অলিম্পিকের সময়ে শান্তি নিয়ে সিদ্ধান্ত বেশীর ভাগ ভাবেই একটা ঐতিহ্য রক্ষা. রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভায় গৃহীত বেশীর ভাগ দলিলের মতই এই দলিলও একটা পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা নিয়েই তৈরী করা হয় – সুতরাং তা একেবারে অক্ষরে অক্ষরে পালনের কথা এখানে হচ্ছে না, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার ক্রীড়া সাংবাদিক ফেডারেশনের সভাপতি নিকোলাই দোলগাপোলভ বলেছেন:

“এটা ঠিকই যে, যেমন করেই হোক অলিম্পিক চলার দিনগুলোতে চেষ্টা করা দরকার যাতে বহু প্রতীক্ষিত শান্তি বজায় থাকে. কিন্তু যদি কোন সামরিক বিরোধ উত্পন্নও হয়, তবে এটা কোন ভাবেই অলিম্পিক পরিচালনার উপরে প্রভাব ফেলতে পারা উচিত্ নয়”.

অলিম্পিকের খেলা নিয়ে ঐতিহ্য চালু হওয়ার পরে অলিম্পিককে নষ্ট করেছে যেমন বিশ্ব জোড়া, তেমনই আঞ্চলিক যুদ্ধও. ১৯১৬ সালের গ্রীষ্ম অলিম্পিক হতে পারে নি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে. ১৯৪০ ও ১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণেই অলিম্পিক নিয়ে কারও মাথা ঘামানোর সময় ছিল না. ১৯৭২ সালের অলিম্পিক গেমসকে মিউনিখ ট্র্যাজেডি করুণ করে দিয়েছিল – ইজরায়েলের খেলোয়াড়দের বন্দী করা দিয়ে. ২০০৮ সালে জর্জিয়ার তখনকার নেতৃত্ব বেজিং অলিম্পিকের দিনগুলিতেই দক্ষিণ অসেতিয়া আক্রমণ করেছিল আর লন্ডন অলিম্পিকের দিনগুলোতেও সিরিয়াতে যুদ্ধ থামে নি, তাই খুবই কম সম্ভাবনা রয়েছে যে, ২০১৪ সালের শীত অলিম্পিকের দিনগুলোতে কোন রকমের শান্তি থাকবে বলে, এই কথা উল্লেখ করে স্ট্র্যাটেজিক যোগাযোগ কেন্দ্রের সহসভাপতি দিমিত্রি আবজালভ বলেছেন:

“এই নিষেধ লঙ্ঘণ করার বিষয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে কয়েকটি দেশের অবস্থান, যারা আগ্রাসনকে মোটেও স্পষ্ট করে সমালোচনা করে না. যেমন জর্জ্জিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে এখনও সেই সব দেশের অবস্থান আলাদা – তাই এই ভাবেই পরবর্তী কালে আরও একবার লঙ্ঘনের পরিবেশ তৈরী হয়”.

তা স্বত্ত্বেও রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটিতে আশা ছাড়া হচ্ছে না যে, “খেলাধূলা, তুমিই – শান্তির পথ!” এই স্লোগান এখনও মানে রাখে. আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সভাপতি নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসঙ্ঘের ৬৮তম অধিবেশনে বক্তৃতা দেবেন. “শান্তি ও উন্নয়নের জন্য খেলাধূলা” নামের সাক্ষাত্কারের সময়ে টমাস বাখ এই সভার অংশীদারদের প্রতি অনুরোধ করে আহ্বান করবেন ২০১৪ সালের শীত অলিম্পিকের সময়ে ৭ থেকে ২৩শে ফেব্রুয়ারী “অলিম্পিক চলার কারণে” যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করার জন্য.