রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও আরব লীগের বিশেষ প্রতিনিধি লাখদার ব্রাহিমি আরও একবার সিরিয়ার প্রশাসনের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক “জেনেভা-২” সম্মেলনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সহমত পেয়েছেন, কিন্তু তিনি সেই রকমের একটা গ্যারান্টি সিরিয়ার ভেতরে ও বাইরে থাকা বিরোধীদের কাছ থেকে পেতে সক্ষম হন নি. যদিও বিশেষ প্রতিনিধি উল্লেখ করেছেন যে, বিরোধীদের অংশগ্রহণ ছাড়া “জেনেভা-২” সম্মেলন হওয়া সম্ভব নয়. এটা বলা যেতে পারে সেই প্রসঙ্গে যে, কে সিরিয়াতে যুদ্ধ চলতে থাকাকে চাইছে.

তারই মধ্যে, ইজরায়েলের সামরিক বিমান বাহিনী, সব দেখেশুনে মনে হয়েছে যে, লাতাকিয়া শহরে সিরিয়ার সামরিক ঘাঁটি উপরে বোমা বর্ষণ করেছে. এটাও সেই প্রসঙ্গে যে, কে কার জন্য বিপজ্জনক: সিরিয়া তাদের প্রতিবেশীদের জন্য, নাকি সেই প্রতিবেশীরাই – সিরিয়ার জন্য. আপাততঃ সিরিয়ার এলাকার উপরে ইজরায়েল আঘাত হানছে আর সমস্ত প্রতিবেশী দেশ থেকেই এই দেশে ঢুকে পড়ছে সশস্ত্র জঙ্গীর পাল.

সিরিয়ার প্রশাসন বিষাক্ত বস্তু নষ্ট করার রুটিনের মধ্যেই রয়েছে. রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধ করার সংস্থা দূষিত বস্তু উত্পাদন করার মতো সমস্ত জায়গা খুলে ফেলা ও তা দিয়ে অস্ত্র তৈরী করা বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে বলে খবর দিয়েছে.

কিন্তু খবর এসেছে যে, এই দেশে নতুন করে বিষাক্ত অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে – আর আবারও সেই বিরোধীদেরই সন্দেহ করা হচ্ছে. এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় দ্যুমার আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ড পরিষদের সদস্য সিমিওন বাগদাসারভ বলেছেন:

“রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা নিয়ে পরীক্ষা চলবে, যদিও এই ক্ষেত্রে সরকারি ভাবে দামাস্কাসের প্রশাসনকে বাস্তবে অভিযোগ করা অসম্ভব এই কারণে যে, সিরিয়ার নেতৃত্ব রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছেন. এখানে বোঝার দরকার রয়েছে যে, বিরোধীদের কাছে রাসায়নিক অস্ত্রের সবচেয়ে সম্ভাব্য উত্স হল লিবিয়ার ভাণ্ডার. সেখান থেকে রাসায়নিক অস্ত্র যাচ্ছে তুরস্কে, আর সেই তুরস্ক থেকে আসছে জঙ্গীদের কাছে. এই সব পথ সবসময়ে সঠিক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়. আর নানা রকমের সন্ত্রাসবাদী দল তাদের প্রয়োজন যখনই হচ্ছে, তখনই এই সব গণহত্যার অস্ত্র ব্যবহার করে চলেছে”.

এখানে আগ্রহের বিষয় হল যে, সিরিয়াতে রাসায়নিক অস্ত্রের শেষ ব্যবহার পশ্চিমের সংবাদ মাধ্যমে প্রায় কোন রকমের প্রচারই করা যায় নি, যে কারণে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এমনকি আলাদা করে ঘোষণাও করেছেন. ইজরায়েলের পক্ষ থেকে বিমান হানার বিষয়েও কোন রকমের সমালোচনা হয় নি – পশ্চিমের দেশরা বোধহয় সেই ব্যাখ্যাতেই সন্তুষ্ট হয়েছে যে, সমস্ত অস্ত্র যা ধ্বংস করা হয়েছে, তা নাকি লেবাননের “হেজবোল্লা” গোষ্ঠীর জন্য তৈরী হয়েছিল. যদিও এই ব্যাপারে খুবই গভীর সন্দেহের অবকাশ রয়েছে.

আন্তর্জাতিক অধিকারের কথা না ধরলেও এমনকি সাধারণ মানুষের বিবেকের দৃষ্টিকোণ থেকে সিরিয়ার শান্তিতে অনিচ্ছুক বিরোধী পক্ষ ও তাদের বিদেশের পৃষ্ঠপোষকদের মোটেও আর অকলঙ্কিত দেখাচ্ছে না. প্রসঙ্গতঃ বিবেকের প্রশ্নে ও অধিকারের বিষয়ে, বোধহয় তথাকথিত সিরিয়ার বান্ধবরা খুব একটা আগ্রহ প্রকাশ করছেন না.