এবারে বাকী রয়েছে প্রায় এক হাজার টনেরও বেশী রাসায়নিক অস্ত্র নষ্ট করার, আর তারই সঙ্গে হাজারেরও বেশী অস্ত্র না লাগানো অবস্থায় বাহক ব্যবস্থা, অংশতঃ রকেট ও মাইন ধ্বংস করে দেওয়ার. এটাই মিশনের তৃতীয় অধ্যায়ের কাজের মূল কথা. এখন অবধি বানানো রুটিন অনুযায়ী এই কাজ শেষ করতে সময় লাগার কথা ২০১৪ সালের ৩০শে জুন অবধি. আর বিশেষজ্ঞরা কোন সন্দেহই প্রকাশ করছেন না যে, এই পরিস্থিতিতেই আন্তর্জাতিক সমাজ একসারি সমস্যার মুখোমুখি হবে. এই কথা উল্লেখ করে তথ্য প্রকল্প কেন্দ্র পেইএর- সেন্টারের ডিরেক্টর আন্দ্রেই বাকলিতস্কি বলেছেন:

“সকলেই একেবারে শুরু থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন যে, রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করে দেওয়ার কাজ একটা জটিল কাজই হবে. কারণ তার জন্য সময় ধরা হয়েছে ২০১৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত – খুবই উচ্চাকাঙ্ক্ষা সমেত এই পরিকল্পনা. রাসায়নিক অস্ত্রের একটা অংশকে সিরিয়ার এলাকাতেই নষ্ট করতে হবে. এটা প্রাথমিক ভাবে কামানে দাগার মত অস্ত্র. এগুলোকে কোন জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কোন রকমের মানেও হয় না আর তার জন্য বিশেষ সম্ভাবনাও নেই. সেগুলোকে তাদের রাখার জায়গাতেই ধ্বংস করতে হবে, খুব সম্ভবতঃ, কোন চলমান যন্ত্রের সাহায্যে. যুদ্ধের কারণে সিরিয়াতে বড় কোন কারখানা তৈরীর সম্ভাবনাও কম”.

রাসায়নিক বস্তু সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল যে, বিশেষজ্ঞরা খুবই বেশী রকমের সন্দেহ নিয়ে সিরিয়াতেই এই ধরনের জিনিষ নষ্ট করার বিষয়ে চিন্তা করছেন. এই কথা উল্লেখ করে রুশ প্রশাসনের অন্তর্গত সামরিক –শিল্প কমিশনের পরামর্শদাতা সভাপতির বিশেষজ্ঞ সভার সদস্য ও “পিতৃভূমির অস্ত্র সম্ভার” জার্নালের প্রধান সম্পাদক ভিক্টর মুরাখোভস্কি বলেছেন:

“আমি মনে করি যে, সিরিয়ার এলাকায় বর্তমানে সত্যই খুবই সমস্যা সঙ্কুল হবে রাসায়নিক অস্ত্র নষ্ট করার কাজ করাতে, প্রথমতঃ, সেই নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেই. রাসায়নিক অস্ত্র তৈরী করার মতো যন্ত্রপাতি নষ্ট করে ফেলার মতো কাজে বেশী সময় লাগে না. কারণ এখানে একেবারেই যান্ত্রিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে. কিন্তু রাসায়নিক অস্ত্র নষ্ট করার বিষয়টা খুবই গুরুতর সমস্যা তৈরী করতে পারে. সিরিয়ার জমা হওয়া অস্ত্র নিয়ে ঘোষণা বিচার করলে দেখা যাবে যে, কম করে হলেও ছয় মাস লাগবে এটা করতে, আর, খুবই সম্ভব যে, তা আরও বেশী সময় ধরেই হতে পারে – এক বছর বা দেড় বছর. যদি অন্য কোন দেশে নিয়ে যাওয়া ছাড়া স্রেফ ধ্বংস করে ফেলার জন্য খরচের কথা ধরা হয় – তবে এটা প্রায় একশ কোটি ডলার”.

কিন্তু মনে হচ্ছে যে সেই এই অস্ত্র নিয়ে যেতেই হবে. কিছু তথ্য অনুযায়ী সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র নষ্ট করে ফেলার জন্য আলবানিয়াতে নিয়ে যাওয়া হতে পারে. যদি তিরানা এই ব্যবস্থায় সম্মত হয়, তবে খুব সম্ভবতঃ, সামরিক পরিবহনের বিমান ব্যবহার করা হবে. তাছাড়া, এই সম্ভাবনাকেও বাদ দেওয়া যেতে পারে না যে, সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করার জন্য নিজেদের কাছে নিতে পারে বেলজিয়াম অথবা ফ্রান্স.