কেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই অনুপ্রবেশের জন্য তৈরী হওয়া যুদ্ধ যন্ত্রকে থামাতে রাজী হয়েছে? বিশেষজ্ঞরা যেমন মনে করেছেন যে, কারণ হল সিরিয়াতে তথ্য যুদ্ধে পশ্চিমের জয় শেষ অবধি করা হয় নি: বহু বছরের মধ্যে পশ্চিমের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র প্রচার যন্ত্র – এবারে বিকল হয়েছে.

যদি ছোট করে বলা হয়, তাহলে, সমীক্ষক ইভগেনি এরমোলায়েভ এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, পশ্চিমে অবশেষে বোঝা গিয়েছে যে, সিরিয়া এটা লিবিয়া নয়, তাই তিনি বলেছেন:

“লিবিয়ার বিরুদ্ধে তথ্য যুদ্ধ নিকট প্রাচ্যে এই শতকে প্রথমবার করা যুদ্ধ নয়. ২০০৩ সালে আমেরিকার পক্ষ থেকে ইরাকে অনুপ্রবেশের আগে বিশ্ব সমাজের একটা মত তৈরী হয়েছিল আর ইরাকের লোকদেরও প্রচারের প্রভাবে আলাদা করে তৈরী করা হয়েছিল. আর সেটাই সিদ্ধান্ত মূলক ভূমিকা নিয়েছিল: বাগদাদ কোন রকমের প্রতিরোধ ছাড়াই আত্মসমর্পণ করেছিল. এই এলাকার সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী স্রেফ অস্ত্র নামিয়ে রেখেছিল, কোন রকমের যুদ্ধে অংশ নিতে না চেয়ে, যা ইরাকের জেনারেলরাই আগে থেকেই ধরে নিয়েছিলেন হেরে যাওয়া যুদ্ধ বলে”.

লিবিয়ার জামাহিরিকেও মুয়াম্মার গাদ্দাফির কেনা প্রচুর পরিমাণে অস্ত্র রক্ষা করতে পারে নি. গাদ্দাফি সাদ্দামের চেয়ে বেশী দিন ধরে টিকে থাকতে পেরেছিলেন শুধু তাঁর প্রতি অনুগত গোষ্ঠী ও উপজাতিদের কল্যাণে. এই সবই বাধ্য করেছে আরও একবার মনে করতে যে, যে কোন বিরোধের সময়ে প্রধান কারণ – অস্ত্র নয়, বরং সেই মানুষ, যে হাতে এই অস্ত্র ধরেছে.

সিরিয়ার সমাজ দেখা গেল ইরাক বা লিবিয়ার চেয়ে অনেক বেশী ঐক্যবদ্ধ. তাই এক রক্তাক্ত স্বৈরাচারী নিয়ে রূপকথা, যার বিরুদ্ধে তাঁর দেশের সমস্ত নাগরিক, এটা সিরিয়াতে খাটে নি. আর এটাই দেখতে পেয়ে, আমেরিকার লোকরা নিজেদের যথেষ্ট বুদ্ধিমান ও মর্যাদা সম্মত ভাবেই কাজ করেছে, বাস্তবে নিজেদের পরাজয়কে মেনে নিয়েই. এখানে আশা করতে বাকী রয়েছে যে, আমেরিকার জোট সঙ্গীরাও এই লড়াইতে ওয়াশিংটনের উদাহরণই গ্রহণ করবে.

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের সিনিয়র গবেষক কর্মী ভিক্টর নাদেইন রায়েভস্কি এই ধারণার সঙ্গে মোটেও সম্পূর্ণ একমত নন. তাঁর কথামতো, সিরিয়ার পরিস্থিতিতে পশ্চিম স্রেফ একটা লড়াইতে হার মেনেছে, যুদ্ধে নয়. আর তথ্য যুদ্ধ নিকটপ্রাচ্যে সম্পূর্ণ শক্তি নিয়েই চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তাই তিনি বলেছেন:

“তথ্য যুদ্ধ শুধু নিকট প্রাচ্যেই হয় নি বা চলছেও না. গত শতকের শেষে, যখন যুগোস্লাভিয়াতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছিল. তখন পশ্চিমের সংবাদ মাধ্যম তাদের জন্য সবচেয়ে বেশী দোষী ও অপরাধী বলে দাঁড় করিয়েছিল সের্ব লোকদের. আর এটাই ছিল ন্যাটো জোটের বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে সের্বিয়াতে বর্বর রকমের বোমাবাজীর জন্য প্রাথমিক পরিবেশ তৈরী করা. তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল এই ধরনের তথ্য যুদ্ধ যারা শুরু করছে, তাদের লক্ষ্য কি. এটা বিশ্ব সমাজের মতকে এমন করে তৈরী করা, যে যাদের পশ্চিমের পক্ষ থেকে শত্রু বলা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কাজ ঠিকই হয়েছে. এই চেষ্টা সেই দেশের লোকদের মানসিক শক্তিকে কম করে দেওয়া জন্যেও আর সামরিক বাহিনীকেও মানসিক ভাবে পর্যুদস্ত করার জন্যই করা হয়েছিল. এই সমস্ত লক্ষ্যই নিকটপ্রাচ্যে চলতে থাকা তথ্য যুদ্ধে রয়েছে. আর এই ধরনের যুদ্ধে এই এলাকায় আগেও আমেরিকা করেছে, করছে আর করতেও থাকবে, কারণ নিকটপ্রাচ্যকে ওয়াশিংটন নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এলাকা বলেই ঘোষণা করেছে. তাই নতুন সব প্রচারের কামান দাগার অপেক্ষা করা দরকার – তার মধ্যে হতে পারে যে, সিরিয়াকে লক্ষ্য করেও করা হবে”.