কিন্তু হাকিমুল্লা মেহসুদের হত্যা প্রমাণ করে দিয়েছে: বারাক ওবামাকে ড্রোন বিমান ব্যবহার করা থেকে নিরস্ত করতে নওয়াজ শরীফ সেই পেরে ওঠেন নি.

এই পরিস্থিতিতে বিগত শনিবারে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে ইসলামাবাদে পাকিস্তানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত রিচার্ড অলসনকে ডেকে পাঠিয়ে তীব্র প্রতিবাদের বার্তা দেওয়া হয়েছে. প্রধানমন্ত্রী শরিফের ক্যাবিনেটে এমনকি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল প্রশাসনের এক জরুরী বৈঠক আহ্বান করার ও তাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন করে বিচার করার. শুধু শেষ মুহূর্তে আগে থেকে জানানো এই বৈঠক, যাতে দেশের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও শৃঙ্খলা রক্ষী বাহিনীর নেতাদের উপস্থিতির কথা ছিল, তা বাতিল করা হয়েছে, এই প্রসঙ্গে আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“পাকিস্তানের নেতৃত্বের একদিক থেকে আরেক দিকে এই অধৈর্য ভাবে যাওয়া আসা সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, হাকিমুল্লা মেহসুদকে এই ভাবে হত্যা করা তাদের নওয়াজ শরীফের নেতৃত্বে প্রশাসনকে একটা আচমকা আঘাত করেছে ও তাদের খুবই জটিল পরিস্থিতির মধ্যে এনে ফেলেছে. এর আগে হওয়া আমেরিকার পক্ষ থেকে ড্রোন বিমান হামলার সঙ্গে এবারের তফাত ছিল যে, এই আক্রমণ দেশের ধর্মীয় প্রধান নেতৃত্ব উলেমাদের সঙ্গে “তেহরিক-এ-তালিবান পাকিস্তান” গোষ্ঠীর নেতৃত্বের পরিকল্পিত আলোচনার একদিন আগেই হয়েছে. তাতে পরিকল্পনা করা হয়েছিল যে, প্রশাসনের সঙ্গে তালিবদের আলোচনার শর্ত তৈরী করা হবে”.

হাকিমুল্লা মেহসুদের এই আচমকা হত্যায় প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের সমস্ত হাতের তাসই গুলিয়ে গিয়েছে, যিনি ভরসা করেছিলেন জাতীয় শান্তি স্থাপনের. এরই সাক্ষ্য হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে খুবই কড়া ভাষায় ঘোষণা, যা পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী নিসার চৌধুরী করেছেন. পাকিস্তানের এক প্রধান শক্তি শালী মন্ত্রী এই ড্রোন আক্রমণের নাম দিয়েছেন “শান্তি প্রক্রিয়ার উপরেই আঘাত” বলে”.

পাকিস্তানের তালিবদের পক্ষ থেকে তাদের নেতা হাকিমুল্লা মেহসুদের মৃত্যুতে প্রথম প্রতিক্রিয়া নির্দেশ করেছে যে, শান্তি আলোচনা কম করে হলেও এখন মুলতুবি রাখা হয়েছে, যদি না একেবারেই তা ভণ্ডুল হয়ে গিয়ে থাকে. বেশ কিছু জঙ্গী নেতা প্রশাসনকেই দায়ী করেছে “বিশ্বাসঘাতকতা” করার জন্য আর বলেছে তারা আর কোন রকমের আলোচনা চায় না. আবার একটি ঐস্লামিক জঙ্গী গোষ্ঠী “জণ্ডুলা”র প্রতিনিধি আহমেদ মারওয়াত বলেছে যে, তারা এবারে “প্রতিশোধের আঘাত” হানবে.

বর্তমানে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শরীফকে এবারে খুবই দ্রুত দুটো কঠিনতম কাজ করতে হবে. প্রথমটি – তালিবদের সঙ্গে আলোচনায় আবার করে প্রাণ সঞ্চার করা, হাকিমুল্লা মেহসুদের মৃত্যু স্বত্বেও তাদের ইসলামাবাদের তরফ থেকে নিজেদের সততার বিষয়ে নিঃসন্দেহ করা. দ্বিতীয় – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা অবধি না গিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেদের কড়া মনোভাব প্রদর্শন করা, যা তাদের কাছ থেকে এখন শুধু আর তালিবরাই আশা করছে না, বরং দেশের সমস্ত নেতৃস্থানীয় রাজনৈতিক শক্তিরাই আশা করেছে. “দেখাই যাচ্ছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শান্তির বিরুদ্ধেই কাজ করছে ও তারা চায় না যে, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ কমুক. এখন আমাদের শুধু একটাই কাজ: খাইবার পাখতুনভা হয়ে যাওয়া ন্যাটো জোটের জন্য মাল পরিবহনের স্রোতকে বন্ধ করা”, - ঘোষণা করেছেন প্রাদেশিক বিধানসভার স্পীকার আসাদ কাইসের.

এর আগের পাকিস্তানের প্রশাসন, যার নেতৃত্বে ছিলেন আসিফ আলি জারদারি, তারাও একবার ইতিমধ্যেই ন্যাটো জোটের জন্য ট্রানজিট বন্ধ করে দিয়েছিলেন, যখন ড্রোন বিমানের আঘাতে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর কর্মীরাই নিহত হয়েছিল.

নতুন করে চাগিয়ে ওঠা স্ক্যান্ডালকে থামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের সরকারি প্রতিনিধি পাকিস্তানের রাজনীতিবিদদের কড়া বক্তব্যের উপরে কোন মন্তব্য করতে যান নি. তাঁর কথামতো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান আগের মতই সম্মিলিত ভাবে জীবনের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজিক স্বার্থের বিষয়ে একমত রয়েছে, যাতে এই এলাকায় চরম পন্থাকে ও হিংসার প্রসারকে শেষ করা সম্ভব হয় ও সেখানে সমৃদ্ধি, শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়.

কিন্তু হাকিমুল্লা মেহসুদের উপরে আক্রমণ প্রমাণ করে দিয়েছে যে, ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের পথ আরও বেশী করেই দূরে সরে যাচ্ছে.