এই উড়ান সম্পন্ন হয়েছে নিজেদের দেশে উত্পাদন করা রকেট দিয়ে, যা ১৩৫০ কিলো ওজনের কৃত্রিম উপগ্রহকে সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্গ্রহ কক্ষপথে পৌঁছে দিতে সক্ষম নয়. তাই “মঙ্গলযান” দ্বিতীয় দফার বাহক সমেত পৃথিবীর কাছের কক্ষপথে প্রায় একমাস ধরে ঘুরে প্রয়োজনীয় ত্বরণ অর্জন করে তারপরে নয় মাস ধরে যাত্রা শুরু করবে. শক্তিশালী রকেট না থাকা ও মাত্র পাঁচ রকমের যন্ত্র সমেত কৃত্রিম উপগ্রহের ওজন কম হওয়ার ফলে সমস্ত রকেট উড়ানের খরচ হয়েছে মাত্র সাত কোটি তিরিশ লক্ষ ডলারের সমান.

এই প্রকল্পের ঘোষিত লক্ষ্য – “ভারতের মঙ্গলগ্রহের কক্ষপথে আন্তর্গ্রহ যান পৌঁছে দেওয়ার মতো ক্ষমতা অর্জন, আর তারই সঙ্গে সেখানে ভেবে চিন্তে পরীক্ষা করা”. এই প্রশ্ন যেভাবে রাখা হয়েছে, তা থেকেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, এই ক্ষেত্রে মহাকাশ গবেষণা – সব থেকে মুখ্য বিষয় নয়, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার শিয়ালকোভস্কি নামাঙ্কিত মহাকাশ গবেষণা একাডেমীর একাডেমিক আলেকজান্ডার ঝিলিয়েজনিয়াকভ বলেছেন:

“মুখ্য কাজ হল – এটা মহাকাশ যানকে অন্য গ্রহের দিকে পাঠানোর প্রযুক্তি ও মহাকাশে অন্য গ্রহের কক্ষপথে যানকে চালিত করার মতো প্রযুক্তি পরীক্ষা করা. বৈজ্ঞানিক কাজের বিষয়কে দ্বিতীয় সারিতে রাখার কারণ বোধগম্য. কারণ সঙ্গে সঙ্গেই গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ফল পাওয়ার আশা করা অবশ্যই সময়ের আগে হয়ে যাবে. আগে উড়তে শেখা দরকার”.

মঙ্গলগ্রহের কক্ষপথে উপগ্রহকে পৌঁছে দেওয়া - খুবই জটিল প্রযুক্তির কাজ. ১৯৬০ এর দশকে থেকে শুরু হওয়া মঙ্গলগ্রহ অনুসন্ধানের কাজের সময়ে অর্ধেকের বেশী আন্তর্গ্রহ মহাকাশ যানই এই কারণে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল.

“মঙ্গলযান” প্রকল্পের অনেক সমালোচক রয়েছেন: মহাকাশে ঝুঁকি আছে এমন কাজের বদলে ভারতের লহু লক্ষ দেশবাসীকে খেতে দিতে পারলে তো ভাল হত. এর উত্তরে বলা যেতে পারে যে, এই প্রকল্প তাও এমন কিছু দামী নয়, তাই আলেকজান্ডার ঝিলিয়েজনিয়াকভ বলেছেন:

“দেশের সমস্ত মানুষকে প্রয়োজনীয় খাদ্য যোগান দিতে হয়ত দশক এমনকি শতকও লেগে যেতে পারে. কিন্তু বিজ্ঞান – প্রযুক্তির উন্নতির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকাও যুক্তিসঙ্গত নয়”.

দিল্লীতে বলা হয়েছে যে, ভারত কোন মহাকাশ গবেষণার বিষয়ে ইঁদুর দৌড়ে যেতে চায় না. তা স্বত্ত্বেও মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে একটা অনুচ্চারিত মর্যাদার লড়াই এখনও কেউ বন্ধ করে দেয় নি, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণা একাডেমীর প্রতিনিধি-সদস্য ইউরি কারাশ বলেছেন:

“মানুষের কাজের মধ্যে এটা একটা সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী ক্ষেত্র. যদি ভারতের পক্ষে সম্ভব হয় মঙ্গলগ্রহের কক্ষপথে নিজেদের যানকে পৌঁছে দেওয়ার, তবে এটা ভারতেরই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মর্যাদাকে আরও এক ধাপ উপরে তুলে দেবে, তাদেরই প্রতিবেশীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির স্তরের থেকে”.

“মঙ্গলযান” যাত্রা শুরু করার কয়েক ঘন্টা আগে সাংহাই শহরে শিল্প প্রদর্শনী শুরু হয়েছে, যেখানে সবচেয়ে বেশী আগ্রহের উদ্রেক করা একটি দ্রষ্টব্য ছিল চিনের চন্দ্রযান. এটা চাঁদের দিকে এই বছরের ডিসেম্বর মাসে যে মহাকাশ যান উড়ে যাবে, তারই একটা সত্যিকারের কপি. প্রসঙ্গতঃ দিল্লীও ইতিমধ্যেই বেজিংয়ের জন্য “চাঁদের” প্রত্যুত্তর তৈরী করছে: ২০১৬ সালে ভারতে একটি চাঁদে অবতরণের উপযুক্ত যান তৈরী হতে চলেছে.