“সারে যাহাঁ সে আচ্ছা হিন্দুস্তান হামারা. হাম বুলবুল হ্যায়, ও হ্যায় গুলিস্তান হামারা”. ভারতীয় উপ-মহাদেশের মহান কবি মহম্মদ ইকবালের কবিতার এই ছত্র ভারত ও পাকিস্তানের প্রত্যেকটি অধিবাসীর মুখস্ত. আমাদের দেশেও ভারততত্ত্ববিদেরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর রচনা নিয়ে চর্চা করেন. ৮ই নবেম্বর মহম্মদ ইকবালের জন্মদিবস. ‘ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া’ বইয়ের লেখক পন্ডিত জওহরলাল নেহরু কবি ইকবালকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন এবং বহুবার তিনি ঐ জনপ্রিয় কবির সাথে সাক্ষাত্ করেছিলেন. ইকবালের রচনা বহু সংস্করণে রাশিয়ায় অনূদিত হয়েছে, তার সুবাদে রুশী পাঠকরাও তাঁর রচনার সাথে ঘনিষ্ঠ পরিচিত. রুশী গবেষক ও রাশিয়ায় বসবাসকারী পাকিস্তানিরা গঠন করেছেন উর্দু উন্নয়নের জন্য রুশী সমাজ, য়ে সংগঠন ইকবালের রচনা রুশীদের মধ্যে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে প্রচুর অবদান রেখেছে.

মহান রুশী লেখক ও নাট্যকার আন্তন চেখভ লিখেছিলেন – সিংহল হল ভূস্বর্গ. তিনি ১৮৯০ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝি সিংহল সফর করেছিলেন. কলম্বো সফর করার পর তিনি কান্ডি দ্বীপ সফর করেছিলেন, যেখানে বুদ্ধদেবের পবিত্র দাঁতের ওপর তৈরী করা মন্দির রয়েছে. দুই বছর আগে কলম্বো নগরীতে আন্তন চেখভের আবক্ষ স্মৃতিমূর্তি উন্মোচন করা হয়েছে. রুশী ভাস্কর গ্রিগোরি পোতোত্স্কি নির্মিত ঐ স্মৃতিমূর্তি রাশিয়া শ্রীলঙ্কার জনগণকে বিনামূল্যে দান করেছে. স্মৃতিমূর্তিটি বলানো হয়েছে গ্র্যান্ড-ওরিয়েন্টাল হোটেলের পাশেই, যেখানে সিংহল সফরকালে আন্তন চেখভ আস্তানা গেড়েছিলেন.

দুই মহান ভারতীয়ের জন্মতিথি এই নভেম্বরেই. একজন স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত জওহরলাল নেহরু, যার জন্মদিবস ১৪ই নভেম্বর, আর তাঁর সুযোগ্যা কন্যা ইন্দিরা গান্ধীর জন্মদিবস ১৯শে নভেম্বর. এই দুই স্মরণীয় ব্যক্তিত্বই ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে চিরকালীন মৈত্রী ও সহযোগিতার বুনিয়াদ গড়েছিলেন. ওরা উভয়েই বহুবার আমাদের দেশ সফর করেছেন. জওহরলাল ও ইন্দিরার নামে আমাদের দেশে শহরে-গঞ্জে অসংখ্য রাস্তা ও স্কোয়ারের নাম. আমাদের চিত্রশিল্পীদের হাতে আঁকা তাঁদের অজস্র পোর্ট্রেট দেশের বিভিন্ন মিউজিয়ামের শোভাবর্ধন করে. ২০০৮ সালে মস্কোয় প্রকাশিত ‘আত্মার সন্ধানে ভারতে’ নামক গ্রন্থে সবিষদে লেখা হয়েছে, যে ১৯৫৫ সালে রাশিয়ায় প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে আসার জন্য পন্ডিত নেহরু কিরকম গুরুতর প্রস্তুতি নিয়েছিলেন. ঐ সফরের ২ বছর আগে তিনি পরিচয়মুলক সফর করার জন্য কন্যা ইন্দিরাকে সোভিয়েত ইউনিয়নে পাঠিয়েছিলেন এবং সোভিয়েত ইউনিয়নে তত্কালীন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত কৃষ্ণ মেণনকে অনুরোধ করেছিলেন ইন্দিরাকে ব্যক্তিগত অতিথির ভূমিকায় আপ্যায়ণ করার, যাতে ইন্দিরা খোলাখুলি দেশটা দেখার সুযোগ পান, যা কূটনীতিবিদরা তখন পেতেন না. ইন্দিরা তখন মস্কো ছাড়াও লেনিনগ্রাদে(অধুনাতন সেন্ট-পিটার্সবার্গে), ত্বিলিসি, সোচি, ইয়াল্টা, তাসকেন্তে গিয়েছিলেন. দেশে প্রত্যাবর্তণ করে ইন্দিরা তাঁর পিতাকে আমাদের দেশ সম্পর্কে এমন বিষদে বৃত্তান্ত দিয়েছিলেন, যে দেখা বা দানা সম্ভব ছিল না রাষ্ট্রদূতাবাসের কর্মীদের পক্ষে. এইভাবেই পন্ডিত জওহরলাল নেহরু তাঁর প্রথম সোভিয়েত দেশ সফরের পাকাপোক্ত প্রস্তুতি নিয়েছিলেন.

২০শে নভেম্বর ভারতীয় উপ-মহাদেশের স্বনামধন্য কবি, সাহিত্যিক ও সমাজসেবী ফঈজ আহমদ ফঈজের মৃত্যুদিবস. রাশিয়ার যে কোনো লাইব্রেরিতে তাঁর রচনাবলী পাওয়া যাবে. আমাদের সব সেরা কবিরা তাঁর রচনা রুশী ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন. তিনি বহুবার মস্কো সফর করেছিলেন. রাশিয়ার কবি ও সাহিত্যিকদের সাথে তাঁর সাক্ষাত্কার সরাসরি কেন্দ্রীয় টেলিচ্যানেলগুলোর মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছিল. আর তাই রাস্তাঘাটে আমাদের সাধারণ মানুষ তাকে দেখে চিনতে পারতো.