চিন সেই ২০১১ সালেই নিজেদের কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠাতে চেয়েছিল মঙ্গলগ্রহের দিকে, যখন রাশিয়ার “ফোবোস” মহাকাশ স্টেশন পাঠানোর চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু “ফোবোস” কক্ষপথে বের হওয়ার পরেই দুর্ঘটনার ফলে ধ্বংস হয়েছিল, আর তারই সঙ্গে চিনের যান “ইনখো-১” নষ্ট হয়েছিল.

শেষ ভারতীয় উড়ান দেখিয়ে দিয়েছে যে, ভারত চাইছে চিনের সঙ্গে সম্পূর্ণ মানের মহাকাশ গবেষণায় প্রতিযোগিতা করতে. দেশের নিজেদের পাইলট চালিত মহাকাশ ভ্রমণের প্রোগ্রাম রয়েছে – আশা করা হয়েছে যে, ভারত মহাকাশে মানুষ পাঠাতে সক্ষম হবে ২০১৬ সালের পরেই, অর্থাত্ চিনের পক্ষ থেকে প্রথম মহাকাশে মানুষ পাঠানোর তের বছর পরে. কিন্তু অন্যান্য ক্ষেত্রে তাদের পিছিয়ে থাকা এতটা নয়. ২০০৮ সালে ভারত চাঁদের দিকে নিজেদের কৃত্রিম উপগ্রহ চন্দ্রযান পাঠাতে পেরেছিল.

এর মধ্যে আবার এই যান নিজে যেমন চাঁদের কৃত্রিম উপগ্রহ হয়েছে, তেমনই চাঁদে একটি যন্ত্রও নামাতে সক্ষম হয়েছে, যা সেখানে ভারতের পতাকা পৌঁছে দিয়েছে. চিন নিজেদের কৃত্রিম উপগ্রহ চাঁদে পাঠাতে পেরেছিল তার মাত্র এক বছর আগে, ২০১০ সালে আর তারপরে আরও একটা পাঠিয়েছে, এবারে ২০১৩ সালের শেষে চাঁদে যেতে চলেছে চাঙ্গ’এ – ৩ স্টেশন, যা এই পৃথিবীর উপগ্রহে আস্তে নামবে ও সেখানে চিনের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রথম চাঁদের পিঠে চলার যান পৌঁছে দেবে.

তাও সব মিলিয়ে আপাততঃ ভারতের গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা খুব একটা ভাল দেখাচ্ছে না. ভারতের অর্থনীতি ও বাজেটের সম্ভাবনা চিনের চেয়ে অনেকটাই দরিদ্র. ভারতের মহাকাশ বাজেট ২০১২- ২০১৩ অর্থনৈতিক বছরে ১২০ কোটি ডলার আর চিন আমেরিকার গবেষকদের মূল্যায়ণ অনুযায়ী ২০১২ সালেই পাঁচশো কোটি ডলার খরচ করেছে.

অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ছাড়াও, এখানে আয়োজন সংক্রান্ত সমস্যাও রয়েছে. মহাকাশ গবেষণা শিল্প বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে সামরিক শিল্পের একটা শাখা. আর ভারতের সামরিক শিল্প দীর্ঘ দিনের জন্য নেওয়া সমস্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্যই সমস্যায় পড়েছে. ভারতের ডিআরডিও সংস্থার জন্য, যারা সামরিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য দায়িত্ব প্রাপ্ত, প্রায়ই তারা নতুন ধরনের অস্ত্র ব্যবস্থা তৈরীর জন্য বছর দশেকের বেশী করে সময় নিয়ে ফেলেছে আর এই ধরনের দীর্ঘ দিন ধরে চলা প্রোগ্রামও প্রায়ই শেষ হয়েছে হয় অসফল ভাবে অথবা এমন কোন একটা ব্যবস্থা তৈরী দিয়ে, যা সামরিক বাহিনীর লোকদের বাস্তব অর্থে কাজে লাগার চেয়ে বেশী করেই দেখানোর অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে.

একই সময়ে, ভারতের সামরিক শিল্পের নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বিগত সময়ে কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করতে পারা গিয়েছে. সরকার চেষ্টা করেছে খুবই প্রসারিত ভাবে ভারতীয় অর্থনীতির ব্যক্তি মালিকানাধীন শিল্পকে কাজে লাগানোর ও যারা এই সমস্ত যন্ত্র সরবরাহ করে থাকে, তাদের মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে তুলে নিজেদের প্রকল্পের মেয়াদকে কঠোর করে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে. ভারতের চিনের চেয়ে এই ক্ষেত্রে সুবিধা বেশী, কারণ চিনের পক্ষে মহাকাশ গবেষণায় এগিয়ে থাকা দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা করারই সম্ভাবনা রয়েছে আর তাও রাজনৈতিক কারণেই এই সহযোগিতাতেও সমস্যা হয়েছে, কিন্তু ভারত সেই জায়গায় বিশ্বের সমস্ত বড় মহাকাশ গবেষণার দেশ ও বিশেষ করে পশ্চিমের সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনাকেও খুলে রেখেছে.

বোঝাই যাচ্ছে যে, মহাকাশ প্রতিযোগিতার শেষ ফল দুই দেশের অর্থনীতি ও তাদের বাজেট সম্ভাবনার উপরেই নির্ভর করছে. যদিও এখনও অবধি ভারত চিনের চেয়ে উন্নয়নের হারে পিছিয়ে রয়েছে, তবুও একটা ভিত্তি রয়েছে মনে করার যে, ভারতের অর্থনীতির দ্রুত উন্নতি চিনের চেয়ে বেশী দিন ধরেই চলবে. আর দুই দেশের মধ্যে আর্থিক বিষয়ে সম্ভাবনা একই রকমের হয়ে দাঁড়ালে, আমরা দেখতে পাবো সত্যিকারের মহাকাশের দৌড়, যা সমস্ত মানবতার জন্যই অনেক ভাল জিনিষ নিয়ে আসবে, যেমন এক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত দেশের মহাকাশ নিয়ে প্রতিযোগিতা দিয়েছে.