‘আপ ইন দ্য স্পেস’ প্রকল্পে অংশগ্রহণকারীদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে ব্যক্তিগত মহাকাশ সফরকে জনপ্রিয় করে তোলা এবং মহাকাশ বিজ্ঞানের উন্নয়ন ঘটানো. ‘রেডিও রাশিয়া’কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে এই প্রকল্পের জনক আলেক্সেই আনানিন বলেছেন পৃথিবীর কক্ষপথে, উপ-কক্ষপথে, চাঁদে এমনকি অন্যান্য গ্রহেও পর্যটকদের পরিভ্রমণ করানোই আমাদের লক্ষ্য. –

আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে মহাকাশ সফরকে মানুষের আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যে আনা. উপরন্তু, আমরা চাই, যে মহাকাশ পর্যটকরা যেন শুধু গায়ে ফুঁ লাগিয়ে মহাকাশ সফর করেই ফিরে না আসে, তারা সেখানে যেন গবেষণাও করে. আমরা বাজারের বিশাল সম্প্রসারনের পূর্বাভাস দিচ্ছি, কারণ সম্প্রতি আমেরিকানরা বহু যাত্রীবহনকারী এক মহাকাশযান বানিয়েছে. আমরা খুবই আশা করছি যে, রাশিয়াও এই অভিমুখে বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ঘটাবে.

প্রকল্পটির জনকরা জোর দিয়ে বলছেন, যে এটা ধনী লোকেদের সাধ মেটানোর জন্য নয়. ২০১৪-১৬ সালের মধ্যে দেড়শো’রও বেশি বৈজ্ঞানিক প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে. ঐগুলোর অধিকাংশই উদ্ভাবনীমুলক প্রযুক্তির নিরীক্ষা করার জন্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিবারণ করার জন্য, পৃথিবী এবং মনুষ্য বসবাসযোগ্য অন্যান্য মহাজাগতিক ভূমির নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য. –

আমাদের অবশ্যই বেসরকারি প্রকল্প, সরকারি প্রকল্পের সাথে আয়তনে আমাদের কোনো তুলনাই চলতে পারে না. পরিবেশ দূষণ নিবারণ এবং যে কোনোরকম মহাজাগতিক বিপদাশঙ্কা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে আমরা উজ্জ্বল সব প্রতিভাকে টানার চেষ্টা করছি. সম্প্রতি চেলিয়াবিনস্কে যা ঘটে গেল, তার পরে মনে হচ্ছে যে এই অভিমুখে কাজ করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়.

‘আপ ইন দ্য স্পেস’ প্রকল্পটি চালু করেছেন রাশিয়ার মহাকাশচারীরা. সামনের বছর মহাকাশ উড়ানের জন্য ইচ্ছুকদের একটি দলও গঠন করা হয়েছে. আপাতত উড়ানযান হচ্ছে রুশী ‘সয়ুজ’, তবে নতুন প্রজন্মের, আরও উন্নতমানের ‘সয়ুজ’ খুব শীঘ্রই ছাড়ার কথা চলছে. নক্ষত্র সফর করানোর পরিপ্রেক্ষিতও বেশ উজ্জ্বল. ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০০ কিলোমিটার উপরে তুলে নিয়ে গিয়ে তারপর আবার পৃথিবীর বুকে ফিরিয়ে আনা হবে পর্যটকদের. সাধারণ মানুষের জন্য এরকম সফর আদৌ ক্লান্তিকর হবে না, কিন্তু সেইসাথেই তারা ওজনহীনতার অনুভূতি উপভোগ করতে পারবে.

জনসাধারণের জন্য নক্ষত্রমন্ডলকে নাগালের মধ্যে আনতে গিয়েও কিন্তু ‘আপ ইন দ্য স্পেস’ প্রকল্পের প্রযুক্তিবিদরা পার্থিব সব সমস্যার কথাও ভুলে যাননি. নাগরিক যানজটের সমস্যা শিথিল করার জন্য তারা ‘মন্ত্র-টেলিপোর্ট’ নামক হেলিকপ্টার-ট্যাক্সি বাজারে ছাড়তে চলেছেন. খানিকটা হলেও এটা অন্তত যানজটের হাত থেকে কিছু মানুষকে রেহাই দেবে.