হোয়াইট হাউস মনে হচ্ছে এবারে আক্রমণের পথে নামছে. প্রশাসনের তরফ থেকে মন্তব্যে এমন সব বাক্য শোনা যাচ্ছে যে, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা সেই রকমের কিছু গুনাহ বলে উল্লেখ করার মতো কাজ করে নি, শুধু একটুখানি “খড়ির গণ্ডী পার” হয়েছে. কিন্তু বেশীটাই করেছে দরকারি কাজ. এই সম্বন্ধে ঘোষণা করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব জন কেরি. তিনি বলেছেন যে, সম্ভব হয়েছে বিমান পড়ে যাওয়া আটকানোর, বাড়ীতে বিস্ফোরণ না হতে দেওয়ার আর হত্যা বন্ধ করার, কারণ গুপ্তচর বিভাগ আগে থেকেই সেই সম্বন্ধে জানতে পেরেছিল.

কেরি কিন্তু, কোন রকমের নির্দিষ্ট উদাহরণের কথা তোলেন নি, যেভাবে জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার নজরদারির ফলে সন্ত্রাসবাদী কাণ্ড এড়ানো সম্ভব হয়েছে.

আমেরিকার উকিল, ব্লগার ও সাংবাদিক গ্লেন গ্রীনওয়াল্ড, যিনি প্রথম এডওয়ার্ড স্নোডেনের পক্ষ থেকে তথ্য ফাঁস করা নিয়ে খবর দিয়েছিলেন, তিনি বলেছেন, এই ধরনের কোনই উদাহরণ নেই. তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ পরিষেবা এমনকি ১৫ই এপ্রিল বস্টন শহরের ম্যারাথনের সময়েই সন্ত্রাসবাদী কাণ্ড বন্ধ করতে পারে নি. জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা খবর যোগাড় করে যাচ্ছে, স্রেফ এই ধরনের কাজ করতে ওদের নেশা ধরে গিয়েছে বলে, এই রকমই তাঁর বিশ্বাস. দুঃখের বিষয় হল যে, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার পক্ষ থেকে তথ্য যোগাড় করাটা এমন একটা পরিমাণে এসে পৌঁছেছে যে, তা ইতিমধ্যেই উল্টো ফল দিতে শুরু করেছে, তাই গ্রীনওয়াল্ড বলেছেন:

“যত বেশী করেই আমাদের সম্বন্ধে, অর্থাত্ কোন ভাবেই দোষী নয়, এমন সব লোকদের সম্বন্ধে খবর যোগাড় করা হচ্ছে, তত বেশী করেই এই সংস্থার কাজের ফল উল্টো হচ্ছে. ততটাই কম হয়ে দাঁড়াচ্ছে এই সংস্থার পক্ষ থেকে সন্ত্রাসবাদী কাণ্ড আটকানোর সম্ভাবনা. তারা এখনই এত বেশী পরিমাণে খবর যোগাড় করে বসে রয়েছে যে, নিজেরাই জানে না কার সম্বন্ধে তাদের কাছে কি রয়েছে. তারা স্রেফ এত খবর বিশ্লেষণ করতেই সক্ষম নয়, কয়েকশো কোটি তথ্যকে ঐক্য বদ্ধ ব্যবস্থার মধ্যে এনে তার থেকে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত তৈরী করে ফেলার জন্য”.

জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার প্রশাসনিক যন্ত্রের সংস্কার সম্ভবতঃ হবে অথবা হবে না – সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন. কেউই অবশ্য অপেক্ষা করছে না যে, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাকে “মুচড়ে ভেঙে দেওয়া” হবে বলে: সেই ধরনের গুপ্তচর সংস্থার সংস্কার কোন দেশেই কখনও হয় নি. কিন্তু তাদের খিদেকে লাগাম দেওয়া ও প্রশাসনের দিক থেকে কোন রকমের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই উড়ে বেড়ানো এবারে খুব সম্ভবতঃ বন্ধ হতে পারে. যদি অবশ্য এর জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকে. এটাও সত্যি যে, খুবই কঠিন হবে বলা যে, এই ধরনের সংস্কার কতদূর অবধি করা হবে. কারণ ওবামার প্রশাসনই এই জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাকে বর্তমানে একটা “নিজে থেকেই উড়ে যাওয়ার অবস্থায়” পৌঁছে দিয়েছে. কংগ্রেসের অনুসন্ধান পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী গত শতকের নব্বইয়ের দশকের শেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচর বিভাগের জন্য বাজেট বরাদ্দ (সিআইএ, পেন্টাগন, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা, পররাষ্ট্র বিভাগ ও অন্যান্য দপ্তর) ছিল আড়াই থেকে তিন হাজার কোটি ডলার. বর্তমানে সেই বরাদ্দ বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত হাজার আটশো কোটি ডলার, অর্থাত্ প্রায় তিনগুণ. এই ধরনের আর্থিক ভাবে ট্যাঙ্ক ভর্তি করা হলে, তা আরও অনেকদিন উড়ে যেতে পারে.