রাশিয়ার গাড়ীর পার্ক বেশ পুরনো. দেশে গাড়ীর গড় বয়স – আট বছর. তার ওপরে আর বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতিও ভিন্ন. দেশের মধ্য ও পশ্চিমের এলাকায় বেশী করেই রয়েছে নতুন গাড়ী, যা আধুনিক পরিবেশ সংরক্ষণের চাহিদার সঙ্গে মেলে. আবার যেমন দেশের সুদূর প্রাচ্য এলাকায় শতকরা ৮০ ভাগ গাড়ীর বয়স দশেরও বেশী. তাদের বেশীর ভাগই জাপানী. এই সূর্যোদয়ের দেশ থেকে সেখানের পুরনো গাড়ী আনা হয়ে তাকে. এমনকি পুরনো হলেও সেগুলো যথেষ্ট আরামদায়ক, তাদের জন্য মেরামতের যন্ত্রপাতিও পাওয়া সহজ. কিন্তু পরিবেশ সংরক্ষণের হিসাবে সেই গাড়ীগুলো “ইউরো- ১” ও তার থেকে নিম্ন মানের জ্বালানীতে চলে. সুদূর প্রাচ্যেই রাশিয়াতে জনগনের সব থেকে বেশী করে গাড়ী রয়েছে এই বাস্তব হিসাবের মধ্যে আনলে, এই এলাকার শহরগুলোতেই পরিবেশের উপরে চাপ পড়েছে সবচেয়ে বেশী করে.

নতুন কর বসানোর জন্য, যার পরিমাণ সরাসরি নির্ভর করবে গাড়ীর বয়স ও তার পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত ক্লাসের উপরে, পুরনো গাড়ী কেনা ব্যাপারটা আর মোটেও এত আকর্ষক থাকবে না. এটাই আরও দ্রুত ভাবে দেশের গাড়ীর সংখ্যাকে নতুন গাড়ীতে ভরিয়ে তুলবে. যা আবার নিজের দিক থেকে পরিবেশের উপরে ভাল প্রভাবই ফেলবে. কিন্তু একই সময়ে এটা যাদের গাড়ী রয়েছে, তাদের পকেটের উপরে বেশ বড় রকমের আঘাত হানতে পারে, যারা আবার তাদের মধ্যে নতুন গাড়ী কেনার ক্ষমতা রাখেনও না. রাশিয়ার মোটরগাড়ী ব্যবহারকারীদের আন্দোলনের সভাপতি ভিক্টর পখমেলকিন এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“এই কর গাড়ীর জ্বালানীর দামের মধ্যেই ঢোকানো উচিত্. আর তখন খুবই ন্যায্য ভাবে: যে বেশী গাড়ী চড়বে, সেই বেশী করে দাম দেবে; যে রাস্তার উপরে বেশী চাপ সৃষ্টি করবে ও পরিবেশের উপরে খারাপ জিনিষ ছড়িয়ে বেশী করে প্রভাব ফেলবে, সেই বাধ্য হবে বেশী খরচ করতে. এই ভাবে সামাজিক সমস্যাও সমাধান করা সহজ হবে, যা অবশ্যম্ভাবী ভাবেই পরিবেশ সংক্রান্ত কর বসানোর ফলে তৈরী হবে. বয়স্ক মানুষরা, যাঁরা পুরনো গাড়ী খুব একটা নিয়মিত ব্যবহার করেন না, তাঁরা এর থেকে রক্ষা পাবেন বেশী ভাল করেই, কারণ তাঁরা খুব কম পেট্রোল খরচ করে থাকেন”.

আজ রাশিয়াতে ইঞ্জিনের শক্তির উপরে নির্ভর করে পরিবহন কর নেওয়া হয়ে থাকে, তাতে গাড়ীর বয়স, তার পরিবেশ দূষণের ক্লাস, কতটা জ্বালানী ব্যবহার করে এই জাতের ব্যাপারগুলো হিসাব করা হয় না. কিন্তু প্রশাসন ইতিমধ্যেই দেশের জনগনের উপরে পেট্রোলের দামের ভিতর দিয়ে প্রভাব ফেলতে চাইছে, অংশতঃ যেমন, ২০১৪ সালে “ইউরো – ৫” মানের পেট্রোলের উপরে কর নেওয়া হবে টন প্রতি ৫৭৫০ রুবল (মানে ১৮৫ ডলার) আর “ইউরো – ৩” এর চেয়ে নীচু মানের জ্বালানীর উপরে কর নেওয়া হবে টন প্রতি ১১১১০ রুবল (প্রায় ৩৮৫ ডলারের সমান), অর্থাত্ বাস্তবে প্রায় দ্বিগুণ. এটা, স্বাভাবিক ভাবেই পেট্রোলের খুচরো দরের উপরে প্রভাব ফেলবে আর গাড়ীর মালিকদের উদ্যোগী করে তুলবে আরও পরিবেশগত ভাবে ভাল গাড়ীতে চড়ার জন্য.

অন্য দিক থেকে, এটাই গাড়ীর উত্পাদকদের আরও “উন্নত প্রযুক্তি” বাজারে আনতে বাধ্য করবে. আর তাতে প্রথম স্থানে থাকবে বিদ্যুত ও তরল জ্বালানীতে একসাথে চলার উপযুক্ত হাইব্রিড ইঞ্জিনের গাড়ী, কারণ তাদের মালিকরা খুব সামান্যই এই করের জন্য খরচা করবেন.

এই ধরনের ধারণা বর্তমানে রাশিয়াতে এক নতুন আইনের রূপে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা খুব শীঘ্রই দেশের পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষে আলোচনার জন্য তোলা হতে যাচ্ছে.