বিশ্বের পরিসরে ফরাসীদের তরফ থেকে অল্যান্দের প্রতি এতটাই অপছন্দ অবশ্য মোটেও কোন “লজ্জার” রেকর্ড নয়. আপাততঃ সবচেয়ে কম রেটিংয়ের রেকর্ড ব্রেক করছেন পেরুর রাষ্ট্রপতি ওল্যান্তা উমালা. তাঁর কাজের জন্য সমর্থনের সীমা এখন শতকরা ২৫ ভাগেরও কম হয়েছে. কিন্তু অল্যান্দকে তো মনে হয় না যে, এটা কোন ভাবেই শান্তি দেবে, কারণ ইউরোপীয় সঙ্ঘে জনপ্রিয়তা হারানোর রেটিংয়ে তিনি বর্তমানে প্রথম স্থানেই রয়েছেন.

পুরনো দুনিয়াতে রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা প্রায় সমস্ত রাজনৈতিক নেতাই হারিয়েছেন: রেটিং পড়ে গিয়েছে ব্রিটেনের, স্পেনের, ইতালির, পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রীদের. গ্রীসের প্রধানমন্ত্রী এমনকি “গোড়ালি তুলে হেঁটেও” শতকরা ৪০ ভাগ সমর্থনের ধারে কাছে পৌঁছতে পারছেন না. ইউরোপে একটা ব্যতিক্রম মনে করা যেতে পারে জার্মানীর চ্যানসেলার অ্যাঞ্জেলা মেরকেলকে. “মুট্টি” অথবা “মামুলিয়া” (মা), তাঁকে যে আদরের নামে জার্মান লোকরা ডেকে থাকেন, সেই তিনি চ্যানসেলার হয়েছিলেন প্রথমবার ২০০৫ সালে আর আজও তিনি শতকরা ষাট ভাগ লোকের কাছেই জনপ্রিয় রয়ে গিয়েছেন.

মেরকেলের এই ব্যতিক্রম খুবই সহজে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে, এই কথা উল্লেখ করে জার্মানীর প্রজাতান্ত্রিক প্রশাসনের ক্যাবিনেটের মন্ত্রী উরসুলা ফন দের লেয়েন বলেছেন:

“তিনি নিজে খুবই সহজ ভাবে ব্যবহার করে থাকেন. তাঁর কোনও রকমের আড়ম্বরের লক্ষ্মণ নেই. আর লোকের এটাই ভাল লাগে. তিনি জনপ্রিয়, কারণ প্রত্যেকেরই মনে হয় যেন তিনি – আমাদেরই একজন”.

রাজনৈতিক নেতাদের জনপ্রিয়তার পতনের দ্রুততা ও তার গভীরতাও প্রত্যেকের ক্ষেত্রে আলাদা. সবই নির্ভর করে কোন স্তর থেকে হিসাব করার দরকার পড়বে. বারাক ওবামা যেমন তাঁর শপথ গ্রহণের দিনে ২০০৮ সালে জনপ্রিয়তার রেটিং পেয়েছিলেন শতকরা ৮০ থেকে ৮৩ শতাংশ. তিনি এমনকি জন কেনেডির ১৯৬১ সালের রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছিলেন, যা ছিল শতকরা ৭১- ৭৩ শতাংশ. আর আজ “বন্ধু বারাকের” কাজের সমর্থন করছেন মাত্র শতকরা ৪৪, ৫ শতাংশ. প্রসঙ্গতঃ, ওবামার সমস্ত সমস্যার হিসাব করে দেখলে – তা দেউলিয়া হওয়ার কাছে পৌঁছনো, বেকারত্ব, আমেরিকার লোক ও ইউরোপের লোকদের সকলের উপরে আড়িপাতা নিয়ে স্ক্যান্ডাল, - তাতে মোটেও অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই যে, তাও তাঁর রেটিং এখনও সম্পূর্ণ পড়ে যায়নি.

এটাও সত্যি যে, ওবামার বিরুদ্ধবাদীরা আস্থা রাখেন যে, এখনও সমস্তই ভবিষ্যতের কোঠায় রয়েছে. সেনেট সদস্য রাণ্ড পল মনে করেন যে, ওবামার জনপ্রিয়তা দ্রুত কমে যাওয়ার কারণ সেই ব্যাপারে নেই যে, দেশে আর্থিক অবস্থা অসুস্থ ও মূল্য বৃদ্ধি ঘটছে. বরং আরও দুঃখের বিষয় হল যে, তিনি জনগনের কাছে “নৈতিক কর্তৃত্ব” হারাচ্ছেন, তাই রাণ্ড পল বলেছেন:

“আমার মনে হয় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বলে ওঠা বিগত কয়েক মাস ধরে এত গুলো স্ক্যান্ডালের পরে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে এই দেশকে পরিচালনার বিবেক সম্মত অধিকারই হারিয়ে যাচ্ছে. কেউই তাঁর রাষ্ট্রপতিত্বের বিষয়ে আইন সম্মত হওয়ার প্রশ্ন তুলছেন না. কিন্তু দেশ চালানোর জন্য “নৈতিক কর্তৃত্ব” তিনি হারিয়ে ফেলছেন. আর তাঁর এটা নিয়ে কিছু একটা করতেই হবে”.

ওবামা প্রসঙ্গতঃ, এখনও তাঁর পূর্বসুরী জর্জ বুশ জুনিয়রের দুঃখজনক সাফল্যের চেয়ে অনেকটাই দুরে রয়েছেন. শেষোক্ত ব্যক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কম জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি হিসাবেই ইতিহাসে রয়ে গেলেন. গ্যালাপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী তাঁর রাষ্ট্রপতিত্বের সময়ের শেষে জনপ্রিয়তার অভাব পৌঁছেছিল শতকরা ৭১ শতাংশে.

প্রত্যেক দেশেরই নিজেদের প্রিয় ও অপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতিরা রয়েছেন. গ্রেট ব্রিটেনে কম জনপ্রিয় হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন প্রাক্তন লেবার পার্টির প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার. জাপানের লোকরা সবচেয়ে বেশী করে অপছন্দ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান কে, যিনি ২০১১ সালে পদ ছেড়ে সরে গিয়েছেন. আর সবচেয়ে জনপ্রিয় মন্ত্রীসভা প্রধান ছিলেন খুবই চমকপ্রদ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জ্যুনইতিরো কোইদজুমি.

নিজেদের দেশে জনপ্রিয়তা হারানো রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীদের বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাবের উপরে খুব একটা প্রভাব ফেলে না. ওবামা এখনও ফোর্বস জার্নালের মতে বিশ্বের একজন খুবই প্রভাবশালী নেতা রয়ে গিয়েছেন. ৩০শে অক্টোবর প্রকাশিত তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে এই জার্নালে দ্বিতীয় স্থানে. তাঁকে অতিক্রম করেছেন শুধু রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন. আর প্রথম তিন জনের তালিকায় শেষ স্থানে রয়েছেন চিনের নেতা সি জিনপিন.