সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা এখানে দেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের মাথারা আলোচনা করবেন, তা হবে সিরিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন. সিরিয়ার সঙ্কটকে আন্তর্জাতিক সশস্ত্র বিরোধে পরিণত করতে না দেওয়া নিয়ে তিন দেশের খুবই দৃঢ় অবস্থান এই এলাকায় মনে হওয়া অনিবার্য যুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা করেছে. এই রিক (রাশিয়া, ভারত ও চিন) দেশের মত আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেমন ফেলতে পারছে না, তেমনই পারছে না সমস্ত আন্তর্জাতিক সমাজও. বহু তীক্ষ্ণ পরিস্থিতি নিয়েই ত্রয়ী দেশের অবস্থান একই রকমের ও খুবই কাছাকাছি. তা সত্ত্বেও আসেম বৈঠকের মতো এত বিশাল আন্তর্জাতিক বৈঠকের আগে সের্গেই লাভরভ, সলমন খুরশিদ ও ওয়াঙ্গ ঈ ঠিক করেছেন আরও একবার নিজেদের দেশগুলির বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমস্যাগুলো নিয়ে মিলিয়ে দেখার. তার মধ্যে আফগানিস্তানের ভবিষ্যতের প্রশ্নও রয়েছে.

রাশিয়া-ভারত-চিন এই ত্রিভুজের মধ্যে বেশী ঘনিষ্ঠ ভাবে যোগাযোগ করে কাজ করার কথা সেই নব্বইয়ের দশকের শেষেই প্রস্তাব করেছিলেন রাশিয়ার তখনকার পররাষ্ট্র প্রধান ইভগেনি প্রিমাকোভ. এরই উত্তরাধিকার হিসাবে নিয়মিত ভাবে তিনটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সাক্ষাত্কার থেকেই ভিত্তি হয়েছিল আন্তর্জাতিক মঞ্চে এত প্রভাবশালী এক ক্রীড়নকের উদয় হওয়া – ব্রিকস গোষ্ঠীর, যখন এই তিন রাষ্ট্রের জোটে সামিল হয়েছিল প্রথমে ব্রাজিল ও পরে দক্ষিণ আফ্রিকা.

দিল্লী শহরে আগামী আলোচনা হতে চলেছে তিন দেশের একত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ে দ্বাদশতম সাক্ষাত্কার. তাতে, খুব সম্ভবতঃ, আলোচনা করা হবে অন্য কাঠামোতে এই রিক দেশের তিন রাষ্ট্রের পারস্পরিক কাজের ধারা নিয়ে. কথা হবে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার প্রসার নিয়েও. রাশিয়া ও চিন ইতিমধ্যেই ভারতের এই সংস্থার সম্পূর্ণ সদস্য হওয়ার স্বপক্ষে মত দিয়েছে.

এই সংস্থার সঙ্গে যোগ দিতে পাকিস্তানও চেয়েছে. আর এটা একই সঙ্গে রিক রাষ্ট্রগুলির পররাষ্ট্র প্রধানদের আলোচনার বিষয়বস্তু হতে চলেছে.