“আমরা আমাদের সামনে এখন লক্ষ্য রেখেছি উল্লেখযোগ্য একসারি সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক অনুষ্ঠান দিয়ে এই জয়ন্তী বর্ষকে পালন করার, যা বিশ্বের সভ্যতার ভাণ্ডারে আমাদের দেশের দুই বিশ্ব বন্দিত পুরুষ বিশেষ করে রাখতে পেরেছেন, তারই যথাযোগ্য সম্মান করে”, বলেছেন আলেকজান্ডার কাদাকিন.

আলেকজান্ডার কাদাকিন জানিয়েছেন যে, রোয়েরিখদের ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ ও উন্নতি করার বিষয়ে অনেকটাই মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যা ২১শে অক্টোবর মস্কো শহরে রুশ-ভারত শীর্ষ সম্মেলনে আলোচ্য হিসাবে তোলা হয়েছিল. ক্রেমলিনে রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের প্রসারিত আলোচনার সময়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, পারস্পরিক ক্ষেত্রে এই কাজকে এবারে সত্যিকারের বিষয়বস্তু দিয়ে পূর্ণ করার প্রয়োজন পড়েছে, এই খবর দিয়েছেন রাষ্ট্রদূত. “প্রাথমিক ভাবে এটা নাগার শহরে যাদুঘর ও রোয়েরিখদের বাড়ী নিয়ে বলা হচ্ছে, যা পশ্চিম হিমালয়ে রয়েছে. এই কেন্দ্র, তার স্বাধিকারেই রাশিয়ার আত্মিক, সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক ঐতিহ্যের কেন্দ্র, যা রয়েছে রাশিয়ার বাইরে, আর তা আমাদের দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক ভাবে কাজের একটি মুখ্য কেন্দ্রও বটে, যা সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ঘটে থাকে, যেখানে প্রত্যেক বছরেই বহু শত রুশী ও ভারতীয় রোয়েরিখ ভক্তদের সমাগম ঘটে থাকে. রাশিয়া খুব জোর দিয়েই এই বিষয়ে আন্তর্রাষ্ট্রীয় মর্যাদার কথা ভেবেছে. আন্তর্প্রশাসনিক পরিষদের সংস্কৃতি সংক্রান্ত বিভাগের কার্যকরী কমিটিতে এই নিয়ে কাজ হওয়া দরকার ও তা প্রয়োজনীয় মন্ত্রী পর্যায়ে এবং নয়া দিল্লী ও মস্কো শহরে দুই দেশের রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে বাধ্যতা মূলক ভাবেই থাকতে বাধ্য”.

ভারতের নেতৃত্ব সবমিলিয়ে এই ধরনের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেছে. শীর্ষ সম্মেলনের আগে রাশিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে ও ক্রেমলিনে আলোচনার সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ ঘোষণা করেছেন যে, “ভারতে রোয়েরিখদের ঐতিহ্য দুই দেশের সম্মিলিত ভাবে গর্বের বিষয়. আমরা এর পরেও সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো যাতে এই ঐতিহ্যকে যথাবিহিত ভাবে সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা সম্ভব হয়” – বলেছেন ভারতের মন্ত্রীসভার প্রধান.

নাগার শহরের আন্তর্জাতিক রোয়েরিখ মেমোরিয়াল ট্রাস্টের স্থপতি ও বর্তমানের উপসভাপতি আলেকজান্ডার কাদাকিনের মতে, “এর জন্য ভারতের ও রাশিয়ার কেন্দ্রীয় দপ্তর, প্রতিষ্ঠান ও মন্ত্রীসভাদের যোগ দেওয়ানোর দরকার. আমাদের সম্মিলিত কাজকে যথাযোগ্য স্তরে তুলে ধরা দরকার, যাতে তা স্থানীয় প্রশাসনের ব্যুরোক্র্যাটিক ক্যাবিনেটে আটকা পড়ে না থাকে, আর সম্পূর্ণ ভাবেই সবচেয়ে উচ্চ আন্তর্জাতিক স্তরে সামঞ্জস্য রেখে করা যায়” – রাষ্ট্রদূত এই রকমই বিশ্বাস করেন. “নাগার শহরে রোয়েরিখদের এই মেমোরিয়াল কমপ্লেক্স একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত হওয়া দরকার, যেখানে ধর্মীয়, বৈজ্ঞানিক ও জ্ঞানের প্রসার ঘটানো সম্ভব হবে বিশ্ব মানের উপযুক্ত করে”.