিকের সময়ে একটা অদ্ভুত কারণে প্রথম জরিমানা করা হয়েছিল – ভীতু হওয়ার জন্য. তখন কুস্তিগীর সারাপিয়ন প্রস্তুতির সময়েই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বীদের দেখে এত ভয় পেয়েছিল যে, ঠিক করেছিল অলিম্পিয়া ছেড়ে পালাবে. এই খেলোয়াড়কে জরিমানা হিসাবে এত অর্থ দিতে হয়েছিল যে, তা দিয়ে জেভসের বেশ কয়েকটি স্ট্যাচু তৈরী করা সম্ভব হয়েছিল.

আমাদের সময়ে খেলোয়াড়দের অলিম্পিক চলার সময়ে খারাপ ব্যবহারের জন্য জরিমানা করা হয়ে থাকে. ২০০৮ সালে বেজিং অলিম্পিকের সময়ে সুইডেনের দলের কুস্তিগীর আরা আব্রামিয়ান ২৬০০ ইউরো জরিমানা দিয়েছিল, কারণ সে পদক পাওয়ার সময়ে নিজের ব্রোঞ্জ পদক মঞ্চের উপরে নামিয়ে রেখে চলে গিয়েছিল তাঁর নিজের সঙ্গে এক ইতালির কুস্তিগীর আন্দ্রেয়া মিনগুত্সসি লড়াইয়ের সময়ে রেফারি পক্ষপাতিত্ব করেছে বলে অভিযোগ করে.

২০০৬ সালের শীত অলিম্পিকের সময়েও ফ্রান্সের পর্বত- স্কি খেলোয়াড় পিয়ের- এমানুয়েল দালসেন জরিমানা দিয়েছিল ৩২০০ ইউরো অর্থ. সেটার কারণ ছিল যে, তিনি সেই খেলার বিচারকদের প্রতি অশোভন ইঙ্গিত করেছিলেন, হাতের মধ্যম আঙ্গুল তুলে. দালসেন সবচেয়ে বেশী দূরত্বের পর্বত থেকে ঢাল বেয়ে নেমে আসার প্রতিযোগিতাতে এগিয়ে ছিলেন, কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হওয়ার কারণে এই প্রতিযোগিতার সময় পাল্টে দেওয়া হয়েছিল আর দালসেন সমেত আরও ষোলজন ইতিমধ্যেই প্রতিযোগিতায় নামা খেলোয়াড়ের ফলাফল বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল. পরের দিনে সেই একই প্রতিযোগিতায় এই স্কি খেলোয়াড়ের ভাগ্য আর আগের দিনের মত ভাল ছিল না: সে ঢালের পথ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিল ও প্রতিযোগিতায় অযোগ্য ঘোষিত হয়েছিল. তখনই সে এই বিচারকদের প্রতি অশোভন ইঙ্গিত করেছিল.

৩. সোচী শহরের পদক গুলি

সোচী শহরের অলিম্পিকের জন্য তৈরী করা হতে চলছে রেকর্ড সংখ্যার পদক – প্রায় ১৩০০টি! সেগুলো তৈরীর জন্য প্রয়োজন তিন কিলো সোনা, দু’টন রূপো ও ৭০০ কিলো ব্রোঞ্জ! রাশিয়ার বিশারদরা এই পদকের সেট গুলো তৈরী করছেন. প্রত্যেক মেডেল দুটি অংশে করা হয়েছে: ধাতব বলয় ও স্ফটিক অংশ, যা অলঙ্কৃত করেছে একটা নক্সী কাঁথার ডিজাইন: রাশিয়ার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক. স্ফটিকের অংশটি তৈরী হয়েছে সিন্থেটিক পলিকার্বনেট দিয়ে – যা বাস্তবে গুলি আটকাতে সক্ষম. পাহাড়ী স্ফটিকের তুলনায় এটা সময়ের সঙ্গে ঝাপসা হয়ে যায় না, এটাও সত্য যে, তার দাম তিনগুণ বেশী. প্রত্যেক পদকই কারিগর হাতে তৈরী করেন ও তার জন্য ১৮ ঘন্টারও বেশী সময় লাগে. কারণ সোচী শহরে অলিম্পিকের জন্য মেডেল এই প্রথমবার টাঁকশালে তৈরী হচ্ছে না, যা আগের সমস্ত প্রতিযোগিতায় করা হয়েছিল. প্যারাঅলিম্পিকের জন্য পদক তৈরী করতে গিয়ে এর থেকেও বেশী সময় খরচ হয়ে থাকে – ২০ ঘন্টা, কারণ তার উপরে ব্রেল অক্ষরে লেখা হচ্ছে, যাতে যারা খারাপ দেখতে পান, তারাও এই পদক ধরেই চিনতে পারেন. প্রসঙ্গতঃ, প্যারা অলিম্পিক পদক এই অলিম্পিকের ইতিহাসে সবচেয়ে ভারী পদক – প্রত্যেকটি প্রায় ৭০০ গ্রাম ওজনের. অলিম্পিকের আগে কেউই এই পদক দস্তানা না পরে ছুঁতে পারবে না ও তা গলায় পরার অধিকারও কেউ পাবে না.