আলাদা করে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনার পরের দিনে টোকিও শহরে “২+২” ফরম্যাটে আলোচনা হয়েছে. এই ধরনের প্রেক্ষাপটে আলোচনা রাশিয়া ও জাপানের সম্পর্কের ইতিহাসে এই প্রথমবার হয়েছে. আর তা দেখিয়ে দিয়েছে যে, দুই দেশই বর্তমানে যে কোন ক্ষেত্রেই সম্মিলিত ভাবে সমস্যা সমাধানে প্রস্তুত রয়েছে, এই কথা ঘোষণা করে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ফুমিও কিসিদা বলেছেন:

“রাশিয়া- জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের খুবই গুরুত্বপূর্ণ উন্নতির পরিবেশে, যেমন অর্থনীতিতে, আমাদের উচিত্ হবে নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বৃদ্ধির. এটা জাপান- রাশিয়া সম্পর্কের সার্বিক উন্নতিতেই বড় প্রভাব ফেলবে. তাছাড়া, এই ক্ষেত্রে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে সহযোগিতা – পূর্ব এশিয়ার দুই প্রধান ক্রীড়নকদের মধ্যে – শান্তি স্থাপনের কাজে ও এই সমগ্র অঞ্চলের স্থিতিশীলতার কাজেও খুবই উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে”.

বাস্তবে এই সহযোগিতার বর্তমান রূপ হল আডেন উপসাগর এলাকায় জলদস্যূদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত মোকাবিলা, সন্ত্রাস ও সাইবার বিপদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত ভাবে সংগ্রাম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পর্যায়ে আরও বেশী ঘনঘন যোগাযোগ.

এই প্রসঙ্গে টোকিও ও মস্কোর পারস্পরিক সহযোগিতা নিরাপত্তা ক্ষেত্রে কোন দেশের বিরুদ্ধে লক্ষ্য করে করা হচ্ছে না. তা টোকিওর সবচেয়ে কাছের সহযোগীদের বিরুদ্ধেও করা হচ্ছে না বলে উল্লেখ করে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন:

““২+২” কাঠামো জাপানের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অথবা অন্য কোন দেশের সঙ্গে সম্পর্কের উপরে আক্রমণ করা নয়. আমরা আশা করব যে, জাপান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কও রাশিয়ার জন্য কোনও সমস্যার সৃষ্টি করবে না. রাশিয়ার পররাষ্ট্র নীতির একটি প্রধান লক্ষ্য হল যে, কোন একটি দেশও, তার মধ্যে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলিও রয়েছে, নিজেদের বিষয়ে যেন কোন রকমের অসুবিধার সম্মুখীণ না হয়, নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে যেন কোন রকমের ঝুঁকি অনুভব না করে”.

লাভরভ বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়া এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকাতে নতুন নিরাপত্তার কাঠামো প্রস্তাব করেছে, যা তৈরী হয়েছে নিরাপত্তার বিষয়ে কোন রকমের ভাগ না করেই – “যখন কেউই নিজেদের নিরাপত্তা অন্যের মূল্যে বজায় রাখার চেষ্টা করবে না”. কিন্তু লাভরভের কথামতো, বাস্তবে এই নীতি আপাততঃ পালন করা হচ্ছে না. তার উদাহরণ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে বিশ্বজোড়া রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থার সৃষ্টি করা. ঠিক এর আগেই টোকিও ও ওয়াশিংটন সমঝোতায় পৌঁছেছে জাপানে দ্বিতীয় রাডার ব্যবস্থা বসানো নিয়ে. এই প্রসঙ্গে উঠে আসা প্রশ্ন মস্কো ও টোকিও আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করবে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সের্গেই শইগু বলেছেন:

“আমরা লুকাই নি যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বজোড়া রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা, যাতে জাপানের অংশ টিকেও জোড়া লাগানো হবে, তা আমাদের খুবই গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়েছে. প্রাথমিক ভাবে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকাতে সম্ভাব্য স্ট্র্যাটেজিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে বলেই. আমরা জাপানের সহকর্মীদের কাছে প্রস্তাব করেছি যে, রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে বাড়তি পরামর্শ করার প্রয়োজন রয়েছে, যেখানে আমরা আমাদের মূল্যায়ণ ও সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করবো”.

এই আলোচনার অন্য একটি বিষয় হয়েছে তথাকথিত সক্রিয় শান্তিবাদী রাজনীতি – সেই পথ, যা জাপানে নেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রী সিঞ্জো আবে নির্বাচিত হওয়ার পরে থেকেই. সের্গেই লাভরভের কথামতো, “তিনি শুনেছেন ও মূল্যায়ণ করেছেন, তাঁর সহকর্মীদের ঘোষণাগুলোকে”, যেখানে একেবারেই এই রাজনীতিকে বলা হয়েছে শান্তিবাদী বলে. তারই সঙ্গে তিনি সেটাও লক্ষ্য করেছেন যে, জাপান পরবর্তী কালে সমস্ত ধরনের সমস্যাকেই শুধু শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমেই নিরসন করতে প্রস্তুত হয়েছে.

মন্ত্রীরা এখানে আন্তর্জাতিক সমস্যাগুলোকে নিয়েও আলোচনা করেছেন, তার মধ্যে সিরিয়ার পরিস্থিতিও রয়েছে. রাশিয়ার পক্ষ থেকে জাপানের “জেনেভা-২” সম্মেলনে অংশগ্রহণের স্বপক্ষে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে. মস্কো সেই সমস্ত দেশের অবস্থানকে মূল্য দিয়ে থাকে, যারা কোন রকমের প্রাথমিক শর্ত ছাড়াই শান্তি প্রস্তাব নিয়ে সম্মেলনের স্বপক্ষে কথা বলেছে. নিজের অবস্থানকে এই ভাবেই সের্গেই লাভরভ ব্যাখ্যা করেছেন.

এই আলোচনা শেষ হওয়ার পরে মন্ত্রীরা ঘোষণা করেছেন যে, তাঁরা এবারে ঠিক করেছেন এই ধরনের সাক্ষাত্কারকে নিয়মিত করার. পরবর্তী আলোচনা হবে ২০১৪ সালে মস্কো শহরে.