এই দুটি ঘটনা, বোধহয়, শুধু সেই কারণেই যুক্ত যে, তা হয়েছে চিনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ প্লেনারি কমিটি মিটিংয়ের আগে নিরাপত্তার কড়াকড়ির মধ্যেই ঘটেছে. দ্বিতীয় এমনিতেই লক্ষ্যণীয় মিল হল যে, দুটি ঘটনাই প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গার কাছে হয়েছে. কিন্তু এই দিয়েই বিশেষজ্ঞদের মতে সমস্ত মিল শেষ হয়ে যাচ্ছে.

যদি একটি ক্ষেত্রে আমরা অশান্ত সিনঝিয়ান-উইগুর স্বয়ংশাসিত এলাকার সমস্যার সঙ্গে আর অংশতঃ উইগুর উপজাতির বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর কাজকর্মের সঙ্গে যোগ দেখতে পাই, তবে দ্বিতীয় ক্ষেত্রে সন্ত্রাসের কারণ থাকতে পারে সামাজিক-অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে. বিগত সময়েও এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে. যখন দেশের নাগরিকদের তরফ থেকে অনুভূত সামাজিক অন্যায় তাদের প্রতিবাদী কাজের দিকে ঠেলে দিয়েছে, যাতে বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে – এই কথা উল্লেখ করে আন্দ্রেই কারনেয়েভ বলেছেন:

“বিদেশীদের জন্য চিন সম্বন্ধে ধারণা রয়েছে যে, সবচেয়ে সফল উন্নতির দেশ, বিশেষ করে অর্থনৈতিক সঙ্কটের পরে. কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, এই দেশে সামাজিক উত্তেজনা খুবই চরমে রয়েছে, দেশের আভ্যন্তরীণ পরস্পর বিরোধ খুবই বহুল পরিমাণে রয়েছে. আর এই “জ্বালানী দ্রব্যই” বিভিন্ন সময়ে জ্বলে উঠছে”.

আন্দ্রেই কারনেয়েভ মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ২০১১ সালের মে মাসে ফুচঝৌ শহরে এক কৃষক, স্থানীয় সরকারি কর্মচারীদের কাজে বিক্ষুব্ধ হয়ে সরকারি ভবনের সামনে তিনটি বিস্ফোরণের আয়োজন করেছিল. এই বছরের জুন মাসে এক বেকার লোক সিয়ামেন শহরে বাসে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল, যার ফলে ৪৭ জন মানুষ নিহত হয়েছিলেন. জুলাই মাসে এক প্রতিবন্ধী শ্জি চ্ঝুনসিন, দেশের পুলিশের পক্ষ থেকে নৃশংস ব্যবহারের প্রতিবাদে বেজিং বিমান বন্দরে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল. সম্ভবতঃ তাইউয়ানে বিস্ফোরক বসিয়ে থাকতে পারে কোন একক ব্যক্তি, যে সামাজিক অন্যায়ের বিষয়ে অসন্তুষ্ট.

তাইউয়ান – কয়লা সমৃদ্ধ শানসি প্রদেশের প্রশাসনিক কেন্দ্র. খুবই সম্ভব যে, এই কাজ পরিকল্পনা করেছে কোন এক ব্যক্তি যে, এখানে খনিতে কাজের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট নয়, প্রায়ই এখানে দেখা গিয়েছে যে, খনি শ্রমিকরা কোন ভাবেই সুরক্ষিত নন, এই রকমই একটা ধারণার কথা কারনেয়েভ বলেছেন. শানসি প্রদেশে প্রায়ই খনি শ্রমিকদের সঙ্গে দুর্ঘটনা ঘটছে. ২০০৯ সালে এখানে একটা সবচেয়ে প্রতিধ্বনি তোলা ট্র্যাজেডি হয়েছিল, যখন বিস্ফোরণের ফলে ৭০ জনের বেশী খনি শ্রমিক নিহত হয়েছিল. তাই বাদ দেওয়া যেতে পারে না যে, এখানে খনি নিয়ে যে সমস্ত “কয়লা চোরাকারবারীদের” গোষ্ঠী রয়েছে, তাদের মধ্যে বিবাদের একটা কারণেও এটা হতে পারে, যাদের সঙ্গে যোগ সাজশ হয়তো ছিল দুর্নীতি গ্রস্ত সরকারি কর্মচারীদেরও, – এটাও বিশেষজ্ঞের মতে হয়ে থাকতে পারে. যাই হোক না কেন, এই প্রসঙ্গে কারণ নিয়ে স্পষ্ট করে বলতে পারে শুধু তদন্ত সমাপ্ত হলে তবেই, যা বর্তমানের মুহূর্তের গুরুত্ব বিচার করে প্রশাসন মনে হচ্ছে যথাসম্ভব দ্রুতই সমাধা করবে.