১৭ শতকের শুরুর দিকে রাশিয়া ইতিহাসের অন্যতম দুর্বিসহ সময় অতিক্রম করেছিল। রাশিয়ার ইতিহাসে যা ক্রান্তিকাল হিসেবে স্থান পেয়েছে। জার শাসন ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ায় দেশে ক্ষমতাসীনদের মাঝে দ্বন্ধ শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে তা গৃহযুদ্ধের দিকে অগ্রসর হয়। আর এর পূর্ণ সুযোগ গ্রহণ করার চেষ্টা করেছিল পোলিশ বাহিনী। তারা রাশিয়ার অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েছিল এবং পুরো দেশ স্বাধীনতা হারাতে বসেছিল। এমনটি বলছেন মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস অনুষদের প্রভাষক আলেগ আইরাপেতোভ। রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন, “যদি ৪০০ বছর পূর্বের সেই অতীতের ঘটনাবলীর দিকে আমরা তাকাই তাহলে তা সেই সব জাতির জন্য এক বিভীষিকাময় অধ্যায় ছিল যারা মস্কো প্রশাসনে বসবাস করেছিল।“ 

মিনিন ও দিমিত্রি পোজারস্কি যে সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাতে সাড়া দিয়েছিল সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ যারা সত্যিকার অর্থেই শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন।

 ১৭ শতকের শুরুর দিকে রাশিয়ায় পোলিশদের সাথে ভয়াবহ যুদ্ধ চলেছিল। রাশিয়ার পশ্চিঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে ঢুকে পড়েছিল পোলিশ বাহিনী। কেন্দ্রীয় সরকার দূর্বল হয়ে পড়ায় পুরো রাশিয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। আর ঘটনার পরিক্রমায় ১৬১০ সালে মস্কো প্রবেশ করে পোলিশ সেনারা।

মস্কোবাসী ছাড়াও রাশিয়ার বিভিন্ন শহরে শুরু হয় প্রতিবাদ বিক্ষোভ। পোলিশ বাহিনীকে বিতাড়িত করতে গঠন করা হয় স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী। ওই বাহিনীতে খিষ্ট্রান, মুসলমান ও বৌদ্ধসহ সব ধর্মের মানুষদের নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার কৌশল শেখানো হয়। ১৬১২ সালে নভেম্বর মাসে কুজমা মিনিন ও দিমিত্রি পোজারস্কির নেতৃত্বে রুশ সেনারা মস্কোকে শত্রুমুক্ত করতে সমর্থ হয়। আর ৪ঠা নভেম্বর পরাজয় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ চুক্তি সই করে পোলিশরা।

তবে আধুনিক রাশিয়ায় রাষ্ট্রীয়ভাবে গণ ঐক্য দিবস পালন করা শুরু হয় ২০০৫ সাল থেকে। অনেক রুশীদের জন্যই এটি একদম নতুন একটি উৎসব। তবে এর অনেক প্রয়োজন রয়েছে আজকের নতুন প্রজন্মের জন্য। কারণ এ উৎসব সমাজের প্রতি রুশীদের ভাবনা জাগিয়ে তোলে, দেশের আগামী দিনের কথা চিন্তা করতে শেখায়। এমনটি মনে করছেন দুমার শিক্ষা বিষয়ক কমিটির সহকারি প্রধান ভ্লাদিমির বরমাতোভ। রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন, “আমরা নিজেদেরকে একটি জাতি হিসেবে অনুভব করতে পারি, ভাষা কিংবা ধর্মের উর্ধে থেকে একটি বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারি। শুধুমাত্র রুশ ভাষা ছাড়াও অন্যান্য ভাষায় কথা বলে সেই অনুভূতি পাওয়া যায়। আর এসব কারণেই ৪ঠা নভেম্বরের এত মহত্ব রয়েছে।“