অনেক বিশেষজ্ঞই উল্লেখ করেছেন যে, ৩০ বছর বয়সী এডওয়ার্ড স্নোডেন রাশিয়াতে কোন রকমের পরিশ্রম না করেই কাজ খুঁজে পেতে পারে. তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষিত বিশেষজ্ঞ রাশিয়াতে খুবই প্রয়োজনীয়. এক রকম ভাবে এটাই সমর্থন করেছেন রাশিয়ার “ভ্কনটাক্টে” নামক সামাজিক সাইটের রচয়িতা পাভেল দুরভ. তিনি সেই আগষ্ট মাসেই এই আমেরিকার ব্যক্তিটিকে নিজের কোম্পানীতে কাজের জন্য আমন্ত্রণ করেছিলেন, ঠিক তখনই যখন এডওয়ার্ড স্নোডেনকে রাশিয়াতে সাময়িক ভাবে আশ্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল.

সামাজিক সাইট ছাড়া স্নোডেনের কাছে কাজ পাওয়ার জন্য সেই সমস্ত কোম্পানীরাও যেতে পারে, যারা কম্পিউটারের জন্য ভাইরাস প্রতিরোধক প্রোগ্রাম তৈরী করে থাকে, আর খোঁজার সিস্টেম বা মেইল সার্ভিস দিয়ে থাকে.

প্রধান প্রশ্ন হল যে, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার প্রাক্তন কর্মী কত ভাল বিশেষজ্ঞ. কিন্তু তা নিয়ে এখনই বিচার করতে বসা জটিল, এই কথা উল্লেখ করে “গ্রোটেক” কোম্পানীর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর আলেকজান্ডার ভ্লাসভ বলেছেন:

“বোঝাই যাচ্ছে যে, তিনি অসামরিক বিষয়ে অভ্যস্ত ও তিনি সমাজকে সেই সমস্ত সমস্যা সম্বন্ধে জানানি দেন, যা প্রায়ই উদ্ভব হয়ে থাকে. তিনি কতটা ভাল তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, তা কেউই বলতে পারে না, যতক্ষণ না কাজ করতে শুরু করছেন. কিন্তু অন্যদিক থেকে, যদি তিনি জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থায় কাজ করে থাকেন, তার মানে হল যে, তার খুবই ভাল রকমের আইটি অভ্যাস রয়েছে ও তথ্য সংক্রান্ত নিরাপত্তা নিয়েও. তাই আমি মনে করি যে, যে কোন কোম্পানীতেই একজন বিশেষজ্ঞ হিসাবে তার জন্য চাহিদা থাকবে”.

এডওয়ার্ড স্নোডেন বিখ্যাত হয়েছে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশ্ব জোড়া ইন্টারনেটে নজরদারি ও বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের টেলিফোনে আড়িপাতা নিয়ে খবর ফাঁস করে দেওয়ার জন্য. জুন মাসের শেষে সে মস্কো শহরে এসে পৌঁছেছিল ও এক মাসের বেশী সময় নিয়ে “শেরেমেতিয়েভো” বিমানবন্দরের ট্রানজিট এলাকায় রয়ে গিয়েছিল. পয়লা আগষ্ট তাকে রাশিয়াতে এক বছরের জন্য পলাতক হিসাবে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে. নিজেদের পক্ষ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইন রক্ষা বিভাগ এডওয়ার্ড স্নোডেনের বহিঃস্কার দাবী করে চলেছে. নিজের দেশে এডওয়ার্ড স্নোডেনের নামে গুপ্তচর বৃত্তি ও গোপন খবর ফাঁস করে দেওয়ার জন্য অভিযোগ আনা হয়েছে. এই খবরের প্রত্যেকটির জন্য তার দশ বছরের উপরে জেল খাটার শাস্তি হতে পারে.