ইয়াসর আরাফাতের দেহাবশেষ গত বছরের নভেম্বর মাসে নভেম্বর মাসে কবর থেকে তোলা হয়েছিল. “আল- জাজিরা” টেলিভিশন চ্যানেলের উদ্যোগে তা সুইজারল্যান্ডের রেডিও ফিজিক্স ইনস্টিটিউটে পরীক্ষা করা হয়েছে. এই পরীক্ষার ফলাফল নিয়েই প্যালেস্তিনীয় নেতার বিধবা স্ত্রী সুখা আরাফাত বলেছেন:

“সুইজারল্যান্ডের পরীক্ষা আমাদের সমস্ত আশঙ্কাকেই সত্য প্রমাণিত করেছে, পোলোনিয়াম প্রচুর ঘনত্বেরই পাওয়া গিয়েছে. শতকরা ৮৩ ভাগ- এটা যতটা স্বাভাবিক, তার চেয়ে ১৮ গুণ বেশী. পোলোনিয়াম তাঁর দেহে পাওয়া গিয়েছে: ফুসফুসে, করোটিতে. আর এটা স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে যে, রাজনৈতিক হত্যা, যা করেছে পেশাদার খুনেরা, কারণ এটা আমরা শুধু আবিষ্কার করতে পেরেছি তাঁর মৃত্যুর নয় বছর পরেই”.

আরাফাত মারা গিয়েছেন ২০০৪ সালে, কিন্তু তাঁর মৃত্যুর আগে থেকেই সম্ভাব্য বিষ প্রয়োগ নিয়ে কানাঘুষো শুরু হয়ে গিয়েছিল, যখন এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ খুবই অসুস্থ অবস্থায় প্যারিসের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন. প্যালেস্টাইনের লোকরা তখন পিএলও দলের নেতার কঠিন অসুখের সঙ্গে ইজরায়েলের লোকদের যোগ সাজশের কথা বলেছিল.

কিন্তু ২০০৯ সালে আরাফাতের তৈরী ফাত্হ সংস্থার এক নেতা ফারুক কাদ্দুমি আরাফাতের মৃত্যুর জন্য বর্তমানে প্যালেস্টাইনের প্রশাসনের প্রধান মাখমুদ আব্বাসের ও নিরাপত্তা পরিষেবার প্রধান মুহম্মদ দাখলানের যোগের কথা বলে দোষ দিয়েছিল. এটাও সত্যি যে, সেই বছরেই ফাত্হ সংস্থার সম্মেলনে আরাফাতের মৃত্যুর জন্য দোষ দেওয়া হয়েছিল ইজরায়েলের নামেই.

সুতরাং কে প্রধান সন্দেহ ভাজন? সেই প্রাচীন রোমের লোকরাই এই সমস্ত ক্ষেত্রে পরামর্শ দিয়েছে যে, “কার জন্য লাভজনক, তা খুঁজে দেখতে”. আর তাঁর মৃত্যু লাভজনক ছিল দুই পক্ষেরই যারা শান্তি আলোচনার বিরোধী তাদের জন্য. আরাফাত যেমন এক দিকের, তেমনই অন্য দিকের লোকদেরও অসুবিধায় ফেলেছিলেন. তাই তত্ত্বগত ভাবে সবচেয়ে আচমকা কোন সম্ভাবনাকেও বাদ দেওয়া যেতে পারে না.

কিছু লোকে বলছেন যে, আরাফাতকে মেরে ফেলায় কোন অর্থ ছিল না – তাঁর জীবনের শেষের দিকের বছরগুলিতে তিনি বাস্তব রাজনীতিতে খুবই কম প্রভাব ফেলেছিলেন. কিন্তু যদি আরাফাত একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব না হবেন, তবে তিনি নিজের স্বাভাবিক সময়েই মারা যেতে পারতেন, সম্ভবতঃ আরও অনেকদিনই বেঁচে থাকার পরে. এই ধরনের একটা ধারণা করে নিকটপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সের্গেই সেরিওগিচেভ বলেছেন:

“এমনকি যদি রাজনীতিতে তাঁর জীবনের শেষের দিকের বছর গুলোতে প্রভাব সব থেকে কম থাকেও, তা সত্ত্বেও শুধু তাঁর উপস্থিতিই সেখানে চরমপন্থীদের আটকে রেখেছিল”.

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, আরাফাতের এই জোর করে মৃত্যুর খবরে যেমন ফাত্হ দলের ভেতরে, তেমনই সমগ্র প্যালেস্তিনীয় সমাজের মধ্যেই একটা বিরোধের উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণ হবে. আর এই শোরগোল তোলা ঘটনা নিয়ে কখনও কি পুরো সত্য জানতে পারা যাবে – সেই বিষয়ে কোন রকমের নির্ভর করার মতই কিছু এখন নেই.